1 Answers

হ্যাঁ, উদ্দীপকের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বঙ্গবন্ধুর আন্দোলনের প্রতিফলন ঘটেছে বলে আমি মনে করি।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারাজীবনব্যাপী বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করেছেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলন- সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদান অবিস্মরণীয়। বৈষম্যের বিরুদ্ধে ও ন্যায়ের পক্ষে সংগ্রামে তিনি ছিলেন অনমনীয় যোদ্ধা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা দীর্ঘ সংগ্রাম করেছেন বৈষম্যের বিরুদ্ধে ও ন্যায়ের পক্ষে। এ জন্য তাকে দীর্ঘদিন কারাবাস করতে হয়। তেমনিভাবে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলার সব আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্রসৈনিক। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের জন্য প্রথম দিকে যাদেরকে গ্রেফতার করা হয় তখনকার টগবগে যুবক নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের অন্যতম। পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ থেকে এদেশবাসীকে মুক্ত করার জন্য তিনি ১৯৬৬ সালে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৬৮ সালে পাকিস্তানি সরকার তাকে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলায় অভিযুক্ত করে বিচার শুরু করে। কিন্তু '৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের প্রবল চাপে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বিপুলভাবে জয়ী হয়। কিন্তু এ ফলাফল না মেনে নিয়ে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালিদের ওপর হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। এর আগেই বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে কৌশলে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানিরা গণহত্যা শুরু করার পর তিনি ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। কিছু পরে পাকিস্তানি সেনারা তাকে গ্রেপ্তার করে। আবার তাকে পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে ভরা হয়। এরকম আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে বঙ্গবন্ধু সারাজীবনব্যাপী বিভিন্ন মেয়াদে জেল খেটেছেন। উদ্দীপকে এ বিষয়টির প্রতিই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত নেলসন ম্যান্ডেলার জীবনকাহিনীতে বঙ্গবন্ধুর আন্দোলনের প্রতিফলন ঘটেছে।

5 views

Related Questions