1 Answers
মায়ের বুকের প্রথম শালদুধে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও রোগ প্রতিরোধকারী প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি থাকে। শিশুর জন্য মায়ের দুধ প্রকৃতি প্রদত্ত ও আদর্শ খাদ্য। শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে থেকেই মায়ের দেহে দুধ উৎপাদন ও ক্ষরণের প্রস্তুতি চলে। শিশু বুকের দুধ টানতে শুরু করলে দুধের ক্ষরণ বাড়ে। প্রসবের পর প্রথম ২/৩দিন মায়ের স্তন হতে হালকা হলুদ রঙের ঘন, আঠালো দুধ বের হয়। একে শালদুধ বা Colostrum বলে।
শিশুর বৃদ্ধির জন্য মায়ের দুধে সবরকমের পুষ্টি উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে এবং ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর জন্য মায়ের দুধই সুষম খাদ্য। মায়ের দুধের প্রোটিনের ছানা মিহি ও সূক্ষ্ম দানার হয়। এ ছানা সহজেই হজম হয়। মায়ের দুধে ল্যাকটোজের পরিমাণ বেশি থাকায় দুধ মিষ্টি হয়। মায়ের দুধে অসম্পৃক্ত স্নেহজ এসিডের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই এতে শিশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকে। মায়ের দুধের সবচেয়ে প্রধান উপকারিতা হচ্ছে এ দুধে রোগ প্রতিরোধকারী এন্টিবডি এবং ইমিউনোগ্লোবিন থাকে, যা শিশুকে নানা রোগ হতে প্রতিরক্ষা দান করে। মায়ের দুধে লালিত শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, পেটের অসুখ বা এলার্জি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। মায়ের দুধ বিশুদ্ধ, টাটকা। তাই এ দুধ বাসি হওয়া বা সংক্রমিত হওয়ার কোনোই সম্ভাবনা নেই। দুগ্ধদানকারী মায়ের জরায়ু ও স্তনের ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। এ সকল কারণে সীমা তার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ায়।