1 Answers
জনাব মোজাফফর সাহেবের বক্তব্যে গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। গণতন্ত্র সাধারণ দুটি পদ্ধতিতে কার্যকর হয়। যথা- ১. প্রত্যক্ষ বা বিশুদ্ধ গণতন্ত্র ও ২. পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। যে শাসনব্যবস্থায় নাগরিকগণ প্রত্যক্ষ বা সরাসরিভাবে কার্য পরিচালনায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায় তাকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বলা হয়ে থাকে। প্রাচীন গ্রিসের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নগররাষ্ট্রগুলোতে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র প্রচলিত ছিল। রাষ্ট্রের সকল নাগরিক আইন প্রণয়ন, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কর ধার্য, বিচারকার্য পরিচালনাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সরাসরি অংশগ্রহণ করত। তবে সে সময় নাগরিকের ধারণা সীমাবদ্ধ ছিল। রাষ্ট্রের সকলেই নাগরিকত্বের সম্মান পেত না। আধুনিক রাষ্ট্র আয়তনে বিশাল, জনসংখ্যাও বেশি। তাই প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র চর্চা করার উপায় নেই। তবে সুইজারল্যান্ডের কয়েকটি অঞ্চলে আংশিকভাবে এখনো প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের ব্যবস্থা চালু আছে। পরোক্ষ গণতন্ত্র বলতে সাধারণ নাগরিকগণ সরকারি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করার পদ্ধতিকেই বোঝায়। পরোক্ষ গণতন্ত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই আইন প্রণয়নসহ শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রই প্রচলিত রয়েছে।
সুতরাং উল্লিখিত আলোচনা এবং উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, মোজাফ্ফর সাহেবের ধারণা দুটি পদ্ধতিতে কার্যকর হয় প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র এবং পরোক্ষ গণতন্ত্র।