1 Answers

গরুর দুধের উপকারিতা: দন্তবিশেষজ্ঞরা বলেন যে, প্রতি বেলা আহারের মধ্যবর্তী সময়ে পানি বাদে দুধই হচ্ছে আরেকটি নিরাপদ পানীয়। কারণ দেখা গিয়েছে দুধ দাঁত ক্ষয়ের সবচে’ নাজুক অবস্থাতেও দাঁতের ক্ষয়সাধন করে না। ধ ও দুগ্ধজাত খাবারে থাকা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম হাড়ের গঠন ও বিকাশে দরকারি।যদি দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার প্রতিদিনের আহারে না থাকে, তবে ক্যালসিয়ামের অভাব দেখা দিতে পারে যা বিশেষ করে মহিলাদের আর বয়স্কদের চিন্তার বিষয়। ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে ‘ওসটিও আর্থাইটিস’ নামক হাড়ক্ষয়কারী রোগ হতে পারে। শুধু ফল ও সবজি খেলে যে উপকার হয়, তারচেয়ে ফল, সবজি আর স্বল্প চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার নিয়মিত পরিমাণে গ্রহণ করলে তা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অধিক কার্যকরী- বেশকিছু গবেষণায় দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণের সাথে হৃদরোগের লক্ষণসমূহ হ্রাসের একটি যোগসূত্র পাওয়া গেছে। দেখা গেছে যারা স্বল্প পরিমাণে দুধ পান করেছিলেন তাদের চাইতে যারা বেশি পরিমাণে দুধ (বিশেষত সর বাদ দিয়ে) পান করেছিলেন তাদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা কম। পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে ক্যালরি নিয়ন্ত্রিত সুষম খাবারের অংশ হিসেবে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করলে ওজন হ্রাস ত্বরান্বিত হয়ে থাকে, বিশেষ করে তলপেট থেকে, যেখানটায় বেশি চর্বি থাকাটা স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি নিয়মিত কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস পায়; যা এখন শুধু বয়স্ক নয়, শিশু-কিশোরদেরও সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবারের এই উপকারিতার পেছনে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ অন্যান্য দরকারি পুষ্টিগুণের সমন্বিত অবদান আছে নয়তো এতে থাকা স্বল্প গ্লাইসেমিক সূচক রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ৩,০০০ অতিরিক্ত ওজনের বয়স্কদের মাঝে গবেষণায় দেখা গেছে পরিশোধিত চিনি ও শর্করা গ্রহণ না করে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করলে অতিরিক্ত ওজনের বয়স্কদের শরীরে টাইপ-২ ডায়াবেটিস জেঁকে বসাটা প্রতিরোধ করতে পারে। পারিবারিকভাবে দুধ আমাদের নিত্যসঙ্গী। দুধ ছাড়া আমাদের একমুহূর্ত চলে না। প্রতিটি সময়ে চা, কফি, মিস্টান্ন তৈরিতে প্রথমেই দরকার হয় দুধ। আমাদের দেশে বহুল জনশ্র“তি আছে, দুধে ভাতে বাঙালি তাই এই দুধ ছাড়া কি আমাদের চলে। ছাগলের দুধের সম্পর্কে : খাদ্য তালিকায় দুধের স্থান প্রথম সারিতে।তাই বিশ্বব্যাপী দুধ উৎপাদনকারী গৃহপালিত প্রাণিগুলোর কদরও বেশি। বর্তমানে গরুর দুধের প্রচলন সর্বাধিক। এর উৎপাদনও হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে। তবে ছাগলের দুধও বিশ্বের প্রায় 65% এলাকায় প্রচলিত। এখন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছাগলের দুধের ব্যবহার ব্যাপক। তবে যুক্তরাষ্ট্রে গরুর দুধের জনপ্রিয়তা বেশি। আমাদের দেহের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়ামের অন্যতম উৎস দুধ। ছাগলের দুধে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে এবং প্রোটিনও তুলনামূলকভাবে বেশি। অপরদিকে ফ্যাটের পরিমাণ কম। এক গ্লাস ছাগলের দুধে ক্যালসিয়াম আছে প্রায় 170 ক্যালরি, প্রোটিন আছে প্রায় 10 গ্রাম, কোলেস্টেরল আছে প্রায় 27 মিলি গ্রাম, কার্বন ও চর্বির পরিমাণ প্রায় 11 ও 6 গ্রাম। এ উপাদানগুলো ছাড়াও রয়েছে ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, তামা, সিলেনিয়াম, জিঙ্ক, ভিটামিন এ, বি 2, সি, ডি প্রভৃতি। পুষ্টি গুণাগুণ বিবেচনা করলে দেখা যায় গরুর দুধের চেয়ে ছাগলের দুধের উপকারিতা বেশি। নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য করলে তা সহজেই বোঝা যাবে : গরুর দুধের তুলনায় ছাগলের দুধ সহজে হজম হয়। এতে প্রোটিনের পরিমাণও বেশি এবং শরীরের জন্য উপকারী ফ্যাটি এসিডও রয়েছে। ছাগলের দুধ হার্টের জন্যও বেশ ভালো কারণ এতে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম। গবেষণায় দেখা যায়, ছাগলের দুধের পুষ্টিগুণ প্রায় মায়ের দুধের কাছাকাছি। তাই বাচ্চার জন্য ছাগলের দুধ পরম উপকারী খাবার। এতে এলার্জি প্রবণতাও কম। অপরদিকে গরুর দুধে এলার্জি প্রবণতা বেশি। ছাগলের দুধের ভিটামিন এ ত্বকের জন্যও বেশ উপকারী। অনেকে মনে করে ছাগলের দুধ ডেঙ্গু প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে। গরুর দুধের তুলনায় এতে ল্যাকটোজের পরিমাণ কম থাকে। সহজে হজম হওয়ায় রোগীর জন্যও ছাগলের দুধ বেশ উপকারী।

2586 views

Related Questions