1 Answers
উদ্দীপকে সুমনের কর্মকান্ডটি কৃত্রিম শ্রেণিকরণ। নিচে কৃত্রিম শ্রেণিকরণ ব্যাখ্যা করা হলো-
সাধারণত ব্যবহারিক সুবিধা বা বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য গুরুত্বহীন ও বাহ্যিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে জাগতিক বস্তু বা ঘটনাবলি বিভিন্ন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করার মানসিক প্রক্রিয়াকে কৃত্রিম শ্রেণিকরণ বলা হয়। কৃত্রিম শ্রেণিকরণের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে ভোলানাথ রায় তাঁর 'Text Book of Inductive Logic' (P- 278) গ্রন্থে বলেন, কৃত্রিম শ্রেণিকরণ হচ্ছে বিশেষ ও সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের নিমিত্তে কতিপয় সাদৃশ্যের ভিত্তিতে ঘটনাসমূহের মানসিক সন্নিবেশকরণ, যাকে অন্য অর্থে বিশেষ শ্রেণিকরণ বা বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের শ্রেণিকরণ বলা যায়।
উদাহরণস্বরূপ, কোনো গ্রন্থাগারের গ্রন্থসমূহকে আকৃতিগত, বিষয়বস্তুগত বা ভাষাগত সাদৃশ্যের ভিত্তিতে বিন্যস্তকরণই হচ্ছে কৃত্রিম শ্রেণিকরণ। এরূপ শ্রেণিকরণের মাধ্যমে সর্বসাধারণের জ্ঞান অর্জিত হয় না, তবে এর মাধ্যমে গ্রন্থাগারিক এবং গ্রন্থ ও গ্রন্থাগারের সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তিবর্গের ব্যবহারিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ হয় বা ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জিত হয়। এক্ষেত্রে গ্রন্থের শ্রেণিবিন্যাসটি কৃত্রিম এজন্য যে, এখানে সাদৃশ্যের বিষয় হিসেবে গ্রন্থের আকৃতি, বিষয়বস্তু বা ভাষা প্রকৃতি প্রদত্ত নয়, বরং এগুলো মানুষের মনগড়া ও ইচ্ছামতো নেওয়া গুরুত্বহীন ও বাহ্যিক সাদৃশ্য। বস্তুত এ জাতীয় সাদৃশ্য ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে বিধায় কৃত্রিম শ্রেণিকরণ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম হতে পারে।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সুমনের পৃথকীকরণ প্রক্রিয়া হলো কৃত্রিম শ্রেণিকরণ।