2 Answers
রাষ্ট্রবিজ্ঞান যেহেতু স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয় না, তাই কেউ কেউ মনে করেন, ওটা তো আর স্কুল সাবজেক্ট নয়। তাই স্কুলে পড়ানো যদি জীবনের লক্ষ্য হয়, তাহলে তাঁর এই বিষয়ে নিয়ে পড়া উচিত নয়। কিন্তু স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর ক্ষেত্রে যদি কেউ শুধু রাষ্ট্রবিজ্ঞান চর্চা করতে পারেন, জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া তার আটকাবে না।
এখন দেখে নেওয়া যাক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান যদি কারও বিষয় হয়, তাহলে কেরিয়ারে কী কী অপশন খোলা রয়েছে?
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো: প্রথমত, অ্যাকাডেমিক লাইন তো খোলা আছেই। স্নাতকোত্তর স্তরে ৫৫ শতাংশ নম্বর এবং নেট/সেট পাশ করলে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। কেউ যদি না পড়িয়ে শুধুমাত্র গবেষণা করতে চায়, তবে তার সুযোগও ক্রমবর্ধমান। এমনিতেই ইউ জি সি-র ফেলোশিপ নিয়ে যে-কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা শুরু করা সম্ভব। গবেষণার বিষয় নানাবিধ হতে পারে।
সাধারণ ভাবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে রাজনৈতিক দর্শন, তুলনামূলক রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এই তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হলেও, জনসাধারণ, সমাজতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব প্রভৃতি নানাবিধ ক্ষেত্রে তার শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত। এ ছাড়াও মানবাধিকার, লিঙ্গবৈষম্য বা সেফোলজি-র মতো আকর্ষণীয় বিষয় চর্চার মাধ্যমে গবেষকদের চিন্তা ও কাজের পরিধি ক্রমশ বিস্তৃত হতে পারে। সাধারণত একটি গবেষণা আরও পাঁচটির সুযোগ ও পরিধিকে বিস্তৃত করে, নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়, কাজের সুযোগও বাড়ে।
মিডিয়ায় কাজের সুযোগ: নির্বাচন প্রক্রিয়ার কোনও একটি পর্যায় নিয়ে কেউ সাধারণ নির্বাচকমণ্ডলীর একটি অংশের প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে গবেষণা করতে চান। জানতে চান সাধারণের আচরণগত বৈশিষ্ট্য। সে ক্ষেত্রে নিজ গবেষণার পরিধি বাড়ালে অচিরেই তিনি এক জন ভোট-বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠতে পারেন। এখন মিডিয়া প্রতিযোগিতার কালে তাঁর চাহিদা তখন বাড়তে পারে। এর জন্য গবেষককে অবশ্যই নিয়মিত লেখালেখি চালিয়ে যেতে হবে, নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। কিন্তু এক বার প্রতিষ্ঠিত হলে তাঁর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না।
অবশ্যই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পড়ুয়ারা সাংবাদিকতায় এলে সাফল্য পান। সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমে প্রতিদিন আমরা যে খবরগুলিকে প্রধান হয়ে উঠতে দেখি বা যেগুলি নিয়ে নিয়মিত চর্চা-বিশ্লেষণ বা সম্পাদকীয় রচনা চলে, তার অধিকাংশই রাজনৈতিক। সে ক্ষেত্রে কেউ যদি স্নাতকস্তর পর্যন্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ করে তার পর সাংবাদিকতায় মনোনিবেশ করেন, তবে তাঁর সাফল্য সুনিশ্চিত।
আইনের পথ খোলা: রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পড়ুয়ারা আইন ব্যবসাতেও অত্যন্ত সফল হন। সারা বিশ্বে লব্ধপ্রতিষ্ঠ যত জন আইনজ্ঞ রয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা অর্থনীতির পড়ুয়া। এখন উচ্চ মাধ্যমিকের পর সরাসরি আইন নিয়ে পড়া যায়। কিন্তু কেউ যদি স্নাতকস্তর পর্যন্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ নিয়ে তার পর আইন পাঠ করেন, তবে আরও দ্রুত বিষয়ে প্রবেশ সম্ভব।
রয়েছে NGO তে কাজএর সুযোগ: ছাড়াও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পড়ুয়ারা বিভিন্ন এনজিও সংগঠনে কাজ পেতে পারেন। বিশেষত কেউ যদি সোশ্যাল ওয়ার্ক বা মাস কমিউনিকেশনের একটা পর্যায় পর্যন্ত পেশাদারি শিক্ষা লাভ করেন তো কথাই নেই। প্রকৃত সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে স্বাধীন গবেষণাকেন্দ্রও গড়ে তোলা সম্ভব। উচ্চশিক্ষায় গবেষণামূলক কাজে যত বেশি বেসরকারি ক্ষেত্রের প্রসার ঘটবে, ততই গবেষকের স্বাধীনতা ও সৃষ্টিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
প্রশাসনিক স্তরে চাকরির সুযোগ: রাজ্য বা সর্বভারতীয় (পি এস সি বা ইউ পি এস সি) প্রশাসনিক পরীক্ষা তো আছেই। এগুলিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পড়ুয়ারা সর্বদাই এগিয়ে থাকেন।
পড়াশুনা নিজের ব্যাপার। ভালভাবে পড়াশুনা করলে যে কোন বিষয় নিয়েই ভাল কিছু করা যায়।মনে রাখবেন আপনার ভিতরে সত্যকারের প্রতিভা থাকলে সেটা একদিন প্রকাশ পাবেই। আর সার্টিফিকেট এর পাশাপাশি প্রকৃত আদর্শ ধরে রাখা অবশ্যই কর্তব্য। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিঃসন্দেহে ভাল বিষয়।মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং নিজের নৈতিকতা ধরে রাখুন।ভবিষ্যৎকালে ভাল রাজনীতিবিদ হতে পারবেন।দেশ ও জাতির উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরাসরি ভূমিকা পালন করতে পারবেন।আশা করি অবশ্যই কামিয়াবি হবেন ইনশাআল্লাহ্ ।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy