আমার বয়স মাত্র ২২। চুলে পাক ধরছে। এর সমাধান কি?
2 Answers
চুল পাকাঃ
বয়স বাড়লে চুল সাদা হবে, এটা স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় তাদের চুল তরুণ কিংবা যুবক বয়সেই ‘পেকে’ যায়। চুলের এই দ্রুত ‘পাক’ ধরার কারণ স্বাস্থ্যগত।
মেইল অনলাইনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে অপরিণত বয়সে চুল পেকে যাওয়ার কারণ। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও নানাবিধ অশান্তির কারণে মানুষের চুল পেকে যেতে পারে। শরীরের অতিরিক্ত অ্যাড্রেনালিন হরমোন এ জন্য দায়ী। অ্যাড্রেনালিন হচ্ছে বৃক্কীয় গ্রন্থি-নিঃসৃত এক ধরনের হরমোন। সাধারণত মানুষ ভীত বা রাগান্বিত হলে অ্যাড্রেনালিন হরমোন মানুষকে শান্ত ও স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। তবে অত্যধিক মানসিক চাপ বা অশান্তির সময় এ হরমোনের কারণে মানুষের চুলের রং পরিবর্তিত হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা অ্যাড্রেনালিন হরমোন কীভাবে মানুষের শরীরে ব্যাপক ক্ষতি করে তা বের করতে কাজ করছেন। আশা করা হচ্ছে, গবেষকেরা শিগগিরই এ ব্যাপারে আমাদের আশার বাণী শোনাতে পারবেন। বের করতে পারবেন কীভাবে অ্যাড্রেনালিন হরমোনের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে মানুষের নিজেকে রক্ষা করার উপায়। তখন হয়তো, মানুষের চুলও বুড়ো হওয়ার আগেই আর পেকে যাবে না
চুল পড়াঃ
০১. প্রোটিনঃ
পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন – আমাদের চুল মূলত কেরাটিন দিয়ে গঠিত। এটি অ্যামিনো এসিড দিয়ে তৈরি এক ধরণের প্রোটিন। তাই নতুন চুল গজানোর জন্যে অবশ্যই আপনার শরীরকে পর্যাপ্ত অ্যামিনো এসিড সরবরাহ করতে হবে। মাছ, মাংস, পনির, দুধ, ডিম – আপনার খাদ্য তালিকায় প্রতিদিনই এগুলোর অন্তত একটি রাখার চেষ্টা করুন। সয়াবিন, মটরশুঁটি, কলা, বাদাম ইত্যাদি থেকেও পেতে পারেন। তবে নন-ভেজিটেরিয়ান খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।
০২. আয়রন আর জিঙ্কঃ
আয়রন আর জিঙ্ক আপনার মাথার কোষে অক্সিজেন পরিবহন করে নিতে সহায়তা করবে আর নতুন টিস্যু তৈরিতে এবং ক্ষয়রোধে সহায়তা করবে। পরিমিত পরিমাণে আয়রন আর জিঙ্ক নতুন এবং দ্রুত চুল গজানোর জন্যে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মটরশুঁটি, বাদাম, কলিজা, মাংস, দুধে আপনার প্রয়োজনীয় জিংক আর আয়রন বিদ্যমান।
০৩. ভিটামিন সিঃ
পেয়ারা, লেবু, কমলা, আনারস, কামরাঙা, কাঁচা মরিচে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। আপনার চুলের বৃদ্ধি এবং গজানোর জন্য সহায়ক।
০৪. কালোজিরাঃ
কালোজিরা নতুন চুল গজানোর জন্যে সহায়ক। মাথায় কালোজিরার তেল ব্যবহার করা আর খাবারে কালোজিরা ব্যবহার খুব ভালো ফল দেয়।
কম বয়সে চুল পাকার কারণ ও প্রতিকার: যদিও বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই বলা হয়ে থাকে যে বংশগত কারণই প্রধান, আসলে এর অনেক ধরণের কারণ আছে। অনেক কিছুর ঘাটতির কারণে এমন হতে পারে এবং বেশীর ক্ষেত্রে এ কারণেই তা হয়ে থাকে। রাতারাতি চুল পেকে যায় না। এটি একটি ধীর প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যাতে বেশ সময় লাগে। সুতরাং ভয় পাবেন না, যত তাড়াতাড়ি আপনি এটা উপলদ্ধি করতে পারবেন, তত তাড়াতাড়ি আপনি এর উপর আপনার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। এখানে চুল ধূসর বা পেকে যাওয়ার কয়েকটি কারণ বর্ণিত হলঃ · বংশগত কারণ, এটি পাকা চুলের জন্য একটি বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। · দেহে এবং চুলে ভিটামিন B এর ঘাটতি। · কেমিক্যালের প্রভাব, যা পরিবেশগত কারণে অথবা শ্যাম্পু বা কন্ডিশনারের কারণে হতে পারে। · ধূমপানের কারণে চামড়া এবং চুল সমস্যা কবলিত হতে পারে। · মাদকাসক্তি দুর্বলতা বা শরীরে প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতির কারণ হতে পারে। · থাইরয়েডের সমস্যাও একটি কারণ হতে পারে। · কোন আকস্মিক ঘটনা বা দুর্ঘটনার প্রভাবে এমনটি হতে পারে। আজকাল অনেক মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব এমনকি সাধারণ মানুষও ধূসর চুলের অধিকারী হতে পছন্দ করে থাকেন। তারা এটা মনে করেন যে প্রাকৃতিক রং হল সবচেয়ে ভাল এবং তাদের রূপালী বর্ণের ঢেউ খেলানো চুলই বেশ সুন্দর। মহিলারা যেমনটি করেন পুরুষরা চুলের রং নিয়ে সাধারণত ততটা চিন্তিত হন না, যদিও বর্তমানে অনেক মহিলা রূপালী চুলের স্টাইল পছন্দ করে থাকেন। এমন ভাবে চুল কাটুন যা আপনার চেহারার সাথে মানানসই হবে। চুলকে সুন্দর রাখতে এর পরিচর্যা করুন। আপনার চুল এখন আপনার ব্যাক্তিত্বের একটি অংশ। অনেক মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব এবং অবসরে যাওয়া ক্রীড়াবিদরা তাদের দেহে বার্ধক্যের চিহ্ন দেখা যাওয়াতে লজ্জা বোধ করেন না। কিন্তু তারাও তাদের চুল ভাল ভাবে পরিচর্যা করে থাকেন। ভাল একটি সেলুনে আপনার চুলের পরিচর্যা করুন। আপনার পোশাক-আসাক এবং মেকাপের জন্য যেমন সময় দেন তেমনি চুলের জন্যও একটু সময় দিন। ধূসর চুলের মোকাবেলায় খাদ্যতালিকাঃ অবশ্যই শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতি সাধারণ অবস্থার চেয়ে চুল ধূসর হওয়াকে ত্বরান্বিত করে। এ ব্যাপারটি যারা অল্প বয়সে চুল পাকা সমস্যায় আক্রান্ত তাদের সকলের জন্যই সমান ভাবে প্রযোজ্য। এটা জানা গেছে যে চুল পেকে যাওয়া প্রতিহত করা যায়, অন্তত এর প্রক্রিয়া ধীর করা যায় যদি আমরা সঠিক পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে পারি। সুতরাং এটা মনে রাখতে হবে যে; প্রতিটি সাধারণ মুদি দোকানে প্রাপ্ত কিছু সামগ্রীই আপনার চুলকে সঠিক রাখতে সাহায্য করতে পারে। এসকল খাবার আপনাকে এটার নিশ্চয়তা দেবে যে আপনি আর চুল হারানো সমস্যার সম্মুখীন হবেন না এবং যেগুলি এখনো কালো রয়েছে সেগুলিও ভাল থাকবে। এ সকল খাবারের মধ্যে আছেঃ তাজা সবুজ শাক-সব্জিঃ হ্যাঁ তাজা সবুজ শাক-সবজি আপনার চুলের জন্য সঠিক প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ হয়ে থাকে। আপনার শাক-সবজি সমূহ রান্নার সময় সেদ্ধ করে নিন, ভাজবেন না, কারণ ভাজলে এর পুষ্টি উপাদান কমে যায়। সকল শাক-সবজি কেবল আপনার চুলকেই ভাল রাখবে না, বরং তা আপনার ত্বক এবং হৃদপিণ্ডকেও সুস্থ্য এবং সতেজ রাখবে। চকোলেটঃ হ্যাঁ! চকোলেটে কপার আছে যা আপনার চুলের মেলানিন উৎপাদন প্রক্রিয়াতে সহায়তা করে। এ উপাদানটি চুলের আসল রং বজায় রাখে। সুতরাং আপনি নিয়মিত ভাবে অর্ধেক থেকে একচতুর্থাংশ পরিমাণে চকোলেট বার খেতে পারেন। কিন্তু অবশ্যই খুব বেশী পরিমাণে খাবেন না। চকোলেটের যেমন উপকারিতা আছে তেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। জাম জাতীয় ফল (berries)ঃ তাজা জাম জাতীয় ফল যেমন, স্ট্রবেরী যা ভিটামিন C তে ভরপুর, খেতে পারেন। এগুলি চুলকে সুস্থ্য রাখে এবং সাধারণ ভাবে দৃশ্যমান বয়সের সকল চিহ্নকে কমিয়ে দেয়। সুতরাং একটি ঝুড়ি নিয়ে জাম কুড়াতে লেগে যান। সকল জাম জাতীয় ফলই পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ। কাঠ বাদাম (almonds)ঃ সকল স্থানে কিনতে পাওয়া যাওয়া এ খাদ্যটি সঠিক ভাবে খেতে ভুলবেন না। এর মানে হল, চিবান, পিষে ফেলুন যতক্ষণ পর্যন্ত না এগুলি পেস্টে পরিনত হয়, তার পর গিলে ফেলুন। এগুলি যেকোনো রূপে এবং যেকোনো সময় খাওয়া যেতে পারে। চুল পাকার চিকিৎসাঃ সকল সমস্যারই সমাধান আছে। নিম্ন বর্ণিত উপায়ে চুলকে বাঁচাতে এবং পেকে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারেনঃ · ভারতীয় gooseberry বা আমলকী দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নিয়ম হল আমলকী সারারাত ভিজিয়ে রাখুন এবং এ মিশ্রণটি পরের দিন মাথার ত্বকে মাখুন। ভাল ভাবে ম্যাসেজ করুন যাতে এটির পুষ্টি উপাদান মাথার ত্বকে শোষিত হতে পারে। · মাথার ত্বকে পেয়াজের রস মাখুন। ৩০ মিনিট এটি মাথার ত্বকে মেখে রাখুন এবং এরপর মাথার চুল ভাল করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। খেয়াল করে সপ্তাহে দুই দিন এটি নিয়মিত মাথায় মাখুন এবং ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। · প্রতিদিন এক গ্লাস গাজরের রস পান করলে তা চুলকে ধূসর হওয়া বা পেকে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। তবে এটি নিয়মিত চালিয়ে যেতে হবে। চিনি বিহীন এক কাপ শুধু চা নিন এবং এতে এক চামচ লবন মিশিয়ে তা মাথার ত্বকে মাখুন। এটিও মাথার চুলকে তার আসল বর্ণ ধরে রাখতে সাহায্য করবে।