1 Answers

বিতর ছালাত এক, তিন, পাঁচ, সাত ও নয় রাক‘আত পর্যন্ত পড়া যায়। তিন রাক‘আত বিতর পড়লে এক তাশাহ্হুদে আদায় করতে হবে। দু’রাক‘আত পড়ার পর বসা যাবে না (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১২৫৪)। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বিতর ছালাতকে মাগরিবের ছালাতের মত করে আদায় করতে নিষেধ করেছেন (দারাকুৎনী হা/১৬৩৪-৩৫ সনদ ছহীহ)। অনুরূপ পাঁচ রাক‘আত পড়লেও মধ্যে না বসে এক তাশাহ্হুদে পড়তে হবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১২৫৬)। সাত রাক‘আত পড়লে ছয় রাক‘আতের পর তাশাহ্হুদ পড়ে আবার শেষ রাক‘আত পড়ে দ্বিতীয় তাশাহ্হুদ পড়ে সালাম ফেরাবে (আবুদাঊদ হা/১৩৪২)। নয় রাক‘আত পড়লে আট রাক‘আত পড়ে তাশাহ্হুদ পড়তে হবে এবং শেষের রাক‘আত পড়ে সালাম ফিরাবে (ছহীহ ইবনু মাজাহ হা/১১৯১; ছহীহ নাসাঈ হা/১৭১৯)। উল্লেখ্য, তিন রাক‘আত বিতরের ক্ষেত্রে দু’রাক‘আত পড়ে বসার কোন ছহীহ দলীল নেই। ‘রাতের বিতর দিনের বিতর মাগরিবের ছালাতের মত’ মর্মে যে হাদীছ দারাকুৎনীতে বর্ণিত হয়েছে তা যঈফ। উক্ত বর্ণনাতে ইয়াহইয়া বিন যাকারিয়া কূফী ইবনু আবিল হাওয়াজিব নামে দুর্বল রাবী আছেন (দারাকুৎনী হা/১৬৩৭)। দো‘আয়ে কুনূত রুকূর আগে ও পরে [ মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১২৮৯; ইবনু মাজাহ হা/১১৮৩-৮৪, মিশকাত হা/১২৯৪; মির‘আত ৪/২৮৬-৮৭; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১৪৭; আলবানী, ক্বিয়ামু রামাযান পৃঃ ২৩।] দু’ভাবেই পড়া জায়েয আছে। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻛَﺎﻥَ ﺇِﺫَﺍ ﺃَﺭَﺍﺩَ ﺃَﻥْ ﻳَّﺪْﻋُﻮَ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﺣَﺪٍ ﺃَﻭْ ﻟِﺄَﺣَﺪٍ ﻗَﻨَﺖَ ﺑَﻌْﺪَ ﺍﻟﺮُّﻛُﻮْﻉِ، ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ - ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখন কারো বিরুদ্ধে বা কারো পক্ষে দো‘আ করতেন, তখন রুকূর পরে কুনূত পড়তেন...।[ মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১২৮৮।] ইমাম বায়হাক্বী বলেন, ﺭُﻭَﺍﺓُ ﺍﻟْﻘُﻨُﻮْﺕِ ﺑَﻌْﺪَ ﺍﻟﺮُّﻛُﻮْﻉِ ﺃَﻛْﺜَﺮُ ﻭَﺃَﺣْﻔَﻆُ ﻭَﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺩَﺭَﺝَ ﺍﻟْﺨُﻠَﻔَﺎﺀُ ﺍﻟﺮَّﺍﺷِﺪُﻭْﻥَ- ‘রুকূর পরে কুনূতের রাবীগণ সংখ্যায় অধিক ও অধিকতর স্মৃতিসম্পন্ন এবং এর উপরেই খুলাফায়ে রাশেদ্বীন আমল করেছেন’। [ বায়হাক্বী ২/২০৮; তুহফাতুল আহওয়াযী (কায়রো : ১৪০৭/১৯৮৭) হা/৪৬৩-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য, ২/৫৬৬ পৃঃ।] হযরত ওমর, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ, আনাস, আবু হুরায়রা (রাঃ) প্রমুখ ছাহাবী থেকে বিতরের কুনূতে বুক বরাবর হাত উঠিয়ে দো‘আ করা প্রমাণিত আছে।[ বায়হাক্বী ২/২১১-১২; মির‘আত ৪/৩০০; তুহফা ২/৫৬৭।] কুনূত পড়ার জন্য রুকূর পূর্বে তাকবীরে তাহরীমার ন্যায় দু’হাত উঠানো ও পুনরায় বাঁধার প্রচলিত প্রথার কোন বিশুদ্ধ দলীল নেই।[ ইরওয়াউল গালীল হা/৪২৭; মির‘আত ৪/২৯৯, ‘কুনূত’ অনুচ্ছেদ-৩৬।] ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলকে জিজ্ঞেস করা হ’ল যে, বিতরের কুনূত রুকূর পরে হবে, না পূর্বে হবে এবং এই সময় দো‘আ করার জন্য হাত উঠানো যাবে কি-না। তিনি বললেন, বিতরের কুনূত হবে রুকূর পরে এবং এই সময় হাত উঠিয়ে দো‘আ করবে।[ তুহফা ২/৫৬৬; মাসায়েলে ইমাম আহমাদ, মাসআলা নং ৪১৭-২১।] ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ) বলেন, বিতরের কুনূতের সময় দু’হাতের তালু আসমানের দিকে বুক বরাবর উঁচু থাকবে। ইমাম ত্বাহাবী ও ইমাম কার্খীও এটাকে পসন্দ করেছেন।[ মির‘আত ৪/৩০০ পৃঃ।] এই সময় মুক্তাদীগণ ‘আমীন’ ‘আমীন’ বলবেন।[ মির‘আত ৪/৩০৭; ছিফাত ১৫৯ পৃঃ; আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১২৯০।]

2639 views

Related Questions