1 Answers

ভগবান বুদ্ধ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বাণী ও ধর্মদেশনা প্রদানের মাধ্যমে বৌদ্ধর্ম প্রচার করতেন। কিন্তু ভিক্ষুগণ বুদ্ধবাণী স্মৃতিতে ধারণ করে সংরক্ষণ করতেন। কিন্তু বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের পর বুদ্ধবাণীর সঠিক ব্যাখ্যা ও বিধিবিধান নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে পণ্ডিত ভিক্ষুসঙ্ঘ সমবেত হয়ে সভা বা সম্মেলন আহ্বানের মাধ্যমে সমাধান করতে সঙ্গীতি আহ্বান করেন। বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের তিন মাস পর বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা বুদ্ধবাণী পণ্ডিত বুদ্ধশিষ্যগণ এক সঙ্গীতি আহ্বান করে একত্রে সংকলন করেন। বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে তা প্রথম সঙ্গীতি নামে পরিচিত। প্রথম সঙ্গীতিতে সংকলিত বুদ্ধবাণী ভিক্ষুগণ স্মৃতিতে ধারণ করে মৌখিকভাবে প্রচার করতেন। খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতক পর্যন্ত বুদ্ধবাণী এভাবে প্রচার করা হতো। মুখে-মুখে প্রচারিত হওয়ায় বা গ্রন্থাকারে সংরক্ষণ বা লিপিবদ্ধ না হওয়ায় বুদ্ধবাণী নিয়ে মাঝে মাঝে বিতর্ক দেখা দিত। এছাড়া, নানা কারণে বুদ্ধবাণী বিকৃতি ও পরিহানির সম্মুখীন হতো এবং সঙ্ঘের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টি হতো। ভিক্ষুসঙ্ঘ সঙ্গীতি আহ্বানের মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধান করে বুদ্ধবাণী যথাযথভাবে রক্ষা করতেন।

4 views

Related Questions