1 Answers
বুদ্ধিতে সর্বদাই শান দিয়ে যেতে হবে, তবেই তা প্রতি পলে বাড়তে থাকবে! কারণ আমাদের মগজের যা ক্ষমতা তার অতি কিঞ্চিৎ পরিমাণই আমরা কাজে লাগাই। ছেলেবেলা থেকে শেখার ক্ষমতা বাড়তে বাড়তে ২০-২৫-এ সবচেয়ে বেশি হয়, তারপর স্থির থাকে বা কমতে থাকে। মানুষে মানুষে শেখার ক্ষমতায় কিছু তারতম্য থাকবেই। শেখার ক্ষমতা বাড়ে শরীর-মন সুস্থ-সবল হলে, কমে শরীরের শক্তির অভাব, মনে ফুর্তির অভাব থাকলে। অনুপ্রেরণা পেলে শেখা বাড়ে, বাড়ে শেখার পরিবেশ আর পদ্ধতি আনন্দময় হলে। ভয় দেখানো, চাপ তৈরি করা পরিবেশ শেখার গুণগত মান কমায়। পরিবেশে অশান্তি, উদ্বেগ বা ভয়ভীতি থাকলে কমে শেখার মান ও পরিমাণ দুটোই। আনন্দবোধ, উৎসাহ, প্রেরণা, প্রশংসা বা পুরস্কার শেখার আগ্রহ শুধু বাড়ায় না, এতে শেখার মাত্রা ও গুণমান বাড়ে। বুদ্ধির বেড়ে ওঠা আজকের স্কুল-কলেজে পড়ার বোঝা, অতিরিক্ত চাপ, দমবন্ধ করা পরিবেশ- এসবই কঠোর বাস্তব। মনোবিদরা নানা গবেষণার সূত্র ধরে শেখার যে আদর্শ পদ্ধতি পরিবেশের কথা বলছেন তা এই ইঁদুর-দৌড় বা র্যাট রেসের যুগে করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। প্রসঙ্গত বলা দরকার, অনেক ছাত্র খুব ছোটবেলায় স্কুল ও অন্যান্য ক্ষেত্রে তেমন সাফল্য দেখাতে পারে না, কিন্তু উঁচু ক্লাসে বা কিছু সময় পর থেকে তারা ভালো করতে শুরু করে। এদের বলে লেট অ্যারাইভাল। সে ক্ষেত্রে বলা যায় এই গোত্রের মানুষরা তাদের বুদ্ধিতে শান দিয়ে তা কাজে লাগাতে শুরু করে। জেনে নিন তা কীভাবে সম্ভব। আদর্শ লেখাপড়ার ও শেখার পরিবেশ আর পদ্ধতি কেমন হওয়া দরকার- তীব্র আবেগের সঙ্গে শেখার ব্যবস্থা, একটানা বেশিক্ষণ না শিখিয়ে মধ্যে বিনোদনের ব্যবস্থা। শেখানোর ব্যবস্থা যেন যথেষ্ট উদ্দীপনা জোগা শেখা তথ্য বা পদ্ধতিকে যেন বারবার ঝালিয়ে নেয়া হয়। শেখার ওপর নজর থাকে, তবে খবরদারি বা বেশি নাক গলানো নয়। খবরদারি না থাকা স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশে শেখার মান ও পরিমাণ বাড়বে। একশ ভাগ ছাঁচে-ঢালা পদ্ধতি বা পরিবেশ নয়, সুচিন্তিত, বেশ খানিকটা স্বতঃস্ফূর্ত শেখার ব্যবস্থা শেখার গভীরতা ও বিস্তার বাড়ায়। শেখানোর পদ্ধতি হওয়া চাই সহজ সরল, জটিল বিষয়কে সহজ করে বোঝানোর দক্ষতা শিক্ষকের থাকা চাই। জোর করে গেলানো পদ্ধতি নয়, শেখার গুণমান ও পরিধি বাড়ে শেখার সঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীর মগজ কাজে লাগানোর ব্যবস্থা থাকলে। পড়াশোনার যে পদ্ধতিতে মগজকে যত বেশি খাটাতে হয়, মানসিক উর্বরতা বাড়ে তত বেশি। এক কথায় আনন্দে, নিজের মতো করে, মাথা ঘামিয়ে, ছাঁচে-ঢালা নয় এমন পদ্ধতিতে প্রথাগত ও স্বাধীন লেখাপড়া ছাত্রজীবনে বুদ্ধির বিকাশ ঘটায়। বুদ্ধি বাড়ে ভালো শিক্ষকের শেখানোর মৌলিক দক্ষতার গুণে, বাড়ে একই বিষয় বারবার ঝালানোয়, আবেগযুক্ত শেখার ব্যবস্থায়।