1 Answers
জীব সম্প্রদায়, পরিবেশের জড় পদার্থ এবং ভৌত পরিবেশের ভিতর আন্তঃসম্পর্ক ও পারস্পরিক ক্রিয়াই হলো বাস্তুতন্ত্র। বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা রক্ষায় জীববৈচিত্র্যের প্রভাব অনেক। জীববৈচিত্র্যের সকল উপাদানই কমবেশি একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। একটি সপুষ্পক উদ্ভিদ পর- পরাগায়নের জন্য কীটপতঙ্গের উপর এবং বীজ বিসরণের জন্য পশু- পাখির উপর নির্ভরশীল। জীবকুল অক্সিজেনের জন্য আবার সবুজ উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল। এক কথায় বলা যায় পারস্পরিক সংযোগ ও নির্ভরশীলতাই জীবনক্রিয়া পরিচালনার চাবিকাঠি। লক্ষ লক্ষ প্রজাতির উদ্ভিদ, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, মানুষ ইত্যাদি নিয়ে গড়ে উঠা জীববৈচিত্র্যের মধ্যে পারস্পরিক আত্মনির্ভরশীলতার উপর ভিত্তি করে দাড়িয়ে আছে মানবজাতির কল্যাণ এবং অস্তিত্ব। মানুষ ছাড়াই জীববৈচিত্র্য টিকে থাকতে পারবে কিন্তু জীববৈচিত্র্য না টিকলে মানুষ টিকে থাকতে পারবে না। বাস্তুতন্ত্রের খাদ্য-খাদক সম্পর্ক জীবজগতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য-খাদক সম্পর্কের মাধ্যমেই প্রকৃতিতে জীবজগৎ টিকে আছে। পরিবেশের উপাদানগুলোর উপর মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো যেমন- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ঔষধ, জ্বালানি, পানিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণাদি ইত্যাদি নির্ভরশীল। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা না হলে মানুষের টিকে থাকা হুমকীর সম্মুখীন হয়ে পড়তো।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পরিবেশের বিভিন্ন জীবের মিথস্ক্রিয়া ও আত্মনির্ভরশীলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং স্থিতিশীলতা রক্ষা করে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে আলোচিত বিষয়াবলীর মধ্যে পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ক মানব অস্তিত্ব রক্ষার্থে ভূমিকা পালন করে।