1 Answers
উদ্দীপকে আলোচিত কৃত্রিম শ্রেণিকরণের সাথে প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১। প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণে কতগুলো মৌলিক, গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য সাদৃশ্যের ভিত্তিতে বিষয়বস্তুর শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। আর কৃত্রিম শ্রেণিকরণে কতগুলো অবান্তর, গুরুত্বহীন ও বাহ্যিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে বিষয়বস্তুকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়।
২। প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সর্বজনীন উদ্দেশ্য সাধিত হয়। অপরপক্ষে, কৃত্রিম শ্রেণিকরণের মাধ্যমে ব্যক্তিবিশেষের বা সীমিতসংখ্যক ব্যক্তির বিশেষ বা ব্যবহারিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ হয়।
৩। প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ হচ্ছে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। অন্যদিকে কৃত্রিম শ্রেণিকরণ হচ্ছে একটি লৌকিক প্রক্রিয়া।
৪। প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণ জ্ঞান বা বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জন করা। পক্ষান্তরে, কৃত্রিম শ্রেণিকরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যবহারিক বা বিশেষ সুবিধা লাভ করা।
৫। প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণে বস্তুসমূহকে ক্রমানুসারে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। কিন্তু কৃত্রিম শ্রেণিকরণে বস্তুসমূহের শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে কোনোরূপ ক্রম অনুসরণ করার প্রয়োজন হয় না।
৬। প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণে একটি সাধারণ উদ্দেশ্য নিহিত থাকে এবং সার্বিক উদ্দেশ্য সফল হয় বলে এর মাধ্যমে সবাই উপকৃত হয়। পক্ষান্তরে, কৃত্রিম শ্রেণিকরণে বিশেষ উদ্দেশ্য নিহিত থাকে এবং এর মাধ্যমে বিশেষ ধরনের উদ্দেশ্য সফল হয়।
৭। প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ হচ্ছে সংজ্ঞাভিত্তিক এবং কৃত্রিম শ্রেণিকরণ নমুনাভিত্তিক।
৮। প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার সাথে সম্পর্কিত এবং প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণে কোনোরূপ অনুপপত্তির সম্ভাবনা দেখা যায় না। অন্যদিকে কৃত্রিম শ্রেণিকরণ অবৈধ সাদৃশ্যমূলক অনুপপত্তির সাথে জড়িত।