অনেকেই সহবাসের সময় দীর্ঘায়িত করার জন্য ট্যাবলেট সেবন করে  । এটি কি ইসলামিক ভাবে যায়েজ আছে  ?
3013 views

2 Answers

সহবাসের সময় দীর্ঘায়িত করার জন্য ট্যাবলেট/ঔষধ গ্রহণ করা জায়েজ আছে দুই শর্তে৷ ১৷ তাতে নেশার কোন উপাদান না থাকা৷ ২৷ শরীরের জন্য তা ক্ষতিকর না হওয়া৷ যেমন কিছুদিন ব্যাবহারের পর যৌনঅক্ষমতা তৈরি হওয়া, অসুস্থ হওয়া, দ্রুত বার্ধক্যে উপনিত হওয়া ইত্যাদি সর্বাবস্থায় তা চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যাতীত খাওয়া অনুচিত৷

3013 views

হাদিসের ভাষ্য-আল-আদাব আল-শারইয়্যাহ’ গ্রন্থে (২/৪৬৩) বলা হয়েছে: “নাপাক জিনিস, পবিত্র কিন্তু হারাম জিনিস, ক্ষতিকর জিনিস ইত্যাদি ঔষধ হিসেবে ও সুরমা হিসেবে ব্যবহার করা হারাম।”

মূল আলোচনা!

যৌন উত্তেজনার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ঔষধ। এসব ঔষধের মূল বিধান হচ্ছে- হালাল বা বৈধ হওয়া; যদি না এতে হারাম কিছু না থাকে যেমন– নেশাকর কিছু কিংবা শরীরের জন্য ক্ষতিকর কিছু। যদি থাকে তাহলে পূর্বোক্ত হাদিসের কারণে সেগুলো ব্যবহার করা হারাম। কিন্তু, এগুলো তাদেরই ব্যবহার করা উচিত যাদের প্রয়োজন দেখা দেয়; যেমন– যৌন অক্ষমতা, অসুস্থতা কিংবা বার্ধক্য। নির্ভরযোগ্য বিশ্বস্ত ডাক্তারের পরামর্শের ভিত্তিতে এসব ব্যবহার করা উচিত। কেননা এসব ঔষধের কোন কোনটির এমন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে যার ফলে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। আর কোন কোন ঔষধের এমন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই তবে যার প্রয়োজন নেই তার জন্যে এগুলো ব্যবহারে কোন কল্যাণ নেই; এমনকি এগুলো ব্যবহারের ফলে যদি সুখানুভূতি বেশি হয় তবুও৷ সে ব্যক্তি কতই না সুন্দর বলেছেন: “ঔষধ হচ্ছে- সাবানের মত; কাপড় পরিস্কার করে বটে; তবে কাপড়কে নরম করে ফেলে”। তাই এ সকল ঔষধ যতদূর সম্ভব এড়িয়ে চলা ভাল।

একটা উদাহরণ দিয়ে বলতে চাই বর্তমান যামানায় সবচেয়ে বেশি প্রসারিত ঔষধ হচ্ছে ‘ভায়াগ্রা’। কেউ কেউ কোন প্রকার পরীক্ষা করা ছাড়া ও ডাক্তারের পরামর্শ করা ছাড়া ভায়াগ্রা ব্যবহার করে সাংঘাতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। যায়েয সামরিক হাসপাতালের হার্ট বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আব্দুল্লাহ্‌ আল-নাঈমি এক সেমিনারে যৌন উত্তেজক ঔষধ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: “এ ঔষধের বহু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া খুব জটিল। কানাডাতে প্রায় ৮,৫০০ লোকের উপর একটি গবেষণা চালানো হয়েছে। এতে দেখা যায় যে, এদের মধ্যে প্রায় ১৬% লোক মাথা ব্যথায় ভুগেন। কেউ কেউ লালবর্ণ ধারণ করা ও তাপ বেড়ে যাওয়ার রোগে ভুগেন; বিশেষতঃ চেহারাতে। কেউ কেউ হজমির সমস্যায় ভুগেন। কারো কারো – বিশেষত যাদের নিম্ন রক্তচাপ আছে- রক্তচাপ এত নীচে নেমে যায় যে, তা ক্ষতিকর পর্যায়ে পৌঁছে যায়।”।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যে সব স্বাস্থ্যবান লোকের কোন রোগ নেই; তাদের ক্ষেত্রেও ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেয়া ভাল; এমনকি সেটা স্বল্পমেয়াদী সময়ের জন্যে হলেও। আর যারা নানা প্রকার রোগে আক্রান্ত; বিশেষতঃ হার্টের শিরা ব্লক হয়ে যাওয়া রোগে; তাদের উচিত প্রথমেই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা। কেননা এমন রোগীদের অনেকে ‘নাইট্রেট’ (nitrates) নামক একটা ঔষধ সেবন করে থাকেন যা ‘ভায়াগ্রা’ এর সাথে তীব্র প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে উঠে। ভায়াগ্রা এ ঔষধটিকে রোগীর শরীরে মিশতে বাধা দেয়। যার ফলে এ ঔষধটি কখনও কখনও দশগুণ পর্যন্ত বেড়ে তীব্র নিম্ন রক্ত চাপ তৈরী করে। যার কারণে কখনও কখনও মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে থাকে। কারণ আমরা অনেক মৃত্যুর কথা শুনেছি। অধিকাংশ মৃত্যু এ ধরণের ক্ষেত্রে ঘটেছে। কোন ব্যক্তি হয়তো হার্টের সমস্যায় ভুগছেন কিংবা হার্টের শিরা ব্লক হয়ে যাওয়ায় ভুগছেন এবং এজন্য তিনি নাইট্রেট (nitrates) সেবন করেন। এর সাথে তিনি যখন ভায়াগ্রা সেবন করেন তখন নাইট্রেট এর শক্তি কয়েকগুণ বেড়ে গিয়ে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তৈরী করে।”

সুতরাং-এসব ঔষধ জায়েজ হলেও ব্যাবহার না করাই উত্তম৷     

3013 views

Related Questions