1 Answers

উক্ত স্বর্ণ ও রৌপ্যের যাকাত দিতে হবেনা। কারো কাছে যদি ৭.৫ ভরি বা তার থেকে বেশি পরিমান স্বর্ণ অথবা ৫২.৫ ভরি বা তার থেকে বেশি পরিমান রূপা পূর্ণ এক চন্দ্র বছর জমা থাকে, তাহলে তাকে সেটার মোট মূল্যের ৪০ ভাগের ১ ভাগ বা, শতকরা ২.৫ টাকা (প্রতি ১০০ টাকায় ২.৫ টাকা) হারে যাকাত দিতে হবে। স্বর্ণের নিসাবঃ এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, বিশ দ্বীনারের কম স্বর্ণে যাকাত ফরয নয়। যদি কোন ব্যক্তির নিকট ২০ দ্বীনার পরিমাণ স্বর্ণ এক বছর যাবৎ থাকে তবে এর জন্য অর্ধ দ্বীনার যাকাত দিতে হবে। এরপরে যা বৃদ্ধি পাবে তার হিসাব ঐভাবেই হবে। উল্লেখ্য যে, হাদীসে বর্ণিত ১ দ্বীনার সমান ৪.২৫ গ্রাম স্বর্ণ। অতএব ২০ দ্বীনার সমান ২০ × ৪.২৫ = ৮৫ গ্রাম স্বর্ণ। ১ ভরি সমান ১১.৬৬ গ্রাম হলে, ৮৫ ÷১১.৬৬ = ৭.২৯ ভরি বা ৭ ভরী ৫ আনা ৫ রতী স্বর্ণ। অর্থাৎ কারো নিকটে উল্লিখিত পরিমাণ স্বর্ণ এক বছর যাবৎ থাকলে তার উপর উক্ত স্বর্ণের বর্তমান বিক্রয় মূল্যের হিসাবে মোট সম্পদের ২.৫০% যাকাত দেওয়া ফরয। রৌপ্যের নিসাবঃ রৌপ্যের নিসাব উল্লেখ করে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণ রৌপ্যে যাকাত নেই। উল্লেখ্য, ১ উকিয়া সমান ৪০ দিরহাম। অতএব ৫ উকিয়া সমান ৪০×৫=২০০ দিরহাম। অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা প্রতি ৪০ দিরহামে ১ দিরহাম যাকাত আদায় করবে। ২০০ দিরহাম পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের প্রতি কিছুই ফরয নয়। ২০০ দিরহাম পূর্ণ হলে এর যাকাত হবে পাঁচ দিরহাম এবং এর অতিরিক্ত হলে তার যাকাত উপরোক্ত হিসাব অনুযায়ী প্রদান করতে হবে। ২০০ দিরহাম সমান ৫৯৫ গ্রাম রৌপ্য। ১ ভরি সমান ১১.৬৬ গ্রাম হলে ৫৯৫ গ্রাম সমান ৫৯৫ ÷ ১১.৬৬ = ৫১.০২ ভরি রৌপ্য হয়। উক্ত পরিমাণ রৌপ্য কারো নিকটে এক বছর যাবৎ থাকলে তার উপর বর্তমান বিক্রয় মূল্যের হিসাবে মোট সম্পদের ২.৫০% যাকাত আদায় করা ফরয। রেফারেন্সঃ আবূ দাউদঃ ১৫৭২, ১৫৭৩, বুখারীঃ ১৪৮৪, মুসলিমঃ ৯৭৯, মিশকাতঃ ১৭৯৪। সনদ ছহীহ।

2860 views

Related Questions