রোজা থাকার উপকারিতাগুলো কি কি?

★পয়েন্ট আকারে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করুন যাতে সবাই বিষয়টা বুঝতে, জানতে ও উপলব্ধি করতে পারে।

3029 views

3 Answers

রোজা রাখা শুধু ধর্মীয় অনুভূতির জন্য নয়, স্বাস্থ্য রক্ষাতেও কার্যকরী৷ উচ্চ রক্তচাপ কমাতে বা শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করতে ভূমিকা রাখে রোজা। এর উপকারিতা সম্পর্কে জার্মানিতে একটি সমীক্ষার ফলাফলে জানা গেছে, শতকরা ৫৫ জন জার্মান একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত না খাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। একটি অ্যামেরিকান গবেষণা থেকে জানা যায়, রোজা রাখলে তা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। দূষিত পদার্থ বের করে দেয় ফাস্টফুড, সাদা রুটি, পিৎসা জাতীয় তৈরি খাবার শরীরের ভেতরে ঢুকে ‘টক্সিন’ বা দূষিত পদার্থে রূপান্তরিত হয়৷ এগুলো শরীর থেকে বের হওয়া জরুরি৷ আর সে ক্ষেত্রেই কাজে আসে উপোস করা৷ সারাদিন না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে জমে থাকা ফ্যাট এবং দূষিত ও ক্ষতিকারক পদার্থগুলো বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে বের হয়ে যায়৷ তাছাড়া রোজা রাখলে অনেকটা সময় না খাওয়ার ফলে পাকস্থলীর অ্যাসিড নিঃসরণও কিছুটা কমে, ফলে গ্যাসট্রিকের ব্যাথাও কম হয়। ডায়বেটিস প্রতিরোধে সহায়ক সারাদিন না খেয়ে থাকার কারণে শরীরের ‘গ্লুকোজ’ বা শর্করা জাতীয় খাবারের দ্রুত ক্ষয় হয় এবং তা দেহের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায়৷ এর ফলেই ‘ইনসুলিন’-এর উৎপাদন কমে যায় এবং তা প্যানক্রিয়াসকে খানিকটা বিশ্রাম দেয়৷ গ্লুকোজ ক্ষয়ের ফলে শরীরে ‘গ্লাইক্লোজেন’ তৈরি হয় এবং ‘ব্লাডসুগার’ কমে ডায়বেটিস প্রতিরোধে সহায়ক হয়। রক্তচাপ হ্রাস করে না খেয়ে থাকা অবস্থায় শরীরে গ্লুকোজ ও চর্বিকণাগুলোর ক্ষয় হয়ে শক্তি উৎপাদন হয় এবং ‘মেটাবলিক রেট’ কমে৷ তাছাড়া অন্যান্য হরমোনের মতো ‘স্ট্রেস হরমোন’-ও কমে, ফলে রক্তচাপও কমতে পারে৷ এছাড়াও রোজার মাসে ধূমপান কম করা হয়৷ তাই এটা ধূমপান একেবারের মতো ছেড়ে দেবারও একটা পরীক্ষা হতে পারে বলে মনে করেন অনেকে৷ সারাদিন রোজা রাখলে শরীরে ‘কোলেস্টোরল’-এর পরিমাণও কিছুটা কমে, ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে। ওজন কমে রোজা বা সংযমের মাসে সারাদিন না খাওয়াতে পাকস্থলী কিছুটা ছোট হয় তাই ওজন কমানো হয় সহজ৷ এই অভ্যাস রোজার পরে অব্যাহত রাখলে ওজন নিয়ে আর কোনো চিন্তাই থাকে না৷ অনেক জার্মান কোনো উৎসব বা উপলক্ষ্যে বেশি খাওয়া-দাওয়ার পর অথবা বছরে এক বা দু’বার নিয়ম করে কয়েকদিন উপোস করেন৷ এই উপোসের সময় খাবারের তালিকায় থাকে সেদ্ধ শাক-সবজি, সবজির স্যুপ, গ্রিন টি, অর্থাৎ প্রচুর পানি জাতীয় খাবার৷ যা শরীরকে হালকা ও পরিষ্কার করে। রোজার পরেও সুন্দর ও ফিট থাকুন রোজা যেহেতু এখন গরমের সময় হচ্ছে, তাই বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে শরীরে পানিশূন্যতা না হয়৷ তাই ইফতারের সময় ভাজা, পোড়া কম খেয়ে বিভিন্ন মৌসুমি ফল, ডাবের পানি ও তরমুজ খাওয়া স্রেয়৷ তরমুজ হার্ট, ধমনী, কিডনির জন্য খুব উপকারী৷ তাছাড়া আম, কাঁঠাল, আনারস, বাঙ্গি থাকতে পারে ইফতারের টেবিলে৷ এগুলোতে রয়েছে ভিটামিন এ আর সি, যা ‘অ্যান্টি অক্সিডেন্ট’ হিসেবে কাজ করে এবং রোজার পরেও ত্বক সুন্দর ও আকর্ষণীয় রাখে।

3029 views Answered

1)√ওজন কমাতে সাহায্য করে :

রোজায় না খেয়ে থাকা ওজন কমাতে সাহায্য করে। নির্দিষ্ট একটি সময় পর পর শরীর তার প্রয়োজনীয় খাবার পেয়ে থাকে এই সময়। কিন্তু সারা দিন আপনাকে করতে হয় নানা কাজ। আর এই কাজের কারণেই শরীরের বাড়তি মেদ ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করে। যা আপনাকে ওজন কমিয়ে সৌন্দর্য্য এবং সুস্থাতা দুটোই প্রদান করে।

2)ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য উপকারী রোজা : 

অনেক চেষ্টা করেও অনেক ডায়াবেটিক রোগী তাদের ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন না। কিন্তু এই রোজা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য উপকারী বার্তা স্বরূপ। কারণ একটি গবেষণায় দেখা গেছে রোজা রাখার কারণে ইনসুলিন দ্রুত কাজ করছে। যার ফলে আপনার ডায়াবেটিক থাকছে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং আপনাকে প্রদান করছে একটি সুস্থ জীবন।

3)হজম শক্তি বৃদ্ধি করে রোজা :

রোজা আপনার পাচকতন্ত্রকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশ্রাম প্রদান করে, যা পরে দ্রুত আরো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। যদি আপনার হজম করার ক্ষমতা কম হয়ে থাকে তাহলে পাচকতন্ত্রের এই বিরতি তাকে আরো কার্যকর করে তুলে। পাচকতন্ত্র দ্রুত কাজ করে এবং আপনাকে সুস্থতা প্রদান করে। 

4)রোজা আপনার খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে :

সাধারণ দিনগুলোতে ব্যস্ততার জন্য ঠিক মতো খাবার খাওয়া হয়ে ওঠেনা। এতে গ্যস্ট্রিক, আলসার থেকে শুরু করে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় আপনাকে। কিন্তু রোজায় আপনাকে খেতে হয় একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর এবং তা সুনির্দিষ্ট। তাই আপনার শরীর পেয়ে থাকে সঠিক মাত্রায় প্রোটিন। ভিটামিন, মিনারেল থেকে শুরু করে সব কিছু পরিমাণ মতো। এই খাদ্যভ্যাসের পরিবর্তনের জন্য শরীর পেয়ে থাকে একটি সুস্থতা।

5)ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে রোজা :

একটি নির্দিষ্ট রুটিনের খাওয়া-দাওয়া আপনার শরীরের অনান্য অঙ্গের মতো ত্বকের ও যত্ন নিয়ে থাকে। এটি ত্বকে ব্রণ বা এলার্জি জাতীয় সমস্যাগুলো কমিয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

3029 views Answered

অনেকের মতে রোজায় সারাদিন

না খেয়ে থাকার ফলে স্বাস্থ্যের

ক্ষতি হয়। কিন্তু স্বাস্থ্যবিজ্ঞান

মতে আমাদের অজান্তেই রোজা

রাখার মাধ্যমে স্বাস্থ্যের বিভিন্ন

ধরনের উন্নতি হয়ে থাকে। এমনকি

অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্যও রোজা রাখা

উপকারী। তবে রোজা রাখার

কারণে যদি কোনো রোগ বৃদ্ধি পায়

অথবা রোগী বেশ কষ্ট পায় তবে এ

বিষয়ে মুফতিদের সাথে আলোচনা

করে নেয়াই ভালো। রোগীদের সুস্থ

না হওয়া পর্যন্ত রোজা না রাখার

অনুমতি ইসলামে রয়েছে। আসুন

জেনে নিই রোজা রাখার ফলে

আমাদের স্বাস্থ্যের কোন কোন

উপকার সাধন হয়।

ধূমপানকারীদের জন্যঃ

ধূমপান করা মানেই বিষপান করা। 

এ কথা আধুনিক যুগে কে না জানে।

স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের এ আবিষ্কারের

বহু আগেই ইসলাম ধূমপান নিষিদ্ধ

করেছিল। ধূমপানের ফলে ফুসফুসের

ওপর নিকোটিনের দাগ পড়তে পড়তে

এক সময় ধূমপায়ী ক্যান্সারে আক্রান্ত

হয়ে পড়ে। রমজানের রোজার ফলে

ধূমপান থেকে বিরত তাকার কারণে

ফুসফুস দীর্ঘসময় পর্যন্ত নিকোটিনের

বিষক্রিয়া মুক্ত থাকে। ফলে ফুসফুস

রোগমুক্ত থাকে এবং স্বাভাবিক

প্রক্রিয়ায় ফিরে আসে। যারা

ধূমপান করেন রমজানের রোজা

তাদের জন্য অবশ্যই উপকারী। ধূমপান

বর্জনেরও এটা উত্তম সময়।

স্থূলকায় রোগীদের জন্যঃ

অতিরিক্ত আহার বর্তমানে অন্যতম

স্বাস্থ্য সমস্যা। তাই ইসলামে

হালকা ভোজনই কাম্য। বেশি বেশি

খাদ্য গ্রহণের ফলে দেহে চর্বি জমে

অনেকে বেশ স্থূল বা অস্বাভাবিক

মোটা হয়ে যায়। যা স্বাভাবিক

জীবনযাপনের জন্য অত্যন্ত

যন্ত্রণাদায়ক, বিব্রতকর ও কষ্টকর। এ

চর্বি শরীরের চামড়ার নিচে

কলেস্টেরল আকারে শিরা-

উপশিরা-ধমনীতে এমনকি হৃৎপিণ্ডেও

জমা হয়। যার ফলে শরীরে

স্বাভাবিক রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত

সৃষ্টি হয়। কিন্তু রোজা রাখার

কারণে স্থূলকায় রোগীর শরীরে

জমে থাকা এসব কোলেস্টেরল

শরীরের কাজে ব্যয়িত হয়ে যায়

এবং স্বাভাবিক হয় রক্তের

সার্কুলেশন। তবে এ জাতীয়

রোগীরা ইফতার ও সেহরিতে

ভূরিভোজন না করে অবশ্যই হালকা

খাবার খেতে হবে।

আলসার বা পেটের পীড়ার

রোগীদের জন্যঃ

দেখা যায়, পেপটিক আলসারের

রোগীরা রোজা রাখলেই ভালো

বোধ করেন। কারো কারো ক্ষেত্রে

সমস্যা হতে পারে। তবে তাদের জন্য

রোজার বিষয়টি অনুশীলনের ওপর

নির্ভর করে। আলসার বা এ জাতীয়

সমস্যায় সাধারণত দৈনিক দু’বারের

বেশি ওষুধ সেবন করতে হয় না। যার

জন্য রোজা রাখতে কোনো সমস্যা

থাকার কথা নয়।

ডায়াবেটিক রোগীদের জন্যঃ

যেসব মানুষ ডায়াবেটিস রোগে

ভুগছেন বা ডায়াবেটিস

নিয়ন্ত্রণের জন্য মুখে ওষুধ গ্রহণ করছেন,

খাদ্য তালিকা মেনে চলছেন এবং

ওজন কমাতে চাচ্ছেন তাদের জন্য

রোজা খুবই উপকারী। বিশেষভাবে

খেয়াল রাখতে হবে যাতে হাইপো

গ্লাইসেমিয়া হয়ে না যায়। যারা

দু’বেলা ইনসুলিন নিচ্ছেন তাদের

জন্য তো কথাই নেই বরং যারা

দু’বেলার অধিক ইনসুলিন নেয়,

তাদেরও চিকিৎসকের পরামর্শ

মোতাবেক ডোজ অ্যাডজাস্ট করে

রোজা রাখতে অসুবিধা হওয়ার কথা

নয়।

হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও হাঁপানি

রোগীদের জন্যঃ

হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও হাঁপানি

রোগীদের জন্য রোজা উপকারী।

রোজার ফলে রক্তের ক্ষতিকর

কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়।

ফলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে। তা

ছাড়া রোজা রাখার কারণে

স্ট্রেস হরমোন করটিসেলের নিঃসরণ

কমে। এতে বিপাকক্রিয়া ও রোগ

প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। রোজার

ফলে মস্তিষ্কের সেরিবেলাম ও

লিমরিক সিস্টেমের ওপর নিয়ন্ত্রণ

বাড়ে বিধায় মনের অশান্তি ও

দুশ্চিন্তা দূর হয়, কর্মোদ্দীপনাও

বাড়ে, যা উচ্চ রক্তচাপের জন্য

মঙ্গলজনক। অধিকাংশ হাঁপানি

রোগীর ক্ষেত্রেই রোজা উপকারী।

অ্যালার্জি, সর্দি-কাশির

রোগীদের জন্যঃ

অ্যালার্জি, সর্দি-কাশির

রোগীদের রোগের উসিলা দিয়ে

অযথা নিজ সিদ্ধান্তে রোজা না

রাখার কোনো ভিত্তি নেই। এসব

রোগে ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিক,

এন্টিহিস্টোমিন কিংবা স্টেরয়েড

স্প্রে দিনে দু’বার বা একবার খেলে

বা ব্যবহার করলেই চলে। তবে

খানাখাদ্যের বিষয়ে সচেতন

থাকতে হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য রোগীদের জন্যঃ

রোজার সময় যেহেতু দীর্ঘক্ষণ না

খেয়ে থাকতে হয়, তাই কারো

কারো পানি স্বল্পতা হতে পারে।

যা কোষ্ঠকাঠিন্য রোগীদের জন্য

সমস্যার ব্যাপার। তারা ইফতার ও

সেহরিতে প্রচুর পরিমাণ পানি,

ডাবের পানি, ফলের রস, সরবত,

শাকসবজি, সালাদ, ইসবগুলের ভুসি

খেলে আরাম করে রোজা রাখতে

সমস্যা হবে না। গরু বা খাসির

গোশত, ইলিশ ও চিংড়ি মাছ এবং

যেসব খাবার খেলে মল শক্ত হয়ে

যায় তা না খাওয়াই ভালো।

রোজার বিষয়ে স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী

ডা. শেলটন বলেছেন, উপবাসকালে

শরীরের মধ্যকার প্রোটিন, ফ্যাট,

শর্করা জাতীয় পদার্থগুলো স্বয়ং

পাচিত হয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কোষগুলোর

পুষ্টি বিধান হয়। এই পদ্ধতিকে

‘অ্যাস্টোলিসিস’ বলা হয়। (সুপিরিয়র

নিউট্রিশন গ্রন্থ)।

স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী ডা. আব্রাহাম

জে হেনরি রোজা সম্পর্কে

বলেছেন, রোজা হলো পরমহিতৈষী

ওষুধ বিশেষ। কারণ রোজা পালনের

ফলে বাতরোগ, বহুমূত্র, অজীর্ণ, হৃদরোগ

ও রক্তচাপজনিত ব্যাধিতে মানুষ কম

আক্রান্ত হয়।’

স্বাস্থ্য গবেষকদের মতে, সারা বছর

অতিভোজ, অখাদ্য কুখাদ্য, ভেজাল

খাদ্য খাওয়ার ফলে আমাদের

শরীরে যে জৈব বিষ জমা হয় তা

দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এক

মাস রোজা পালনের ফলে তা

সহজেই দূরীভূত হয়ে যায়।

3029 views Answered

Related Questions

Next steps