1 Answers

নিয়ম-নীতি সংক্রান্ত অংশটি অর্থাৎ বিনয় পিটক বুদ্ধ শাসনের আয়ু স্বরূপ- শিক্ষক বাবু সুনব বড়ুয়ার শেষোক্ত উক্তিটি যথার্থ।

বিনয়কে বুদ্ধশাসনের আয়ু বলা হয়। কারণ বিনয় ব্যতীত বুদ্ধশাসনের। স্থিতি অপরিকল্পনীয়। বিনয়ের স্থিতিতেই বুদ্ধশাসনের স্থিতি নির্ভরশীল। বলা হয়ে থাকে যে, সুত্ত ও অভিধর্ম লুপ্ত হয়ে গেলেও যদি বিনয় পিটক পরম আদরে, গভীর শ্রদ্ধায় ও গৌরবের সাথে অনুশীলিত হয় তবে বুদ্ধের ধর্ম কখনো লুপ্ত হবে না। এ জন্য বিনয়ের গুরুত্ব উপলব্ধি করে বৃদ্ধের মহাপরিনির্বাণের তিন মাস পরে অনুষ্ঠিত প্রথম সঙ্গীতিতে সর্বপ্রথম বিনয় সংগ্রহ করা হয়েছিল।

বিনয়ের অপর নাম 'নিয়ম', 'নীতি' বা 'শৃঙ্খলা' ইত্যাদি। বিনয়কে সহজ অর্থে 'শীল' বলা হয়। পৃথিবীর সবকিছুই নিয়ম ও শৃঙ্খল দ্বারা পরিচালিত হয়। যেমন- গ্রহ, তারা, নক্ষত্র সবই একটি নিয়মের মধ্যে দিয়েই আবর্তিত এবং পৃথিবীর অপরূপ সৌন্দর্য, রংধনুর সমারোহ, সূর্যরশ্মি পর্যন্ত কার্যকরণ নিয়মে আবদ্ধ। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে নিয়ম-শৃঙ্খলার উপযোগিতা সবচেয়ে বেশি। অসংযম, আলস্যপরায়ণ, প্রমাদপরায়ণ, অনৈতিকতা, অমিতব্যয়িতা, লোভ, দ্বেষ, মোহ, দুঃশীলতা সকল প্রকার উন্নতির পরিপন্থি। অপরদিকে নিয়ম, শৃঙ্খলা, সংযম, চরিত্রবল, শীল, সমাধি, উদ্যম, উৎসাহ, প্রচেষ্টা, নিয়মানুবর্তিতা, আত্মত্যাগ, শ্রদ্ধা, সন্তুষ্টি, প্রজ্ঞা, সৎকর্ম সকল প্রকার উন্নতির মূল চাবিকাঠি। বুদ্ধ ভিক্ষুসঙ্ঘের উন্নতির জন্যই বিনয়ের শিক্ষাপদসমূহ বিধিবদ্ধ করেছিলেন। বিনয়ের নিয়মগুলো দৈনন্দিন জীবনযাপন ও আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য অপরিহার্য।

5 views

Related Questions