1 Answers
কল্পনা চাকমা চাকমা নৃগোষ্ঠীর এবং সোমা আপাং গারো নৃগোষ্ঠীর সদস্য। স্বাভাবিকভাবেই এ দুই নৃগোষ্ঠীর সমাজকাঠামো ভিন্ন ধরনের। এ কারণে প্রশ্নোক্ত বক্তব্যের সাথে আমি সহমত পোষণ করি।
সুপ্রাচীন কাল থেকেই চাকমা সমাজের প্রধান হলেন চাকমা রাজা। চাকমা সমাজের যেকোনো বিষয়ে তার মতামতই চূড়ান্ত বলে গণ্য। চাকমা পরিবার পিতৃতান্ত্রিক। অর্থাৎ- পরিবারের সব বিষয়ে পিতার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য। চাকমারা সাধারণত জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল। তবে বর্তমানে তারা হালচাষ পদ্ধতি শিখেছে। দুই পাহাড়ের সমতল অংশে তারা ধান চাষ করে থাকে। চাকমা সমাজে প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে একক বিবাহ প্রথা বিদ্যমান। বহু বিবাহ যদিও অনুমোদিত তবে তা দিন দিন কমে আসছে। চাকমা বিয়েতে যৌতুক দেওয়া-নেওয়ার প্রচলন রয়েছে। চাকমারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হলেও তাদের ধর্মীয় উৎসবে সনাতন ধর্মের প্রভাবও লক্ষ করা যায়। অন্যদিকে গারো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজব্যবস্থা মাতৃস্থানীয়। এ সমাজ ব্যবস্থায় সম্পত্তির উত্তরাধিকার মাতৃসূত্রে মেয়েতে বর্তায়। গারোরা সাধারণত কৃষির ওপর নির্ভরশীল। গারো সমাজ ব্যবস্থায় যুগল বিবাহ রীতি বেশি লক্ষ করা যায়। তবে বহু স্ত্রী বিবাহও পরিলক্ষিত হয়। গারো বিয়েতে কোনো যৌতুকের প্রচলন নেই। বাংলাদেশে বসবাসরত গারোদের ৯০% ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টান। বাকিরা ঐতিহ্যবাহী 'সাংসারেক' ধর্মের অনুসারী।
উপরের তুলনামূলক আলোচনায় সহজেই বোঝা যায় যে, চাকমা ও গারো সমাজব্যবস্থার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ- এই দুই নৃগোষ্ঠীর সমাজকাঠামো ভিন্ন ধরনের। সুতরাং প্রশ্নোক্ত বক্তব্যকে আমি সমর্থন করি।