রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার ঘটনায় একজন মুসলমান হিসেবে তোমার মনোভাব ব্যক্ত কর। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার ঘটনাটি নিন্দনীয়। কারণ ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বহিঃপ্রকাশ।
অন্যান্য অনেকের মতো আমি জানি ও বিশ্বাস করি- ইহকালীন শান্তির জন্য ভ্রাতৃত্ববোধের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও বজায় রাখা অপরিহার্য। সমাজে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। নিজ সম্প্রদায়ের বাইরের অন্য সম্প্রদায়ের লোকদের সাথেও সদাচরণ করতে হবে। তাদের সাহায্য সহযোগিতা করতে হবে। তাদের বিপদে আপদে এগিয়ে আসতে হবে। পারস্পরিক মারামারি হানাহানির পরিবর্তে শান্তি স্থাপনে এগিয়ে আসতে হবে।
মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপন করা অত্যন্ত পূণ্যের কাজ। এতে আল্লাহ তায়ালা খুশি হন। আমরা মুসলমান। আমাদের সামাজে অমুসলিম সম্প্রদায়ের বহু লোকজন বসবাস করেন। এদের কেউ আমাদের সহপাঠী, কেউ সহকর্মী, কেউ খেলার সাথী, কেউবা প্রতিবেশী আবার কেউ শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধব, পরিচিতজন। তাদের সকলের সাথেই ভালো ব্যবহার করতে হবে। কেননা তারা সকলেই আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি। মহানবি (স.) বলেছেন, অমুসলিম সম্প্রদায়কে তাদের ধর্ম পালনে স্বাধীনতা দিতে হবে। তাদের ধর্মগ্রন্থ, উপসানালয়, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা যাবে না। ধর্ম পালনে তাদের বাধা দেওয়া যাবে না।
ধর্মীয় স্বাধীনতা দানের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রেও সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। এজন্য তাদের প্রতি কোনোরূপ অন্যায়, অত্যাচার করা যাবে না, তাদের সম্পদ দখল করা যাবে না। বরং তাদের জান-মাল-ইজ্জত সংরক্ষণ করতে হবে।
ইসলাম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য নানা বিষয়ে নির্দেশ প্রদান করেছে। আমাদের উচিত জীবনের সকল অবস্থায় এসব নির্দেশ অনুশীলন করা। ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক সম্প্রীতির আদর্শে সকলে পরিচালিত হলে এ গোটা বিশ্ব শান্তিময় হয়ে উঠবে।