3 Answers
চুল ঘন করার দুটি উপায় :
সাধারণত চুলে সরিষার তেল একেবারেই ব্যবহার করা হয় না। কিন্তু সরিষার তেল চুলের গোঁড়া মজবুত করে তুলতে বিশেষ ভাবে কার্যকর একটি উপাদান, যা চুল পড়া রোধ করে দেবে একেবারে। এর পাশাপাশি মেহেদী পাতা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। ফলে চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় বেশ কয়েকগুন।
পদ্ধতিঃ ২০০ গ্রাম সরিষার তেল একটি পাত্রে নিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন। এবার এতে ১ কাপ পরিমাণ মেহেদী তাজা পাতা দিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন। যখন দেখবেন মেহেদী পাতা পুড়ে কালো হয়ে গিয়েছে তখন তা চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে ঠাণ্ডা করে নিন। একটি এয়ার টাইট বোতলে এই তেল সংরক্ষণ করুন। এই তেল সপ্তাহে ৩ দিন চুলে লাগান। সব চাইতে ভালো ফল পাবেন সারারাত চুলে তেল লাগিয়ে রেখে সকালে সাধারণভাবে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেললে।
ডিম ও অলিভ অয়েল
চুলের ঘনত্ব ব্রদ্ধির জন্য ডিম ব্যবহার হয়ে আসছে অনেক প্রাচীন কাল থেকেই। ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন যা চুল পরা রোধ করে। এছাড়া ডিমে আরও রয়েছে সালফার, জিংক, আয়রন, সেলেনিয়াম, ফসফরাস ও আয়োডিন যা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে চুলের ঘনত্ব বাড়ায়।
পদ্ধতিঃ একটি বাটিতে একটি ডিমের সাদা অংশ নিন। এতে ১ চা চামচ অলিভ অয়েল(জলপাই তেল) ও ১ চা চামচ মধু নিন( চুলের দৈর্ঘ্য ও পরিমাণ অনুযায়ী অলিভ অয়েল ও মধুর পরিমাণ বাড়াতে পারেন)। তারপর উপকরণগুলো খুব ভালো করে মেশান। যখন এটি মসৃণ পেস্টের আকার ধারন করবে তখন এত ব্যবহার উপযোগী হবে। মসৃণ পেস্টের মত হয়ে গেলে মাথার ত্বকে আলতো ঘষে মিশ্রণটি লাগিয়ে ফেলুন। ২০ মিনিট পর প্রথমে ঠাণ্ডা পানি ও পরে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত ১ বার এটি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। ভালো ফল পাবেন।
চুলের যত্নে সবচেয়ে বেশি উপকারী হচ্ছে তেল। তেল বলতে সাধারণত আমরা নারিকেল তেলকেই বুঝে থাকি। তবে চুল ঘন করার জন্য কিছু তেলের মিশ্রণ ব্যবহার করলে কার্যকরী ফল পাবেন।
১. আমণ্ড অয়েল ও ক্যাস্টর অয়েল
২. তিলের তেল ও সরিষার তেল
৩. অলিভ অয়েল ও ক্যাস্টর অয়েল
* রাতে ঘুমানোর আগে এই তেলের মিশ্রণ হালকা গরম করে মাথার তালুতে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। চুলের প্রতিটি গোঁড়ায় যেন তেল পৌঁছায় সেজন্য একটু সময় নিয়ে দিবেন। যদি সারারাত রাখা সম্ভব না হয় তাহলে গোসলের ১ ঘণ্টা আগে চুলে তেল দিয়ে তারপর শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে ২ বার করুন। দেখবেন ১ মাসের মধ্যেই চুল পড়া বন্ধ হয়ে চুলের পাতলা ভাব কমে আসবে।
পেঁয়াজঃ
নতুন চুল গজাতে পেঁয়াজ খুবই উপকারী। যাদের চুল পরে যাচ্ছে তারা সপ্তাহে ২-৩ বার চুলে পেঁয়াজের রস ব্যবহার করুন।
অ্যালোভেরাঃ
অ্যালোভেরা থেকে জেল বের করে নিন। ৪ চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে চুলের প্রতিটি গোঁড়ায় লাগিয়ে নিন। চুল ঘন করার সাথে এটি আপনার চুলের আগা ফেটে যাওয়াও রোধ করবে।
ডিমঃ
ডিমে আছে প্রোটিন যা চুলের গোঁড়ায় পৌঁছে পুষ্টি যোগায় এবং চুল ঘন হতে সাহায্য করে। একটি ডিমের সাদা অংশ নিয়ে ভালো ভাবে ফেটিয়ে নিন। তারপর পরিষ্কার চুলে হাত অথবা ব্রাশের সাহায্যে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত লাগাতে হবে। তারপর একটি মোটা দাঁতের চিরুনির সাহায্যে সাবধানে চুল আঁচড়ে নিন। ২০-৩০ মিনিট রেখে নরমাল পানিতে শ্যাম্পু করে নিন।
যেদিন চুলে ডিম দিবেন সেদিন আর কন্ডিশনার দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এভাবে সপ্তাহে ১ বার করুন।
মধুঃ
মাথার ত্বকের জন্য খুব ভালো ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে মধু। তবে চুলে ব্যবহারের ক্ষেত্রে মধু খুবই আঠালো, সেজন্য খুব অল্প পরিমাণে (৪-৫ চামচ এর বেশি না) মধু নিয়ে চুলের গোঁড়ায় ব্যবহার করুন। ১৫ মিনিট রেখে দিন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
পাতলা চুল ঘন ও কালো করার উপায়ঃ ডিম ও মধুর হেয়ার প্যাকঃ একটি ডিমের সাদা অংশ, ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল ও ১ টেবিল চামচ মধু একটি বাটিতে নিয়ে খুব ভালো করে মেশান। একটি মসৃণ মিশ্রণ না হওয়া পর্যন্ত মেশাতে থাকুন। এরপর এটি চুলের গোড়ায় খুব ভালো করে লাগিয়ে নিন। ২০ মিনিট রাখুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২/৩ বার ব্যাবহারে ভালো ফল পাবেন।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy