সন্তানকে ভালো রাখার চেষ্টা সব বাবা-মাই করেন। সন্তান যেন বড় হয়ে মানুষের মতো মানুষ হয় সেই চেষ্টাই সকল অভিভাবকের থাকে। বাবা-মা তাঁদের জীবনের অনেকটা সময়ই সন্তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার পিছনে ব্যয় করে থাকেন। কিন্তু তারপরেও থেকে যায় সমস্যা। হয়তো সন্তান বাবা-মাকে বুঝতে পারেনা কিংবা বাবা-মা সন্তানকে বুঝতে পারেন না। বাবা-মায়ের বছরের পর বছর করে যাওয়া কষ্ট অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়, আবার বাবা-মাও সন্তানের প্রতি অতি প্রত্যাশা বেঁধে রাখেন বাস্তবিকতার গণ্ডি না বুঝেই। তাই সন্তান নিয়ে সকল সমস্যা সামলাতে কি করা উচিত?
2847 views

1 Answers

কিছু সাধারণ নিয়ম

১। সন্তানকে সবসময় একক মানুষ হিসেবে ট্রিট করুন। সে একটু বড় হলেই তার মতামতের গুরুত্ব দিন। নিজের মতামত জোর করে তার উপর চাপিয়ে দিলে ফল ভালো হয় না।

২। সন্তানের অসাফল্য নিজের দোষ হিসেবে ধরে হতাশায় ভুগবেন না। বরং এ থেকে সন্তানকে শিক্ষা নিতে শেখান। আনন্দের সাথে সাথে দুঃখ, কষ্টও যে জীবনের অঙ্গ সেটা যেন সন্তান বুঝতে পারে।

৩। সন্তানকে কতটা ছাড়বেন আর কতটা ধরে রাখবেন সেটা আন্দাজ করাটা খুব জরুরি। প্রচণ্ড শাসন বা আদর কোনটাই সন্তানের পক্ষে ভালো নয়।

৪। জীবন সম্পূর্ণভাবে সন্তানকেন্দ্রিক করে তুলবেন না। তাহলে সম্পর্কে একটা দমবন্ধকর ভাব আসবেই। খুব বেশি নজরদারি নয়। যথাযথ বন্ধনই সম্পর্ককে সমৃদ্ধ করবে।

৫। যদি আপনি কর্মজীবী নারী হন, তাহলে শুধু সন্তানের জন্য চাকরি ছাড়বেন না। সব দিক দিয়ে সমান ভাবে খেয়াল রাখা কষ্ট হলেও ব্যালেন্স করার চেষ্টা করুন। না হলে পরবর্তী জীবনে হতাশাগ্রস্থ হতে পারেন।

৬। দাম্পত্য বা সাংসারিক জটিলতায় সন্তানকে টানবেন না। ওর সহজ সরল চিন্তা-ভাবনাকে জটিল করে দিলে নিজেই সন্তানের চোখে ছোট হয়ে যাবেন। গুরুজনদের প্রাপ্য সম্মান ও কখনোই দিতে শিখবে না।

৭। পড়াশোনা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পড়াশোনার নিরিখে সন্তানকে সব সময় বিচার করা কিন্তু অন্যায়। পড়াশোনা ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ে আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করুন। নিয়মিত খেলার সুযোগও অবশ্যই দেবেন।

তথ্যঃ সানন্দা, সায়কোথেরাপিস্ট জলি লাহা ও মনোবিদ শ্রীতমা ঘোষ

2847 views

Related Questions