1 Answers
'অল্পতে তুষ্ট থাকলে প্রকৃত সুখ পাওয়া যায়'- উদ্দীপক ও 'আশা' কবিতার আলোকে যুক্তিটি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
পরিশ্রমের মাঝেই জীবনের সার্থকতা। মিথ্যা সুখের কল্পনা করে কাজ না করলে জীবন ব্যর্থ হয়ে যায়। কারণ জীবনের সঙ্গে সংগতিহীন স্বপ্ন-কল্পনা মানুষের সাফল্যের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে সুখের উৎস সম্পর্কে বলা হয়েছে। ধনীর সন্তানেরা বিত্ত-বৈভবে নিমগ্ন থাকে, তাই সংসারে তাদের কোনো মন থাকে না। এই অতিপ্রাপ্তিই জীবনের প্রকৃত অর্থ থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন রাখে। তারা কেবল আকাঙ্ক্ষার পেছনে ছোটে- সুখের খোঁজ তারা জানে না। অন্যদিকে অল্প আয়ের মানুষেরা সামান্য আয়েই তুষ্ট। কারণ তাদের জীবনের আকাঙ্ক্ষা অনন্ত নয়। তারা অল্পকিছু নিয়ে ভালো থাকতে চায় অন্যের ঘরে আলো জ্বালে। 'আশা' কবিতায়ও কবি এই সত্যকে উন্মোচিত করেছেন। গতানুগতিকভাবে অর্থসম্পদ নিয়ে সুখী হওয়ার চেষ্টায় যে অন্তঃসারশূন্যতা তা তিনি তুলে ধরেছেন। বিত্ত-বৈভবের চিন্তা ও দুর্ভাবনায় সুখী হওয়ার পরিবর্তে মানুষ দুঃখকে ডেকে আনছে। যার ফলে কমে যাচ্ছে তার আয়ু। অন্যদিকে সারা দিন যারা হাড় ভাঙা খাটুনি খাটে, তারা বিছানায় গা এলিয়ে দিলে পরম নিশ্চিন্তে নিদ্রা যায়। কারণ তাদের জীবনে চাওয়া-পাওয়া খুব ক্ষুদ্র, তাদের হারানোর কিছুই নেই।
সুখ একটি আপেক্ষিক বিষয় হলেও প্রকৃত সুখ মানবজীবনের কিছু মৌলিক বিষয়ে নিহিত। এর একটি হলো আত্মতুষ্টি, নিজের যা আছে তাই নিয়ে ভালো থাকা। বেশি কিছু চাইলে চাওয়ার শেষ আর কখনো হয় না। আর যারা অল্পতে তুষ্ট তাদের চাহিদা সীমিত এবং এতেই তারা নিজেদের সুখ মনে করে।