1 Answers
রশিদ সাহেবের আচরণে আমানতের খিয়ানত ও প্রতারণা প্রকাশ পেয়েছে। আমানতের খিয়ানত মুনাফিকের কাজ। আর প্রতারণা করা মারাত্মক গুনাহ। মহানবি (স.) বলেছেন, "যে প্রতারণা করে সে আমার দলভুক্ত নয়।" (তিরমিযি)
জনাব শাকিল হজব্রত পালন করতে যাওয়ার সময় তার বাল্যবন্ধু রশিদ সাহেবের নিকট বেশ কিছু নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার গচ্ছিত রেখে যান। হজ শেষে বাড়ি ফিরে এলে উক্ত অর্থ ও গহনা ফেরত চাইলে রশিদ সাহেব তা দিতে অস্বীকার করেন। তার এ কাজ জঘন্য প্রতারণা ও আমানতের খিয়ানত। প্রতারণা নিন্দনীয় চরিত্রের মধ্যে অন্যতম একটি। ফাঁকি দেওয়া, বিশ্বাস ভঙ্গ করা, ভেজাল দেওয়া, পণ্যদ্রব্যের দোষ গোপন করা, জাল মুদ্রা চালিয়ে দেওয়া, মাপে-ওজনে কম দেওয়া, বেশি দামের জিনিসের সাথে কম দামের জিনিস মিশিয়ে দেওয়া, গাভী বিক্রির আগে স্তনে দুধ আটকে রাখা, মিথ্যা হলফ করে অন্যের হক নষ্ট করা এসবই প্রতারণার শামিল। ব্যবসায় বাণিজ্য ছাড়াও মানুষ অন্যান্য আর্থসামাজিক কাজেও প্রতারণা করে থাকে। প্রতারণা ইসলামের দৃষ্টিতে মানবতাবিরোধী অতি গর্হিত কাজ। প্রতারণা মিথ্যারই শামিল। মিথ্যা যেমন ঘৃণ্য, প্রতারণাও তেমনি ঘৃণ্য। এটি একটি সমাজদ্রোহী পাপ।
অন্যদিকে খিয়ানত করা মহাপাপ। খিয়ানতকারী শুধু মানবসমাজেই নয়, সে আল্লাহর কাছেও ঘৃণিত, অভিশপ্ত। কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে-
إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْخَائِنِينَ
অর্থ- “নিশ্চয়ই আল্লাহ খিয়ানতকারীকে ভালোবাসেন না।"
একের হক অন্যজন নষ্ট করলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। কিন্তু আমানত রক্ষার ফলে এ অনাকাঙ্ক্ষিত বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় না।
আমানতের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুল (স.) ইরশাদ করেন-
لَا إِيْمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ
অর্থ: "যার ভেতর আমানতদারি নেই তার ইমান নেই।"
সুতরাং রশিদ সাহেবের উচিত তার বন্ধুর রাখা নগদ অর্থ ও অলংকার ফেরত দেওয়া এবং তার কাছে ক্ষমা চাওয়া। না হলে সে মুসলমান থাকবে না এবং জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।