1 Answers
দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে জনাব হারুন ও জুয়েল একই কর্তব্য পালন করেননি। জনাব হারুন নৈতিক কর্তব্য এবং জনাব জুয়েল আইনগত কর্তব্য পালন করেছেন।
যেসব কর্তব্য মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে পালন করা হয় সেগুলোকে নৈতিক কর্তব্য বলা হয়। নিজে শিক্ষিত হওয়া এবং সন্তানদের শিক্ষিত করা, সততার সাথে ভোট দান, রাষ্ট্রের সেবা করা এবং বিশ্বমানবতার সাহায্যে এগিয়ে আসা নৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত। হারুন সাহেবের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তিনি সমাজের মানুষের বিপদ-আপদে এগিয়ে আসেন, প্রতিবেশী দরিদ্র মেধাবী ছাত্রের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেন, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এ কাজগুলো করার মাধ্যমে জনাব হারুন নৈতিক কর্তব্য পালন করেন। তাকে কেউ এসব দায়িত্ব পালনে বাধ্য করেনি। নৈতিকতাবোধ থেকেই তিনি কাজগুলো করেন।
রাষ্ট্রের আইন দ্বারা আরোপিত কর্তব্যকে আইনগত কর্তব্য বলা হয়। রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, আইন মেনে চলা ও কর প্রদান করা প্রভৃতি নাগরিকের আইনগত কর্তব্য। নাগরিকদের আইনগত কর্তব্য অবশ্যই পালন করতে হয়। এ আইন অমান্য করলে অথবা তা পালনে ব্যর্থ হলে শাস্তির বিধান রয়েছে। জুয়েল সাহেবের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তিনি একটি সংগঠনের প্রধান। তিনি সময়মত কর্মস্থলে যান এবং সকল বিষয় দেখাশোনা করেন। এ থেকে বোঝা যায়, তিনি আইনগত কর্তব্য পালন করেন। কারণ তিনি সময়মত অফিসে না গেলে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ম অনুযায়ী তাকে জবাবদিহি করতে হবে। আবার দায়িত্বে অবহেলার কারণে তাকে চাকরি থেকে অপসারিত করা হতে পারে। এ কারণেই তিনি অফিসের নিয়ম-নীতি যথাযথভাবে মেনে চলেন।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, জনাব হারুন ও জনাব জুয়েলের কর্তব্য পালনের ধরন ভিন্ন।