1 Answers
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল বলে আমি মনে করি না।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে জমির সঠিক জরিপের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় নিষ্কর জমির উপর বেশি রাজস্ব ধার্য করা হতো। আর জমির সীমা নির্ধারিত না থাকায় পরবর্তীকালে মামলা বিবাদ দেখা দিত। উপমহাদেশে জমি ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। ফলে অনেক সাধারণ মানুষ কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করে প্রচুর অর্থের মালিক হয়।
তারা জমিদারি কিনে আভিজাত্যের মর্যাদালাভে ব্যস্ত হয়ে উঠে। ফলে দেশীয় পুঁজি, দেশীয় শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনা ধ্বংস হয়ে যায়। চিরস্থায়ী বন্দোবন্ডের ফলে জমিদারের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়। তারা ধীরে ধীরে ধনী শ্রেণিতে পরিণত হয়। কিন্তু অপর দিকে জমিতে প্রজাদের পুরোনো স্বত্ব সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়। ফলে জমিদার ইচ্ছা করলেই যে কোনো সময় তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করতে পারত। এছাড়াও এই ব্যবস্থায় জমিদারদের নায়েব-গোমস্তাদের অত্যাচারে প্রজারা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। ফলে জমির উৎপাদন কমে যেতে থাকে। গ্রামের অর্থনৈতিক অবস্থাও খারাপ হতে থাকে।
তাই বলা যায় যে, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের দ্বারা অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষা হয় নি।