2 Answers

চোখের তলায় ভাঁজ, বলিরেখা, খোলা রোমকূপ, নির্জীব ত্বক এসবই বয়সের ছাপের লক্ষণ। বয়স বাড়লে ত্বকে তার প্রভাব পড়বেই। তবে নিয়মিত পরিচর্যায় ত্বক সতেজ ও সুন্দর রাখা সম্ভব। দীর্ঘদিন ধরে ত্বকের যত্ন না নিলে বেশি বয়সের অনেক আগেই ত্বকে বয়সের ছাপ দেখা যায়। তাই অবহেলা না করে শুরু থেকেই ত্বকের যত্ন নেয়া উচিত। প্রথমেই কী কী কারণে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে পারে এবং কীভাবে তা থেকে ত্বককে রক্ষা করবেন, সে ব্যাপারে ধারণা রাখুন।

 

রোদ থেকে বাঁচুন
ত্বকের সবচেয়ে ক্ষতি করে রোদ। সারাদিন বাইরে রোদের মধ্যে থাকলে, ইউভি রশ্মি থেকে সেল ড্যামেজ হয়। এজিংয়ের অন্যতম কারণ এই সেল ড্যামেজ। এর ফলে ত্বকের বিভিন্ন স্তর, বিশেষ করে সাপোর্টিভ লেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রোদে বের হওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লাগাবেন। সমুদ্রের ধারে, বরফের জায়গায় সূর্যরশ্মি থেকে বেশি ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সাঁতার কাটার সময় বা সমুদ্রের ধারে বেড়াতে গেলে বা পাহাড়ে ঠাণ্ডা জায়গায় গেলে সঙ্গে অবশ্যই সানস্ক্রিন নেবেন।

 

ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখুন
স্বাভাবিক ও শুষ্ক ত্বক ভালো রাখার জন্য ময়েশ্চার খুব জরুরি। বেশিক্ষণ এয়ারকন্ডিশনে থাকলে আরো বেশি করে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা দরকার। অতিরিক্ত গরমে বা ঠাণ্ডায় ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, ত্বক ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, বলিরেখা দেখা যায়। সাধারণত সাবান, পানি দিয়েই আমরা ত্বক পরিষ্কার করে থাকি। সাবান ব্যবহারের ফলে ত্বকের স্বাভাবিক অ্যাসিড ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে ত্বকে ময়েশ্চারাইজারের অভাব দেখা যায়। শুষ্ক ত্বকের জন্য সাবানের বদলে ক্লিনজিং জেল ব্যবহার করুন। এটি ত্বকের ওপর জমে থাকা ধুলা-ময়লা পরিষ্কার করে দেয়। দিনে দুবার ত্বক পরিষ্কার করুন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ত্বক পরিষ্কার করা খুবই জরুরি।

 

ত্বকের পুষ্টি বা নারিশিং নিশ্চিত করুন
ত্বকের ময়েশ্চার ধরে রাখার জন্য নারিশিং জরুরি। শুষ্ক ত্বক ভালো রাখার জন্য নাইট কেয়ার রুটিন মেনে চলুন। আপনার নারিশিং ক্রিমের উপকরণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন, এনজাইম ইত্যাদি রয়েছে কি না দেখে নিন।

নজর দিন ত্বকের সব জায়গাতেই
স্ক্রিন কেয়ার রুটিনে ত্বকের বিশেষ অংশগুলোর দিকে নজর দিতে ভুলবেন না। ঘাড়, চোখ ও হাতের অংশে সহজে বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করে। ফোলা চোখের সমস্যা কমাতে বরফ ঠাণ্ডা পানি বা ঠাণ্ডা দুধ চোখের পাতার ওপর ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। যেহেতু শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় হাতে অনেক আগেই বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করে, তাই বাসন ধোয়া, কাপড় কাচার সময় রবার গ্লাভস পরতে পারেন। গোসল বা বাড়ির কাজ করার পর হাতে ভালোভাবে ক্রিম ম্যাসাজ করে নিন। দুই টেবিল চামচ চিনি, কয়েক ফোঁটা তেল, লেবুর রস হাতে নিয়ে ভালো করে ঘষে নিন।

3963 views

ত্বক নিয়মিত পরিষ্কার করার পরও মুখের কিছু কিছু জায়গার লোমকূপ বড় হয়ে লালচে হয়ে যায়। মূলত তৈলাক্ত ত্বকে লোমকূপ বড় হয়ে যাওয়ার সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। তাছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর পরিমাণও বাড়তে পারে।

লোমকূপের এই সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়ার বেশ কিছু উপায় থাকলেও রাসায়নিক পদ্ধতির চেয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে যদি সমস্যার সমাধান করা যায় তাহলে সেটি বেছে নেওয়াই ভালো। কারণ এক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয় থাকে না।

রূপচর্চাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে ঘরোয়া পদ্ধতিতে খোলা লোমকূপের সমস্যা কমানোর কিছু উপায় জানানো হয়।

মেয়োনেইজ

মেয়োনেইজে আছে ভিনেগার এবং ডিম। যা খোলা লোমকূপ বন্ধ করে ত্বক টানটান করতে সাহায্য করে। তবে যাদের ত্বক শুষ্ক তাদের জন্য মেয়োনেইজ ব্যবহার উপযোগী। পরিমাণ মতো মেয়োনেইজ নিয়ে পুরো মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ভালোমতো ধুয়ে ফেলতে হবে।

লেবু, মধু, আপেল ও দইয়ের মাস্ক

এক টেবিল-চামচ দইয়ের সঙ্গে কুচি করে কাটা আপেল, এক টেবিল-চামচ মধু এবং লেবুর রস ভালো করে মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করতে হবে। এই মাস্ক পরিষ্কার ত্বকে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এই মাস্ক ত্বক কোমল করতে এবং বড় লোমকূপ সংকুচিত করতে সাহায্য করে।

কাজু বাদামের মাস্ক

এক কাপের তিনভাগের এক ভাগ পরিমাণ কাজু বাদাম নিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে যেন পাউডার হয়ে যায়। এরপর খানিকটা পানি এই পাউডারের সঙ্গে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। পেস্টটি প্রথমে নাকে এরপর ত্বকের যেখানে খোলা লোমকূপের সমস্যা আছে সেখানে লাগিয়ে নিন। ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে দুইবার এই পেস্ট ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়।

লেবু

অল্প পরিমাণ পানির সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে তুলার বল ডুবিয়ে পুরো মুখে লাগাতে হবে। আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। লেবুর রস ত্বক টানটান করে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। তবে রোদে বের হওয়ার আগে এই মিশ্রণ ব্যবহার করা উচিত নয়।

পেঁপে

মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে পাকাপেঁপের ভিতরের অংশ পুরো মুখে ঘষে নিতে হবে। ১৫ মিনিট অপেক্ষার পর শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি নিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এটি খোলা লোমকূপ সংকোচন ছাড়াও ব্রণের সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করে।

শসা, আপেল, ডিম ও দুধের তৈরি মাস্ক

ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে এক টেবিল-চামচ গুঁড়াদুধ ভালোমতো মিশিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রণের সঙ্গে এক টুকরা আপেল ও শসা মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। সেটা মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

3963 views

Related Questions