1 Answers

উদ্দীপকের অবস্থাটি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতাকে নির্দেশ করে যার প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও পরিকল্পিতভাবে দেশ গঠন করেছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সরকার কাজ শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এ সরকার দেশ পরিচালনার জন্য প্রথমে একটি সংবিধান তৈরি করে যার অন্যতম মূলনীতি ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা। এ নীতির আলোকে বঙ্গবন্ধু দেশকে জাতি, ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদহীন অসাম্প্রদায়িক দেশে পরিণত করেন এবং সকলের জন্য সম অধিকার ভোগের নিশ্চয়তা প্রদান করেন। এ সংবিধানে মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো সংরক্ষণ করা হয়। রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ড সফলভাবে পরিচালনার জন্য বঙ্গবন্ধু যোগ্যতা অনুযায়ী লোক নিয়োগের ঘোষণা দেন। দেশের জনগণকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি সারাদেশে ৯০০ কলেজ ভবন ও ৪০০ হাইস্কুল পুনর্নিমাণ করেন। প্রায় ৩৮ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন। এসব স্কুলে কর্মরত ১ লক্ষ ৬৫ হাজার শিক্ষকের চাকরিও সরকারি করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের বকেয়া ৯ মাসের বেতন পরিশোধ করেন। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে স্বায়ত্তশাসন প্রদানের জন্য সংসদে ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করেন পাশাপাশি কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নতি সাধন করেন। তিনি কৃষকদের খাজনা মওকুফ ও তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। এছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত রাস্তা-ঘাট ও সেতুগুলো সংস্কার করেন যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। এভাবে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে থাকে। মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনকালেই তিনি এদেশের বৈপ্লবিক উন্নতি সাধন করেন।

উদ্দীপকে পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে বর্বরতা ও ব্যাপক ধ্বংসলীলার চিত্র ফুটে উঠেছে। এই ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু উপরে আলোচিত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করেছিলেন।
পরিশেষে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু খুবই পরিকল্পিতভাবে দেশ গঠন করেছিলেন, যা তৎকালীন পরিস্থিতিতে তার দূরদর্শিতার পরিচয় তুলে ধরে।

4 views

Related Questions