1 Answers
১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম। কেননা ইতিপূর্বে স্বাধীনতা তথা ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এ ধরনের সম্মিলিত প্রয়াস লক্ষ করা যায়নি।
পলাশি যুদ্ধের পর ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অপ্রতিরোধ্য গতিতে তাদের ক্ষমতার বিস্তার ঘটাতে থাকে। পরবর্তী একশ বছর কার্যত ইংরেজদের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলন, সংগ্রাম, প্রতিরোধ হয়নি। ১৮৫৭ সালে সংঘটিত এ বিদ্রোহকে তাই ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে প্রধানত সিপাহিদের নেতৃত্বে সিপাহি বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিকভাবে হেয় করা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা সর্বোপরি ভারতীয় সৈনিকদের প্রতি বৈষম্য উপমহাদেশের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
এ বিদ্রোহকে আমরা ভারতের ১ম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলতে পারি কারণ- ইংরেজ কোম্পানির দীর্ঘকালের শোষণ ও শাসনের বিরুদ্ধে এ বিদ্রোহ ছিল ভারতবর্ষের বুকে জনগণের প্রথম প্রতিবাদ। বিদ্রোহীরা ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটাতে চেয়েছিলেন। ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ এ বিদ্রোহের সূচনা করেন মঙ্গল পান্ডে। দ্রুত এ বিদ্রোহ মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, বিহার, বাংলাসহ ভারতের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি বিদ্রোহীরা দিল্লি দখল করে দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ভারতের সম্রাট ঘোষণা করেছিলেন। সর্বোপরি ইংরেজ বিরোধী এত ব্যাপক আন্দোলন ভারতে এর আগে আর হয়নি।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তথা ইংরেজ শক্তির বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রথম বৃহৎ সশস্ত্র বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার কারণেই একে ভারতবর্ষের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম হিসেবে অভিহিত করা হয়।