ফজরের সুন্নত নামায আদায় করা হবে কি?
3 Answers
ফরয নামাজের পর এবং সুর্যোদয় এর পুর্বে সুন্নত আদায় করা মাকরুহ। হাদিস শরীফে এসেছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাযের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত নামায পড়তে নিষেধ করেছেন।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৮২৫ তাই ফজরের সুন্নত ছুটে গেলে সূর্যোদয়ের আগে পড়বে না; বরং সূর্যোদয়ের পর থেকে সূর্য হেলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আদায় করে নিবে। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত (সময়মতো) পড়েনি সে যেন সূর্যোদয়ের পর তা আদায় করে নেয়।-জামে তিরমিযী, হাদীস : ৪২৩; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস : ১০৫৩ নাফে রাহ. বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. (ফজরের সময়) মসজিদে প্রবেশ করে দেখেন জামাত শুরু হয়ে গেছে। তিনি ফজরের সুন্নত না পড়েই জামাতে শরিক হয়ে গেলেন। নামায শেষে তিনি মসজিদে বসে অপেক্ষা করতে থাকেন। অতপর সূর্যোদয় হয়ে গেলে তিনি দুই রাকাত সুন্নত কাযা করে নেন।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২/৪৪৩; রদ্দুল মুহতার ২/৫৭; মাআরিফুস সুনান ৪/৮৮
আসুন, প্রথমে ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত এর গুরুত্বের ব্যাপারে একটি হাদিস শুনি।
عن عائشة رضي الله عنها قالت: لم يكن النبي صلى الله عليه و سلم على شيء من النوافل أشد منه تعاهدا على ركعتي الفجر
হযরত আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সাঃ) ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত এর মত কোন নফল নামাযকে এত হিফাযত ও গুরুত্ব প্রদানকারী ছিলেন না।
{সহীহ বুখারী, হাদীস নং-১১১৬, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-২৪৬৩}
عن عائشة عن النبى -صلى الله عليه وسلم- قال « ركعتا الفجر خير من الدنيا وما فيها
হযরত আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেনঃ দুনিয়া ও তাতে যা কিছু আছে তা থেকে ফজরের দুই রাকাত উত্তম।
{সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৭২১, তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-১৬৫০, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-১১০৭}
অন্য একটি হাদিসে এসেছে।
عن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا أقيمت الصلاة فلا صلاة إلا المكتوبة
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেনঃ যখন নামায শুরু হয়, তখন ফরজ নামায ছাড়া আর কোন নামায পড়া জায়েজ নয়।
{সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-৪২১}
ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামায কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ তা উপরোক্ত দুটি হাদিস থেকেই বোঝা যায়। ফজরের দুই রাকাত সুন্নত আদায়ের সময় হল ফজরের দুই রাকাত ফরজ পড়ার আগে। তাহলে একটা প্রশ্ন থেকে যায়, রাসূল (সাঃ) তো ফরজ নামায দাঁড়িয়ে গেলে কোন নামায পড়তে নিষেধ করেছেন। তাহলে ফজরের সুন্নত না পড়া অবস্থায় জামাত দাঁড়িয়ে গেলে সুন্নত এর ব্যাপারে ফয়সালা কি?
এই ব্যাপারে রাসূল (সাঃ) থেকে সরাসরি কোন সমাধান আমরা পাই না। তাই এক্ষেত্রে আমাদের কাছে সাহাবাগণ কর্তৃক সমাধান ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নেই যারা স্বচক্ষে রাসূল (সাঃ) এর আমল দেখেছেন। সাহাবাগণের মাঝে রাসূল সাঃ এর কাছের ও ফক্বীহ সাহাবাগণের অন্যতম হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ), রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ), হযরত আবু দারদা (রাঃ), রাসূল (সাঃ) এর একনিষ্ট ভক্ত ও প্রতিটি কাজের একনিষ্ট অনুসারী হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) সহ অনেক সাহাবী ফজরের সুন্নত না পড়া অবস্থায় নামায দাঁড়িয়ে গেলেও আগে সুন্নত পড়ে, তারপর ফরজে শরীক হতেন। তাই রাসূল (সাঃ) এর হাদীস আমরা যাদের মাধ্যমে পেলাম তাদের আমল এই যে, ফজরের দুই রাকাত সুন্নত জামাত শুরু হলেও পড়ে নিতে হবে যদি নামায পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে সুন্নত বাদ দিয়ে ফরজ পড়ে নিতে হবে।
তথ্যসূত্র: http://www.islamicambit.com/archives/6205
ফজরের দু’রাক‘আত সুন্নাত ছালাত জামা‘আতের পূর্বে পড়াই সুন্নাত। কিন্তু তা আদায় করার সময় না পেলে ফরয ছালাত পড়ার পরে পড়তে হবে। ক্বায়েস ইবনু আমের (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একজন লোককে ফজরের ফরয ছালাতের পর দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করতে দেখে বললেন, ফজরের ছালাত কি দু’বার? তখন লোকটি বলল, আমি ফজরের পূর্বে দু’রাক‘আত পড়িনি। এতদশ্রবণে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) চুপ থাকলেন’ (ছহীহ ইবনু মাজাহ হা/১১৬৫; মিশকাত হা/১০৪৪) । তবে যদি তিনি ইমাম হন, তাহ’লে তিনি সুন্নাত পড়ে জামা‘আত শুরু করবেন। কেননা তার এখতিয়ার আছে, জামা‘আতের নির্ধারিত সময় আগপিছ করার (আহমাদ, মিশকাত হা/১০০৯) । তবে মুক্তাদীর জন্য সে সুযোগ নেই। কেননা ইক্বামত দেওয়ার পর অন্য কোন ছালাত আদায় করা নিষেধ (মুসলিম, মিশকাত হা/১০৫৮) ।