1 Answers
উদ্দীপকে বর্ণিত উক্তিটি ত্রিপিটকের বিনয় পিটকে নিহিত।
বুদ্ধবাণী ধরন, প্রকৃতি অনুসারে তিনটি ধারায় বিভক্ত করা হয়েছে অর্থাৎ সূত্র পিটক, বিনয় পিটক এবং অভিধর্ম পিটক। বুদ্ধ বিনয় পিটকে বলেছেন, যদি কোনো ভিক্ষু শতবর্ষব্যাপী ত্রিপিটক অধ্যয়ন করেও সম্যক রূপে শীল পালন না করেন, তবে মৃত্যুর পর তাঁকে নরকে যেতে হয়। 'বিনয় শব্দের অর্থ নিয়ম, নীতি, শৃঙ্খলা বা বিধিবিধান। বুদ্ধ-নির্দেশিত বিধিবিধান যে পিটকে সংকলিত আছে তা বিনয় পিটক নামে অভিহিত। ভিক্ষুসঙ্ঘ সুশৃঙ্খল, ন্যায়-নিষ্ঠা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হওয়ার মানসে বুদ্ধ এসব বিনয় বিধিবিধান নির্দেশ করেছিলেন। বিনয় পিটক প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত। যথা: ১. সুত্তবিভঙ্গ ২. খন্দক এবং ৩. পরিবার। সুত্তবিভঙ্গ আবার দুভাগে বিভক্ত: মহাবিভঙ্গ (ভিক্খু বিভঙ্গ বা পরাজিকা) এবং খুদ্দকবিভঙ্গ (ভিকখুণী বিভঙ্গ বা পাচিত্তিয়া) মহাবিভঙ্গে পারাজিকা এবং সংঘাদিসেসসহ ভিক্ষুদের প্রতিপালনীয় বিধিবিধানসমূহ রয়েছে বলে এটি পারাজিকাকাণ্ড বা ভিকখুবিভঙ্গও বলা হয়। খুদ্দকবিভঙ্গে ভিক্ষুণীদের প্রতিপালনীয় বিধিবিধানসমূহ রয়েছে। এটিকে পাচিত্তিয়া বা ভিকখুনীবিভঙ্গও বলা হয়। সুত্ত বিভঙ্গের দুটি গ্রন্থে বর্ণিত বিধি-বিধানসমূহকে একত্রে পাতিমোক্স (পাতিমোক্ষ) বলা হয়। খন্ধক দুভাগে বিভক্ত যথা: মহাবর্গ এবং চূল্লবগ্ন। মহাবগগ গ্রন্থে বুদ্ধের বুদ্ধত্বলাভ থেকে সঙ্ঘ প্রতিষ্ঠাকাল পর্যন্ত বুদ্ধের জীবনকাহিনীর ধারাবাহিক ইতিহাস পাওয়া যায়। চূল্লবগগ গ্রন্থে ভিক্ষুসঙ্ঘের বিভিন্ন নিয়মকানুনসহ বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের পরে অনুষ্ঠিত প্রথম ও দ্বিতীয় সঙ্গীতির বর্ণনা পাওয়া যায়।