কফ থেকে মুক্তির ওপাই কি?
2 Answers
লেবু ও মধু: এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে। প্রতিদিন দুতিনবার এই পানীয় খেতে হবে। মধু বুক ও গলায় আরাম দেবে আর লেবুর ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে।
গরম দুধ: গরম দুধে মধু, হলুদ, গোলমরিচ মিশিয়ে খাওয়া বুক কফ জমা ও সর্দি-কাশি সারাতে অত্যন্ত উপকারী। হলুদে আছে ব্যাকটেরিয়া ও সংক্রমণ রোধকারী উপাদান, গোলমরিচ হজমে সাহায্য করে, সারায় কফ ও সর্দি। প্রতিদিন দুবার পান করতে হবে।
কুসুম গরম পানি পান: ঠাণ্ডা লাগলে কুসুম গরম পানি পান করলে গলায় আরাম হয়। বুকে জমা কফও সেরে উঠতে থাকে ক্রমেই। শ্বাসনালী ও বুকে জমে থাকা সর্দি গলিয়ে ফেলতে কুসুম গরম পানি অত্যন্ত কার্যকর।
দিয়ে গড়গড়া: বুকে জমা কফ ও গলার সমস্যা সারাতে এই পদ্ধতি সম্ভবত সবচাইতে বেশি প্রচলিত। এক গ্লাস গরম পানিতে আধা টেবিল-চামচ লবণ মিশিয়ে এক থেকে দুই মিনিট গড়গড়া করতে হবে। দিনে তিন থেকে চারবার পদ্ধতিটি অনুসরণ করলে বেশি উপকার মিলবে। তবে এই পানি গিলে ফেলা যাবে না।
চা: আদা, পুদিনা-পাতা, ক্যামোমাইল, রোজমেরি মিশিয়ে চা বানিয়ে পান করাও এক্ষেত্রে বেশ উপকারী। চিনির বদলে মধু ব্যবহার করলে মিলবে বাড়তি উপকার। চা ভালো না লাগলে আদা চিবিয়ে খেতে পারেন।
বাষ্প: পানিতে ইউক্যালিপ্টাস তেল মিশিয়ে তার বাষ্প নিশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে বুকে জমা কফ দূর করতে সাহায্য করবে। বাষ্প নেওয়ার সময় জোরে শ্বাস নিতে হবে, বন্ধ নাক ও বুকে জমা কফের অস্বস্তি থেকে আরাম মিলবে দ্রুত। ইউক্যালিপ্টাস তেলে আছে যন্ত্রণানাশক ও ব্যাকটেরিয়া রোধকারী উপাদান যা এতে সহায়ক।
ব্ল্যাক কফি: অস্বস্তি থেকে সাময়িক আরাম মেলে ব্ল্যাক কফি পান করলে। আর জমে থাকা সর্দি গলাতেও উপকারী। তবে দিনে দুই কাপের বেশি পান করা যাবে না, কারণ অতিরিক্ত ক্যাফেইন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
হলুদ: গরম পানিতে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে গড়গড়া করলে বুকে কফ জমা থেকে মুক্তি মিলবে। কারণ হলুদে থাকা ‘কারকিউমিন’ জমে থাকা সর্দি কাটাতে কার্যকর। আর ব্যাকটেরিয়া নিধনেও হলুদ সহায়ক ভূমিকা রাখে।
পেঁয়াজের নির্যাস: এতে থাকা ‘কুয়ারসেটাইন’ সর্দি দূর করে এবং আবার জমতে বাধা দেয়, সংক্রমণ থেকেও বাঁচায়। পেঁয়াজের রস বের করে তাতে লেবুর রস, মধু ও পানি মিশিয়ে নিতে হবে। পরে কুসুম গরম করে পান করতে হবে প্রতিদিন তিন থেকে চারবার।
তবে ঘরোয়া এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহারের আগে উপকরণগুলোতে ব্যক্তিগত সমস্যা আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কফ থেকে বাঁচার উপায়
১. গার্গল দিনে তিনবার
নুন জলে গার্গল শুধু যে কাশি, গলা ব্যথা কমায় তা না, এটা খুব উপকারী বুকে জমা কফ দূর করার জন্য। হালকা গরমজলে একটু নুন মিশিয়ে নিন। ব্যাস, এটা দিয়েই দিনে তিনবার গার্গল করুন। তাহলেই দেখবেন বুকে জমা কফ কেমন উঠে যাচ্ছে। এটা খুব ভালো একটা উপায়। এবং তাড়াতাড়ি কাজ করে।
২. আদা
আদাও খুব ভালো কাজে দেয় বুকের জমা কফ তুলে দিতে।
পদ্ধতি
জাস্ট এক গ্লাস মত জল গরম করুন। এবার এই জলে একটুকরো আদা দিয়ে দিন। আদা সমেত জল ভালো করে ফোটান। ভালোভাবে ফোটানোর পর আদা তুলে নিন। এবার আদার নির্জাস সহ এই জল পান করুন। দিনে একবার এরকম জল পান করুন। তবে জল যেন বেশী গরম না হয়, হালকা গরম জল পান করবেন। সমস্ত কফ উঠে যাবে। এছাড়াও একটুকরো আদা মুখে নিয়ে রেখে দিতে পারেন। এতে শুষ্ক কাশিও কমবে, আবার বুকে জমা কফও উঠে আসবে।
আদার মত একইভাবে খেতে পারেন কাঁচা পেঁয়াজ। পেঁয়াজও আদার মত জমে থাকা কফ তুলে ফেলতে বেশ সাহায্য করে।
৩. দ্রুত কাজ করবে হলুদ
হলুদ শুধু অ্যান্টি-সেপ্টিক নয়। এতে আছে কারকিউমিন নামক উপাদান। যা জমে থাকা কফ দ্রুত তুলে ফেলতে পারে। এবং এতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান গলা বাথা দূর করতেও উপকারী।
পদ্ধতি
এর জন্য জাস্ট হালকা গরম জল করুন। এবার এতে একটু নুন ও একটু হলুদ গুঁড়ো মেশান। এই জল দিয়ে দিনে দুবার গার্গল করুন। দেখবেন আস্তে আস্তে কেমন উপকার পাচ্ছেন।
এছাড়াও গরমজলে একটু হলুদ গুঁড়ো, একটু মধু ও একটু গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে সেই জল খেতে পারেন। এতেও ভালো কাজ হবে।
৪. কফ সম্পূর্ণ নির্মূল করবে লেবু ও মধু
ভেতর থেকে জমা কফ সম্পূর্ণ নির্মূল করতে, ব্যবহার করুন লেবু ও মধু একসাথে।
পদ্ধতি
হালকা গরমজলে লেবুর রস ও মধু মেশান। এবার এই জল পান করুন। এটা খুব কার্যকরী একটা উপায় বুকের জমা কফ দূর করতে।
৫. ম্যাজিকের মত গরম জলের ভাপ
গরম জলের ভাপ নিলে বুকে কফ জমতে পারে না।
পদ্ধতি
পানি খুব গরম করে এর ভাপ নিন। এই ভাপ নেওয়ার সময় ঘরের জানলা দরজা বন্ধ করে ভাপ নিন। তাহলে ভালো কাজ হবে। নাহলে ভাপ বেড়িয়ে যাবে। আর এর সাথে ওই জলে মিশিয়ে নিন একটু কর্পূর মিশিয়ে নিন। দিনে দু’বার কর্পূর ভাপ নিয়ে নিন। দেখবেন কেমন ম্যাজিকের মতো বন্ধ নাক কেমন ছেড়ে গেছে। আর বুকে জমে থাকা কফও উঠে আসছে সহজেই। এটা দিনে একবার করলেই কাজ হবে।
তাহলে দেখলেন তো কিছু সহজ জিনিস দিয়ে, কত সহজে বুকে জমে থাকা কফ তুলে ফেলতে পারছেন। এগুলো এক একদিন একটা ট্রাই করে দেখুন। খুব তাড়াতাড়ি উপকার পাবেন৷