6 Answers

রূপচর্চাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে মুম্বাইয়ের হেয়ার রেস্টারেইশন ও স্কিন রেজুভানেইশন শল্যচিকিৎসক ডা. সান্দ্বীপ সুত্তার প্রাকৃতিকভাবে চুল ভালো রাখার কিছু পরামর্শ দেন।

চুলের যত্নে ডিম

চুল কন্ডিশনিং করার জন্য ডিমের তুলনা হয় না। চুল ময়েশ্চারাইজারের জন্য ডিমের সাদা অংশ ব্যবহার করা যায়। রুক্ষ চুলে আধা কাপ পরিমাণ ডিম ভালোভাবে ফেটিয়ে তা মাথায় লাগাতে হবে। ২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পরিষ্কার পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।

চুলের পরিচ্ছন্নতা

চুল পড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হল মাথার ত্বকের খুশকি ও শুষ্ক ত্বক। আর চুল নিয়মিত পরিষ্কার না করলেই চুল পড়ার সমস্যা বেশি হয়। তাই নিয়মিত মাথার ত্বক ও চুল পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। 

গরম পানি এড়িয়ে চলুন

গরম পানি ব্যবহার করলে মাথা থেকে চুল রক্ষা করার যে তেল বের হয় তা ধুয়ে যায়। ফলে চুল হয়ে পড়ে রুক্ষ ও ভঙ্গুর। ডা. সু্ত্তারের মতে, যারা গরম পানি ব্যবহারে অভ্যস্ত তারা শরীরের তাপমাত্রা থেকে সামান্য বেশি উষ্ণতার পানি ব্যবহার করতে পারেন। অর্থাৎ কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত গরম পানি ত্বক শুষ্ক করে ফেলে এবং চুলেরও ক্ষতি করে।

চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে

এককাপ কন্ডিশনারের সঙ্গে দুই থেকে তিন টেবিল-চামচ মধু ভালোভাবে মেশান। এরপর ভেজা চুলে মাখুন। এই মিশ্রণ ৩০ মিনিট রাখার পর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটা মাথার উপরের ত্বক ভালো রাখে আর চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।  

বেকিং সোডার ব্যবহার

৩ টেবিল-চামচ বেকিং সোডার সঙ্গে অল্প পানি মিশিয়ে নিন। শ্যাম্পু করার পর এই মিশ্রণ দিয়ে পুরো চুলে লাগিয়ে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। তারপর ধুয়ে ফেলুন। এই মিশ্রণ ব্যবহারের ফলে চুলের গোড়ায় জমে থাকা অতিরিক্ত শ্যাম্পু ও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদানও পরিষ্কার হয়ে যায়।

চুলে আনুন ‘বাউন্সি’ ভাব

চুল প্রাণোজ্জল আর ‘বাউন্সি’ করে তোলার জন্য আপেল সাইডার ভিনিগার বেশ উপকারী। হাল্কা গরম পানির সঙ্গে ভিনিগার মিশিয়ে চুলে লাগাতে হয়। তবে আপেল সাইডার ভিনিগারের গন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য পাঁচ মিনিট পরেই এটি ধুয়ে ফেলা উচিত।

বার বার চুল না ধোয়া

দুতিন দিন পর পর চুল ধোয়া উচিত। বার বার ধোয়া হলে চুলের প্রাকৃতিক তেলের পরিমাণ কমে যায়। ফলে উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়। 

নিজের কন্ডিশনার নিজেই তৈরি করে নিন

প্রোটিন কন্ডিশনার তৈরির জন্য ১টি ডিম ও পরিমাণ মতো দই একসঙ্গে মিশিয়ে মাথার তালুতে ভালোমতো লাগাতে হবে। পাঁচ থেকে ১০ মিনিট পর তা ধুয়ে ফেলুন।

 মজবুত চুলের জন্য

শুষ্ক ও রুক্ষ চুলের জন্য আমন্ড অয়েল বা কাজুবাদামের তেল বিশেষ উপযোগী। পরিমাণ মতো তেল নিয়ে ৪০ সেকেন্ড গরম করুন। এবার চুল ভাগ ভাগ করে মাথার তালুতে ভালোভাবে তেল দিন। ৩০ মিনিট পর চুল শ্যাম্পু করে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

সুন্দর চু্লের জন্য লেবুর রস

লেবুর রস চুলের মলিনভাব দূর করতে সাহায্য করে। চুল ধোয়ার পর ১ টেবিল-চামচ লেবুর রস লাগান। তারপর তোয়ালে দিয়ে শুকনা করে মুছে ফেলতে হবে। এতে চুল নরম ও উজ্জ্বল হয়।

 সুইমিং পুলে নামার আগে

পুলের পানিতে নানান রকম রাসায়নিক উপাদান মেশানো থাকে যা চুলের জন্য ক্ষতিকর। ডা. সুত্তারের মতে, পুলের পানিতে সাঁতার কাটার আগে চুলে সামান্য কন্ডিশনার লাগানো উচিত। এতে রাসায়নিক উপাদান চুলের বেশি ক্ষতি করতে পারে না।

রোদে পোড়া চুলের যত্ন

আধা কাপ মধু, ১ বা ২ টেবিল-চামচ অলিভ অয়েল এবং ১ থেকে ২ টেবিল-চামচ ডিমের কুসুম মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। তারপর চুলে দিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ডা. সুত্তার বলেন, “এটা কেরাটিন প্রোটিন পুনর্গঠন করতে সাহায্য করে।”                         

আঁটসাঁট করে চুল না বাধা

বেশি শক্ত বা আঁটসাঁট করে বাধলে চুল দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। তাই যাদের চুল পড়ার সমস্যা আছে তাদের বেশি শক্ত করে চুল বাধা এড়িয়ে চলতে হবে।

সঠিকভাবে চুল আঁচড়ানোর কৌশল

প্লাস্টিকের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ালে স্থির বিদ্যুৎ সৃষ্টি হয়, যে কারণে চুল ভেঙে যায়। তাই প্লাস্টিকের চিরুনি ব্যবহার বাদ দিতে হবে। জট ছাড়ানোর জন্য চুল আঁচড়ানোর সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হচ্ছে প্রথমে চুলের শেষের অংশ আঁচড়াতে হবে। তারপর চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত লম্বা করে আঁচড়াতে হবে। এই কৌশল চুলে প্রাকৃতিক তেল ছড়িয়ে যেতে সাহায্য করে এবং চুল ভাঙার সমস্যা কম হয়।

ভেজা চুল না আঁচড়ানো

ডা. সুত্তারের মতে, ভেজা চুল তোয়ালে দিয়ে ভালো ভাবে মুছে শুকাতে হবে তারপর মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে আঁচড়িয়ে জট ছাড়াতে হবে। শুকনা চুলের তুলনায় ভেজা চুল তিনগুন বেশি দুর্বল থাকে। তাই ভেজা চুল আঁচড়ালে চুল ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

বাতাসে চুল শুকানো

চুল ড্রায়ার বা গরম রোলারের সাহায্যে শুকানো ঠিক নয়। যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক বাতাসে চুল শুকানো উচিত। বিদ্যুৎচালিত ড্রায়ার ব্যবহারের ফলে চুল বেশি রুক্ষ হয়ে যায়। যদি নিতান্তই হাতে সময় না থাকে তবে ড্রায়ার যথেষ্ট দূর থেকে ব্যবহার করা উচিত যাতে সরাসরি গরম বাতাস চুলে না লাগে।

সুষম খাবার

চুল ভালো রাখার জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি, ফল ও সবজি খাওয়া প্রয়োজন। চুলের যত্নে সুষম খাবার গ্রহণ করা সবচেয়ে কার্যকর। কারণ সুন্দর চুল ও ত্বকের জন্য বাহ্যিক পরিচর্চার থেকে ভিতর থেকে পুষ্টি বেশি প্রয়োজনীয়।

2955 views

রূপচর্চাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে মুম্বাইয়ের হেয়ার রেস্টারেইশন ও স্কিন রেজুভানেইশন শল্যচিকিৎসক ডা. সান্দ্বীপ সুত্তার প্রাকৃতিকভাবে চুল ভালো রাখার কিছু পরামর্শ দেন। চুলের যত্নে ডিম চুল কন্ডিশনিং করার জন্য ডিমের তুলনা হয় না। চুল ময়েশ্চারাইজারের জন্য ডিমের সাদা অংশ ব্যবহার করা যায়। রুক্ষ চুলে আধা কাপ পরিমাণ ডিম ভালোভাবে ফেটিয়ে তা মাথায় লাগাতে হবে। ২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পরিষ্কার পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। চুলের পরিচ্ছন্নতা চুল পড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হল মাথার ত্বকের খুশকি ও শুষ্ক ত্বক। আর চুল নিয়মিত পরিষ্কার না করলেই চুল পড়ার সমস্যা বেশি হয়। তাই নিয়মিত মাথার ত্বক ও চুল পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন।  গরম পানি এড়িয়ে চলুন গরম পানি ব্যবহার করলে মাথা থেকে চুল রক্ষা করার যে তেল বের হয় তা ধুয়ে যায়। ফলে চুল হয়ে পড়ে রুক্ষ ও ভঙ্গুর। ডা. সু্ত্তারের মতে, যারা গরম পানি ব্যবহারে অভ্যস্ত তারা শরীরের তাপমাত্রা থেকে সামান্য বেশি উষ্ণতার পানি ব্যবহার করতে পারেন। অর্থাৎ কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত গরম পানি ত্বক শুষ্ক করে ফেলে এবং চুলেরও ক্ষতি করে। চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এককাপ কন্ডিশনারের সঙ্গে দুই থেকে তিন টেবিল-চামচ মধু ভালোভাবে মেশান। এরপর ভেজা চুলে মাখুন। এই মিশ্রণ ৩০ মিনিট রাখার পর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটা মাথার উপরের ত্বক ভালো রাখে আর চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।   বেকিং সোডার ব্যবহার ৩ টেবিল-চামচ বেকিং সোডার সঙ্গে অল্প পানি মিশিয়ে নিন। শ্যাম্পু করার পর এই মিশ্রণ দিয়ে পুরো চুলে লাগিয়ে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। তারপর ধুয়ে ফেলুন। এই মিশ্রণ ব্যবহারের ফলে চুলের গোড়ায় জমে থাকা অতিরিক্ত শ্যাম্পু ও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদানও পরিষ্কার হয়ে যায়। চুলে আনুন ‘বাউন্সি’ ভাব চুল প্রাণোজ্জল আর ‘বাউন্সি’ করে তোলার জন্য আপেল সাইডার ভিনিগার বেশ উপকারী। হাল্কা গরম পানির সঙ্গে ভিনিগার মিশিয়ে চুলে লাগাতে হয়। তবে আপেল সাইডার ভিনিগারের গন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য পাঁচ মিনিট পরেই এটি ধুয়ে ফেলা উচিত। বার বার চুল না ধোয়া দুতিন দিন পর পর চুল ধোয়া উচিত। বার বার ধোয়া হলে চুলের প্রাকৃতিক তেলের পরিমাণ কমে যায়। ফলে উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়।  নিজের কন্ডিশনার নিজেই তৈরি করে নিন প্রোটিন কন্ডিশনার তৈরির জন্য ১টি ডিম ও পরিমাণ মতো দই একসঙ্গে মিশিয়ে মাথার তালুতে ভালোমতো লাগাতে হবে। পাঁচ থেকে ১০ মিনিট পর তা ধুয়ে ফেলুন।  মজবুত চুলের জন্য শুষ্ক ও রুক্ষ চুলের জন্য আমন্ড অয়েল বা কাজুবাদামের তেল বিশেষ উপযোগী। পরিমাণ মতো তেল নিয়ে ৪০ সেকেন্ড গরম করুন। এবার চুল ভাগ ভাগ করে মাথার তালুতে ভালোভাবে তেল দিন। ৩০ মিনিট পর চুল শ্যাম্পু করে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। সুন্দর চু্লের জন্য লেবুর রস লেবুর রস চুলের মলিনভাব দূর করতে সাহায্য করে। চুল ধোয়ার পর ১ টেবিল-চামচ লেবুর রস লাগান। তারপর তোয়ালে দিয়ে শুকনা করে মুছে ফেলতে হবে। এতে চুল নরম ও উজ্জ্বল হয়।  সুইমিং পুলে নামার আগে পুলের পানিতে নানান রকম রাসায়নিক উপাদান মেশানো থাকে যা চুলের জন্য ক্ষতিকর। ডা. সুত্তারের মতে, পুলের পানিতে সাঁতার কাটার আগে চুলে সামান্য কন্ডিশনার লাগানো উচিত। এতে রাসায়নিক উপাদান চুলের বেশি ক্ষতি করতে পারে না। রোদে পোড়া চুলের যত্ন আধা কাপ মধু, ১ বা ২ টেবিল-চামচ অলিভ অয়েল এবং ১ থেকে ২ টেবিল-চামচ ডিমের কুসুম মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। তারপর চুলে দিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ডা. সুত্তার বলেন, “এটা কেরাটিন প্রোটিন পুনর্গঠন করতে সাহায্য করে।”                          আঁটসাঁট করে চুল না বাধা বেশি শক্ত বা আঁটসাঁট করে বাধলে চুল দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। তাই যাদের চুল পড়ার সমস্যা আছে তাদের বেশি শক্ত করে চুল বাধা এড়িয়ে চলতে হবে। সঠিকভাবে চুল আঁচড়ানোর কৌশল প্লাস্টিকের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ালে স্থির বিদ্যুৎ সৃষ্টি হয়, যে কারণে চুল ভেঙে যায়। তাই প্লাস্টিকের চিরুনি ব্যবহার বাদ দিতে হবে। জট ছাড়ানোর জন্য চুল আঁচড়ানোর সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হচ্ছে প্রথমে চুলের শেষের অংশ আঁচড়াতে হবে। তারপর চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত লম্বা করে আঁচড়াতে হবে। এই কৌশল চুলে প্রাকৃতিক তেল ছড়িয়ে যেতে সাহায্য করে এবং চুল ভাঙার সমস্যা কম হয়। ভেজা চুল না আঁচড়ানো ডা. সুত্তারের মতে, ভেজা চুল তোয়ালে দিয়ে ভালো ভাবে মুছে শুকাতে হবে তারপর মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে আঁচড়িয়ে জট ছাড়াতে হবে। শুকনা চুলের তুলনায় ভেজা চুল তিনগুন বেশি দুর্বল থাকে। তাই ভেজা চুল আঁচড়ালে চুল ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বাতাসে চুল শুকানো চুল ড্রায়ার বা গরম রোলারের সাহায্যে শুকানো ঠিক নয়। যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক বাতাসে চুল শুকানো উচিত। বিদ্যুৎচালিত ড্রায়ার ব্যবহারের ফলে চুল বেশি রুক্ষ হয়ে যায়। যদি নিতান্তই হাতে সময় না থাকে তবে ড্রায়ার যথেষ্ট দূর থেকে ব্যবহার করা উচিত যাতে সরাসরি গরম বাতাস চুলে না লাগে। সুষম খাবার চুল ভালো রাখার জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি, ফল ও সবজি খাওয়া প্রয়োজন। চুলের যত্নে সুষম খাবার গ্রহণ করা সবচেয়ে কার্যকর। কারণ সুন্দর চুল ও ত্বকের জন্য বাহ্যিক পরিচর্চার থেকে ভিতর থেকে পুষ্টি বেশি প্রয়োজনীয়

2955 views

চুলের জন্য তেল খুব জরুরি; তা সে নারী বা পুরুষ, যে-ই হোক না কেন। বিশেষ করে আসন্ন এই গরমে তেলের আলাপ খুবই প্রাসঙ্গিক। তবে আজ পুরুষের চুলের যত্নে কিছু উপকারী তেল নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে : অ্যাভোকাডো তেল স্তরপূর্ণ, ভঙ্গুর ও ক্ষতিগ্রস্ত চুলের জন্য এই তেল। অ্যাভোকাডো তেল হালকা ও মসৃণ এবং এতে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি। এ ছাড়া এই তেলে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, ডি ও ই। আছে আয়রন, অ্যামাইনো এসিড ও ফলিক এসিড। এই তেল ব্যবহারে চুল পড়া বন্ধ হবে, আগা ভাঙবে না; চুলের গোড়া শক্ত হবে। নারিকেল তেল সব ধরনের চুলের জন্যই প্রযোজ্য। চুলের বৃদ্ধি থেকে শুরু করে চুলসংক্রান্ত সব কিছুতেই যেন নারিকেল তেল অপরিহার্য। এই তেল মাথার ত্বককে শুষ্কতা থেকে বাঁচাবে এবং চুলে খুশকি হতে দেবে না। জোজোবা তেল শুষ্ক আর ক্ষতিগ্রস্ত চুলের জন্য বড়ই উপকারী এই তেল। চুলের শুষ্কতা, খুশকি ও জট ছাড়াতে এই তেল খুবই কার্যকরী। নন-স্টিকি ও নন-গ্রেসি এই তেল চুলকে করে মসৃণ ও ঝরঝরে। আমন্ড তেল আপনার কাজ যদি হয় সারা দিন পথে পথে ঘুরে বেড়ানো বা এদিক-সেদিক যাওয়া তবে চুলে ব্যবহারের জন্য বেছে নিতে পারেন এই তেল। এটাকে অনেকেই ‘থিনিং অয়েল’ বলে ডাকে। এর কাজ হলো চুলের সব রকম ময়লা ও গাদ দূর করে চুলকে ফুরফুরে ও সতেজ রাখা। এ ছাড়া ভিটামিন ই সমৃদ্ধ এই তেল চুল বাড়াতেও ভূমিকা রাখে। অলিভ তেল এই তেল সাধারণত স্পর্শকাতর চুলের জন্য। এতে রয়েছে চুলের উপযুক্ত দারুণ কন্ডিশনার। এর কোনো অ্যালার্জেটিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। স্কাল্প বা মাথার খুলির স্বাস্থ্যের জন্য এটি বেশ কাজ করে। কেননা এতে আছে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামাটরি ময়েশ্চারাইজিং।

2955 views

চুলে পিয়াজ বেটে লাগালে চুল সুন্দর হয়।

2955 views

*চুল সুন্দর করতে আপনাকে প্রতিদিন শ্যাম্পু করতে হবে *চুল অধিক সময় ভেজা রাখা যাবে না অথাৎ গোসলের পর দ্রুত চুল শুকাতে হবে *প্রচুর রোদে চুল ঢাকনা/ক্যাপ পরাই উত্তম *ভিটামিন ই জাতীয় খাদ্য খাবেন

2955 views

সব নারীর স্বাস্থ্যউজ্জ্বল ঝলমলে রেশমি চুলের প্রতি আকর্ষণ থাকে। কিন্তু অতিরিক্ত কেমিক্যাল, আবহাওয়া এবং সঠিক যত্নের অভাবে চুলের অবস্থা দিনকে দিন খারাপই হতে থাকে। এর ফলে চুল পড়ে যাওয়া, চুলে রুক্ষতা চলে আসা, আগা ফাটার সমস্যা যেন লেগেই থাকে। যার কারণে বেশীরভাগ নারীর কাছে স্বাস্থ্যউজ্জ্বল ঝলমলে চুল পাওয়ার স্বপ্নটা আসলে স্বপ্নই থেকে যায়। কিন্তু  কিছু নিয়মের মধ্যে থাকলে আপনার চুলের হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে পারবেন খুব সহজেই। আর এর মধ্যে যে কোন পদ্ধতি নিয়মিত মেনে আপনি চুলের যত্ন নিতে পারেন। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক ঝলমলে সুন্দর চুলের টিপসগুলো।

 

চুল ধোয়ার আগে করণীয় কিছু কাজ

 ১। চুল ধোয়ার আগে বা আগের রাতে মাথায় তেল দিয়ে রাখতে হবে। কোন সাধারণ তেল নয়। চেষ্টা করতে হবে দুই প্রকার তেল মিশিয়ে দেওয়ার জন্য। ক্যাস্টর অয়েল, অলিভ অয়েল বা বাদাম তেল মিশিয়ে নিতে পারেন। চাইলে এর সাথে ভিটামিন ই ক্যাপসুলও মিশিয়ে নিতে পারেন।

২। এবার এই তেলটি তালুতে ভালভাবে ম্যাসাজ করে। কমপক্ষে ২০ মিনিট ম্যাসাজ করতে হবে।

৩। এরপর আপনি চাইলে হট টাওয়েল ট্রিটমেন্ট করতে পারেন। একটি টাওয়েল গরম পানিতে ভিজিয়ে সেটা দিয়ে মাথা পেঁচিয়ে রাখতে হবে ৩০ মিনিট। তারপর শ্যাম্পু করে ফেললে হবে।

৪। কখনও গরম পানি দিয়ে চুল ধোবেন না। গরম পানি আপনার চুলকে রুক্ষ করে তুলবে।

৫। সপ্তাহে ১-২বার চুলে প্যাক ব্যবহার করতে হবে। ২টি পাকা কলা, ২ টেবিল চামচ ম্যায়নিজ এবং ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল দিয়ে প্যাক তৈরি করে নিয়ে। ঘন্টাখানেক এই প্যাকটি চুলে রেখে। তারপর চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। কলা ও মধু চুলের রুক্ষতা দূর করে চুলকে করে তুলবে সিল্কি।

৬। টক দই এবং ডিমের প্যাকও ব্যবহার করতে হবে মাধে মাধে। এটি আপনার চুলকে কোমল করে তোলার পাশাপাশি খুশকিও দূর করে দিবে।

৭। শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করতে ভুলবেন না। আপনি চাইলে প্রাকৃতিক কন্ডিশনারও ব্যবহার করতে পারেন। চায়ের লিকার এবং লেবুর রস এক্ষেত্রে ভাল কাজে দিবে।

৮। চুল ধোয়ার পর টাওয়েল দিয়ে জোরে জোরে ঘষবেন না। এটি আপনার চুলের গোড়া দুর্বল করে দিবে। টাওয়াল দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে চুল থেকে পানি মুছে ফেলবেন।

 

চুল ধোয়ার পরে যা যা করনীয়

চায়ের লিকার থেরাপি

ঝলমলে চুলের জন্য দারুণ কাজ করে চায়ের লিকার। চুল যেমনি হোক না কেন তৈলাক্ত, শুষ্ক বা স্বাভাবিক- এই চায়ের লিকার মানিয়ে যাবে খুব সহজে। এটা তৈরির জন্য দুই কাপ পানি নিতে হবে। তার মাঝে ৬ টেবিল চামচ ফ্রেশ চা পাতা দিয়ে। এটাকে এখন অল্প আঁচে চুলায় ফুটতে দিতে হবে। ফুটে ফুটে লিকার ঘন হবে। এবং দুই কাপ পানি কমে এক কাপের কম হলে বুঝবেন যে রেডি হয়েছে। এখন এটাকে ঠাণ্ডা করে ছেঁকে নিয়ে। শ্যাম্পু করার পর ভেজা চুলে এই মিশ্রণ মাখতে হবে। ৫ মিনিট পর সাধারণ পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে।

 

ভিনেগারে চুলের চমক

শ্যাম্পু করার পরে ভিনেগার মেশানো পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। আধা কাপ ভিনেগার এক মগ পানিতে মিশিয়ে নিয়ে। তারপর সেটা দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। ৫ মিনিট পর আবার একটু স্বাভাবিক পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। শুকিয়ে গেলেই পাবেন ঝলমলে চুল।

 

বেকিং সোডায় উজ্জ্বল চুল

নিস্প্রান চুলকে ঝলমলে করে তুলতে বেকিং সোডার কোন বিকল্প নেই। এ কাপ হালকা গরম পানির মাঝে ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিয়ে। শ্যাম্পু করা ভেজা চুলে এই মিশ্রণ লাগাতে হবে। ৫ মিনিট পর চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। এবার চুলের চমক দেখে নিজেই অবাক হয়ে যাবেন।

 

চাল ধোয়া পানিতে ঝলমল চুল

চুলের কন্ডিশনার হিসেবে খুবই ভাল চাল ধোয়া পানি। ভাল করে চুলে শ্যাম্পু করে। এর পর কন্ডিশনারের মতো চুলে চাল ধোয়া পানি লাগাতে হবে। কয়েক মিনিট রেখে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। চালের প্রোটিন চুল ভাল রাখবে। এবং চুল ঝলমল হবে।

 

ঝলমল সুন্দর চুল পেতে চাইলে যে সকল বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে

১। কমপক্ষে তিন দিন পর পর চুল পরিষ্কার করতে হবে, তা না হলে ত্বকে ময়লা জমে খুশকি হতে পারে।

২। চুল অতিরিক্ত ধোয়া ঠিক নয়, এতে মাথার ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল নিঃসরিত হয় ও চুল চিটচিটে করে তোলে।

৩। আপনার চুলের জন্য উপযোগী একটি শ্যাম্পু নির্দিষ্ট করে নিবেন, তবে অবশ্যই যেন তা আপনার চুলকে কার্যকর ভাবে পরিষ্কার করে। চুলকে নরম, মসৃন ও ময়েশ্চারাইজ করে এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন।

৪। শ্যাম্পু করার পূর্বে সম্পূর্ন চুল পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে, এরপর শ্যাম্পু দিতে হবে। ধীরে ধীরে শ্যাম্পু পুরো চুলে এবং মাথার ত্বকে মেখে নিয়ে। এরপর ভালো ভাবে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। খেয়াল রাখবেন শ্যাম্পু যেন চুলে বা মাথার ত্বকে লেগে না থাকে। মাথার ত্বক পরিষ্কারের জন্য আঙ্গুল ব্যবহার করবেন, নখ নয়।

৫। প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর একটি ভালো কন্ডিশনার ব্যবহার অবশ্যক। কন্ডিশনার চুলকে ভেঙ্গে যাওয়া, রুক্ষ হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। চুলকে জটহীন, নরম, মসৃণ ও আকর্ষনীয় করে তুলতে কন্ডিশনার খুবই জরুরী। আপনার চুলের উপযোগী একটি কন্ডিশনার বেঁছে নিবেন। কন্ডিশনার না দিলে প্রাকৃতিক উপাদান দিবেন। কিন্তু দিবেন অবশ্যই।

৬। প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য হলেও আপনার মাথার ত্বক ম্যাসাজ করবেন। এর ফলে মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পাবে, ত্বকের মৃত কোষ ও খুশকি দূর হবে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে।

৭। চুলের মলিনতা ও রুক্ষতা দূর করতে সপ্তাহে একদিন চুলে উষ্ণ তেল ম্যাসাজ করবেন। এটি চুল ঝরে যাওয়া প্রতিরোধ করে। নারকেল, জলপাই অথবা বাদাম তেল হালকা গরম করে আঙ্গুলের সাহায্যে পুরো মাথায় চক্রাকারে ম্যাসাজ করে। কয়েক ঘন্টা অথবা পুরো রাত অপেক্ষা করে, তারপর শ্যাম্পু করে ফেলতে হবে।

৮। মোটা দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করবেন। সম্ভব হলে নরম দাঁতের চিরুনি।

৯। ঘরের বাইরে যাওয়ার আগে চুলে একটি স্কার্ফ পেচিয়ে নিবেন। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি চুলের স্বাভাবিক রঙ ও উজ্জ্বলতা নষ্ট করে ফেলে। এটি আপনার চুলকে ধূলো ও ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করবে।

১০। চুলের ধরন তৈলাক্ত হলে, শ্যাম্পু করার পর এক মগ পানিতে খানিকটা লেবুর রস অথবা খানিকটা ভিনেগার মিশিয়ে পুরো চুল ধুয়ে ফেলবেন। চুল ঝলমলে ও উজ্জ্বল দেখাবে।

১১। যাদের সুইমিং পুলে সাঁতারের বা ব্যায়াম করার অভ্যাস আছে, তারা নিয়মিত চুলে শ্যাম্পু করবেন। এক্ষেত্রে একটি হালকা শ্যাম্পু বেঁছে নিবেন যেন তা আপনার চুলকে কার্যকর ভাবে পরিষ্কার করে ও ময়েশ্চারাইজ করে। শ্যাম্পু করার পর একটি ভালো মানের হালকা কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন।

১২। চুলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে সপ্তাহে এক দিন আপনার চুলের উপযোগী একটি হেয়ার প্যাক ব্যবহার করবেন।

১৩। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করবেন। আপনার চুলের সঠিক সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য এটি সর্বোচ্চ উত্তম উপায়।

 

চুলের যত্নে কিছু বর্জনীয়

১। চুলে অতিরিক্ত চিরুনি করা বা ব্রাশ করা থেকে বিরত থাকবেন।

২। চুলে কখনই সাবান ব্যবহার করবেন না। কারণ সাবানের ক্ষার চুলকে রুক্ষ করে। শ্যাম্পুই উৎকৃষ্ট।

৩। কন্ডিশনারযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার কর্বেন। এটি চুলকে ময়েশ্চারাইজ করবে। তবে অবশ্যই শ্যাম্পু করার পর আলাদা করে কন্ডিশনার ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

৪। চুলের ধরন তৈলাক্ত হলে হালকা ধরনের কন্ডিশনার ব্যবহার করা ভালো। মাথার ত্বকে কন্ডিশনার ব্যবহার করা উচিত নয়।

৫। শ্যাম্পু করার পর চুলে চিরুনি করা বা ব্রাশ করা থেকে বিরত থাকবেন। এতে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায় ও চুল পড়তে পারে।

৬। স্বাভাবিক উপায়ে চুল শুকাতে হবে। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করবেন না।

 

2955 views

Related Questions