1 Answers
উদ্দীপকের শেষাংশটি অর্থাৎ বিভিন্ন প্রকার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ছিল আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের প্রধান কারণ- মন্তব্যটি যথার্থ।
১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানকে বিভিন্নভাবে শোষণ করতে শুরু করে। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক, সাংস্কৃতিকসহ সকল ক্ষেত্রে পূর্ব বাংলার মানুষ বৈষম্যের শিকার হতে থাকে। দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালিরা এ শোষণের হাত থেকে মুক্তি লাভ করে।
পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর পরই প্রধান প্রশ্ন হয়ে ওঠে রাষ্ট্রভাষা। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠের মুখের ভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেয়। বাঙালিরা প্রতিবাদী হয়ে উঠে প্রাণের বিনিময়ে বাংলাকে দেশের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়। এটি ছিল পূর্ব পাকিস্তানিদের প্রতিরোধের প্রথম দৃষ্টান্ত। তখন পাকিস্তান সরকারের প্রায় সকল উচ্চপদে পশ্চিম পাকিস্তানিরা একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করত। ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের মন্ত্রণালয়গুলোতে শীর্ষস্থানীয় ৯৫৪ জন কর্মকর্তার মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ১১৯ জন। এটি ছিল বাঙালিদের প্রতি প্রশাসনিক বৈষম্যের দৃষ্টান্ত। অর্থনৈতিক দিক থেকেও পূর্ব পাকিস্তান চরম বৈষম্যের শিকার হয়। সরকারি বাজেটের সিংহভাগই পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় হতে থাকে। বৈদেশিক সাহায্য ও রপ্তানি আয়ের উল্লেখযোগ্য বড় অংশই যেতো পশ্চিমে। বাঙালিদের ক্ষোভ চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে যখন তাদের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ ১৯৬৮ সালের আগরতলা মামলা, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের কথা বলা যায়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও তাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে পাকিস্তানিরা অনীহা প্রকাশ করে। অবশেষে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালিরা পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় এবং স্বাধীনতা অর্জন করে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ক্রমাগত শোষণ ও বৈষম্যের প্রতি পুঞ্জীভূত ক্ষোভের ফলেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।