1 Answers

উদ্দীপকে প্রতিফলিত সরকারব্যবস্থা বা গণতন্ত্রের সুফল ও ইতিবাচক দিকের জন্য তা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয় ও আদর্শ সরকার পদ্ধতি। কিন্তু এরপরও গণতন্ত্রের কিছু সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটি রয়েছে। 

প্রাচীনকালের প্রখ্যাত মনীষী ও দার্শনিকগণ যেমন প্লেটো ও এরিস্টটল গণতন্ত্রকে মূর্খের ও অযোগ্যদের শাসনব্যবস্থা বলেছেন। কেননা সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন হিসেবে গণতন্ত্রে নির্বাচনের মাধ্যমে অজ্ঞ, অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারে। ফলে উপযুক্ত লোকের অভাবে গণতন্ত্রের উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না এবং শাসন পরিচালনায় বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়। বাস্তবিক অর্থে গণতন্ত্র হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন। সংখ্যালঘুরা আইনসভায় তাদের প্রতিনিধি প্রেরণ করতে পারে না। ফলে অভাব-অভিযোগ সম্পর্কে সরকার উদাসীন থাকে। গণতন্ত্রে বহু পরস্পরবিরোধী মতের সৃষ্টি হয়, যা সংঘর্ষের জন্ম দেয় এবং জাতীয় সংহতি বিনষ্ট করে। তাছাড়া রাজনৈতিক দলগুলো পাবস্পরিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে জাতি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। ফলে গণতন্ত্র অকার্যকর ও ব্যর্থ হয়। রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করে শাসনকার্য পরিচালনা করে। ফলে নিরপেক্ষতা নষ্ট হ এতে গণঅসন্তোষ দেখা দেয়। তাছাড়া গণতন্ত্র একটি ব্যয়বহুল শাসনব্যবস্থা। ঘন ঘন নির্বাচনের ব্যবস্থা, জনমত গঠন, ব্যাপক প্রচারণা ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে সরকার, রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়।

পরিশেষে বলা যায়, পৃথিবীর অন্য সবকিছুর মতো গণতন্ত্রও সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়।

4 views

Related Questions