1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত শহিদ যুবকটির সাথে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় স্বৈরশাসক এরশাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের মিল পাওয়া যায়।
লে. জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮২ সালে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। তার শাসনামলে সরকারি টেলিভিশন, রেডিও, সংবাদপত্রে উন্নয়ন কর্মকান্ডের ব্যাপক প্রচারণা চালানো হলেও সামগ্রিকভাবে এ সময় দেশের অর্থনৈতিক ভিত ভেঙে পড়ে। প্রকৃত উন্নয়ন না হওয়ার প্রধান কারণ ছিল দুর্নীতি আর সীমাহীন লুটপাট। খাদ্য উৎপাদন, জিডিপি, গড় প্রবৃদ্ধি সব ছিল নিম্নগামী। ঋণখেলাপি সংস্কৃতিতে সামরিক-বেসামরিক আমলা ও দলছুট রাজনীতিবিদরা লাভবান হয়েছেন। দীর্ঘ নয় বছরের পুরো সময়টাই জনগণ তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর বুকে ও পিঠে 'গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক' লেখাসহ জিরো পয়েন্টে পুলিশের গুলিতে নূর হোসেন নিহত হন। এতে জনগণ আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। অবশেষে ১৯৯০ সালে এক গণ- অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, 'ক' নামক একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কিছু ক্ষমতালিন্স সেনা সদস্য ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়ে সামরিক আইন চালু করে। সামরিক স্বৈরাচারী সরকারকে উৎখাত করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে দেশের ছাত্র, শিক্ষক, জনতা মিছিল বের করে। তাদের মধ্যে এক যুবক নিজের বুকে ও পিঠে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান লিখে মিছিলে যোগ দেয়। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশের গুলিতে সেই যুবক অকালে প্রাণ হারায়। এ ঘটনা স্বৈরশাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও দেখা যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শহিদ যুবকটির সাথে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় স্বৈরশাসক লে. জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মিল পাওয়া যায়।