1 Answers

অনিল চাকমা শ্রমণ অবস্থায় বুদ্ধের নির্বাণ তত্ত্ব বুঝতে পারলেন। নির্বাণ শব্দের অর্থ 'নির্বাপিত হওয়া।' 'নি' উপসর্গের সঙ্গে 'বাণ' শব্দটি যুক্ত হয়ে 'নির্বাণ' শব্দটি ব্যুৎপন্ন হয়েছে। 'নি' উপসর্গটি অভাব, নাই, ক্ষয়, শেষ ইত্যাদি অর্থে ব্যবহৃত হয়। 'বাণ' শব্দটির আভিধানিক অর্থ ধনুকের তীর এবং বৌদ্ধশাস্ত্রে তৃষ্ণা বোঝাতে 'বাণ' শব্দটি ব্যবহার করা হয়। অতএব, 'নির্বাণ' বলতে তৃষ্ণার ক্ষয় বোঝায়। আমাদের মনে রাগ, ঈর্ষা, মোহ, লোভ ইত্যাদি ক্ষতিকর প্রবৃত্তির উৎপত্তির কারণ হচ্ছে তৃষ্ণা বা কামনা। তৃষ্ণার কারণেই মানুষ বার বার জন্মগ্রহণ করে দুঃখভোগ করে। যিনি নির্বাণ সাক্ষাৎ করেন তিনি তৃষ্ণামুক্ত হন। তাঁর তৃষ্ণাজাত রাগ-দ্বেষ- মোহাগ্নি নির্বাপিত হয়। তাঁর জন্ম-মৃত্যুর প্রবাহ নিরুদ্ধ হয়। যার ফলে তিনি সর্বপ্রকার দুঃখ হতে মুক্ত হন।

উদ্দীপকের অনিল বিকাশ চাকমা সংসারের মায়া ত্যাগ করে বিহারের ভন্তের নিকট প্রব্রজ্যিত হয়ে তৃষ্ণার ক্ষয়, রোগ-দেহ-মোহ নির্বাপিত করা, জন্ম- মৃত্যুর প্রবাহ রোধ ইত্যাদি বিষয়ে জাগতিক জ্ঞান অর্জন করেন। শ্রমণ থেকে তিনি ভিক্ষুতে উপনীত হয়ে ত্রিপিটক গ্রন্থের জ্ঞান সাধনার মাধ্যমে বুদ্ধের নিব্বাণং পরমং সুখং এই বাণীটি বুঝতে সক্ষম হন। তাই বলা যায়, অনিল চাকমা শ্রমণ অবস্থায় বুদ্ধের নির্বাণ তত্ত্ব বুঝতে পারলেন।

4 views

Related Questions