1 Answers
উদ্দীপকে জাতীয় সম্পদের দুটি উৎসকে নির্দেশ করা হয়েছে। পাঠ্যবইয়ের আলোকে জানা যায়, জাতীয় সম্পদের উৎস প্রধানত দুটি। প্রথমটি প্রকৃতিপ্রদত্ত। কোনো দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভিতরের ভূমি, ভূমির উপরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরস্থ যা কিছু সবই প্রকৃতির দান। প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বনের গাছপালা, ফলমূল, প্রাণী, পাখিকুল, নদনদী ও প্রাকৃতিক জলাশয় এবং এগুলোর মৎস্য সম্পদ, অন্যান্য জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ, ভূমির অভ্যন্তরস্থ পানি ও সকল রকম খনিজ সম্পদ এসবই প্রকৃতিপ্রদত্ত জাতীয় সম্পদ। জাতীয় সম্পদের দ্বিতীয় উৎসটি মানবসৃষ্ট। কোনো দেশের অধিবাসীরা তাদের শ্রম ও মূলধনের সাহায্যে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার, সংগ্রহ ও উত্তোলন করে, সেগুলোর রূপান্তর বা স্থানান্তর করে নতুন সম্পদ সৃষ্টি করে। যেমন- মানুষ ভূমি আবাদ করে শস্য, ফল, ফুল, গাছপালা উৎপাদন করে। জলাশয়ে মাছ চাষ করে খনিজ সম্পদ উত্তোলন করে ব্যবহারোপযোগী করে। এছাড়া ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে বা সরকারের অর্থ পরিচালনার রাস্তাঘাট, কলকারখানা, যন্ত্রপাতি, যানবাহন, বাঁধ ও সেতু, নানারকম স্থাপনা নির্মাণ করে নানারকম শিল্পদ্রব্য উৎপাদন করে।
উদ্দীপকে মি. থমসনের দেশের ভূগর্ভে যে খনিজ সম্পদ রয়েছে সেগুলো প্রকৃতি প্রদত্ত জাতীয় সম্পদ এবং দেশটির মানুষের ফুলের চাষ করে অর্থ উপার্জন করা মানবসৃষ্ট সম্পদকে নির্দেশ করছে। এভাবে যেকোনো দেশের নাগরিকেরা সারা বছরব্যাপী নানারকম অর্থনৈতিক দ্রব্য ও সেবা অর্থাৎ সম্পদ সৃষ্টির কাজে নিয়োজিত থাকে। উপরিউক্ত আলোচনার পরিশেষে উদ্দীপক এবং পাঠ্যপুস্তকের আলোকে তাই বলা যায়, জাতীয় সম্পদের উৎস দুটি।