1 Answers

উদ্দীপকের অনুভব 'একাত্তরের দিনগুলি'র সমগ্র অনুভব ধারণ করে না। কারণ রচনায় মুক্তিযুদ্ধের দুর্বিষহ অবস্থার যে মর্মন্তুদ বিবরণ রয়েছে তা উদ্দীপকে নেই।

দীর্ঘদিন পাকিস্তানি শাসনের নিগড়ে বন্দি ছিল বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এ দেশের ঘুমন্ত, নিরস্ত্র, সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালায়। তারা নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। হানাদারদের সেই অত্যাচার থেকে নারী-শিশু, বৃদ্ধ- যুবক কেউ রেহাই পায়নি। তখন জীবন বাজি রেখে শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এ দেশের মানুষ।

'একাত্তরের দিনগুলি' রচনাটি লেখিকার তৎকালীন দিনলিপি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ভয়ে মানুষের পালিয়ে বেড়ানো, পথে-ঘাটে তাদের হাতে ধরা পড়ে মৃত্যুবরণ, মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমের ভূমিকা, স্কুল-কলেজের অবস্থা, লেখিকার আত্মত্যাগ, মুক্তিযোদ্ধাদের আনন্দ-বেদনা প্রভৃতি বিষয় এই রচনায় প্রতিফলিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে মাত্র একটি বিষয়- রেডিও এবং এর কলাকুশলী ও শিল্পীদের ভূমিকাই কেবল উদ্দীপকে বিবৃত হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য বিষয় বর্ণনা ও প্রসঙ্গ উদ্দীপকে নেই।

উদ্দীপকে এদেশের শিল্পী, কলাকুশলী ও শব্দসৈনিকদের যে অবদানের কথা বলা হয়েছে তা 'একাত্তরের দিনগুলি' রচনার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকা এবং রেডিওর খবর ও অনুপ্রেরণামূলক অনুষ্ঠান সম্পর্কে প্রকাশিত লেখিকার অনুভবের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এছাড়া সন্তানের প্রতি অনুরাগ, নিজের আত্মমর্যাদাবোধ এবং স্বদেশের মুক্তির যে আকুতি আলোচ্য স্মৃতিচারণমূলক রচনায় উপস্থাপিত হয়েছে তা উদ্দীপকে নেই। আলোচ্য রচনায় ঢাকা শহর থেকে মানুষের পালিয়ে যাওয়া, বুড়িগঙ্গায় বীভৎস লাশ, চোখ বেঁধে ট্রাকভর্তি মানুষ ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা, সদরঘাট-সোয়ারীঘাটে লাশের দুর্গন্ধের বিবরণ ইত্যাদি রয়েছে, যেগুলো আলোচ্য উদ্দীপকে নেই। এসব দিক বিবেচনা করে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের অনুভব 'একাত্তরের দিনগুলি'র সমগ্র অনুভবকে ধারণ করে না।

4 views

Related Questions