1 Answers
সৎ ও ধার্মিক হতে হিন্দুধর্মীয় গ্রন্থ হিসেবে উপনিষদের গুরুত্ব অপরিসীম।
উপনিষদ বা বেদান্ত রহস্যাবৃত ব্রহ্মবিদ্যার শাস্ত্র। যাঁরা শ্রদ্ধাযুক্ত চিত্তে ইন্দ্রিয়সংযমী হয়ে সদাচারসম্পন্ন শাস্ত্রধর্ম ও ব্রহ্মনিষ্ঠ ধর্মশাস্ত্রের বাণী শ্রবণে ব্রতী হন, একমাত্র তাঁরাই বেদান্ত তত্ত্বকে অন্তরে উপলব্ধি করতে পারেন। উপনিষদের শিক্ষা মানুষকে জীবনবিমুখ করে না, বরং পরিপূর্ণ জীবনের কথা বলে, যে জীবন জ্ঞান, কর্ম ও ভক্তি বা প্রেমের দ্বারা ব্রহ্মের সাথে সর্বদাই যুক্ত। ব্রহ্মই সত্য, এ জগৎ মিথ্যা, জীব ব্রহ্ম ছাড়া কিছুই নয়। জগতের সবকিছুই ব্রহ্মময়- উপনিষদের এ উপলব্ধি থেকে বিশ্বব্রহ্মান্ডের যা কিছু আসে সবই এক। কারও সাথে কারও কোনো ভেদ নেই। সুতরাং কেউ কাউকে হিংসা করা মানে নিজেকেই হিংসা করা। কারও ক্ষতি করা মানে নিজেরই ক্ষতি করা। সুতরাং আমাদের সকলেরই উচিত একে অপরকে হিংসা না করে সাহায্য ও সহযোগিতা করা। সকলকে নিজের মতো করে দেখা। আর এভাবেই ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে, সমাজে, রাষ্ট্রে, সম্প্রদায়ের সাথে সম্প্রদায়ের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হবে। যার মাধ্যমে ধর্মীয় ভাব জাগ্রত হয়ে মানুষ একজন ধার্মিক ব্যক্তিতে পরিণত হবে। আর ধার্মিকের সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে সততা। এজন্য সৎ ও ধার্মিক হতে উপনিষদের গুরুত্ব অপরিসীম।