1 Answers
উদ্দীপকে নাহিদের শ্রেণিকরণে কৃত্রিম শ্রেণিকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। নিচে কৃত্রিম শ্রেণিকরণ ব্যাখ্যা করা হলো-
সাধারণত ব্যবহারিক সুবিধা বা বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য গুরুত্বহীন ও বাহ্যিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে জাগতিক বস্তু বা ঘটনাবলিকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করার মানসিক প্রক্রিয়াকে কৃত্রিম শ্রেণিকরণ বলা হয়। কৃত্রিম শ্রেণিকরণের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে ভোলানাথ রায় বলেন- "Artificial Classification on the other hand is the mental grouping of facts, according to some points of similarity, sclected arfitarily. for a special perpose. it is called spccial classification or classification for special purpose." বস্তুত কৃত্রিম শ্রেণিকরণে কোনোরূপ প্রাকৃতিক বা বৈজ্ঞানিক নিয়ম অনুসরণ করা হয় না। এজন্য একে অবৈজ্ঞানিক শ্রেণিকরণ বলা হয়। মূলত ব্যবহারিক বা প্রয়েগিক শ্রেণিকরণ নামেও অভিহিত করা হয়। কৃত্রিম শ্রেণিকরণে প্রাকৃতিক বা বৈজ্ঞানিক কোনো নীতি অনুসরণ না করেই সাদৃশ্যের মৌলিক, গুরুত্বপূর্ণ, ও অপরিহার্য বিষয়সমূহকে বাদ দিয়ে ব্যক্তিবিশেষের ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও ব্যবহারিক সুবিধা অনুযায়ী কতগুলো বাহ্যিক ও গুরুত্বহীন সাদৃশ্যকে শ্রেণিকরণের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো গ্রন্থাগারের গ্রন্থসমূহকে আকৃতিগত, বিষয়বস্তুগত বা ভাষাগত সাদৃশ্যের ভিত্তিতে বিন্যস্তকরণই হচ্ছে কৃত্রিম শ্রেণিকরণ। কৃত্রিম শ্রেণিকরণের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই তাই কৃত্রিম শ্রেণিকরণ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম হতে পারে।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় কৃত্রিম শ্রেণিকরণ হলো মানুষের মনগড়া ও ইচ্ছেমতো নেওয়া গুরুত্বহীন ও বাহ্যিক সাদৃশ্য।