1 Answers

উদ্দীপকের দৃশ্য-১ এ বৈজ্ঞানিক আরোহের প্রকৃতি ফুটে উঠেছে। নিচে তা নিরূপণ করা হলো-

বৈজ্ঞানিক আরোহের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে যুক্তিবিদ কার্ডে রিড (Carveth Read) বলেন, আরোহ অনুমানের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে নিয়মানুবর্তিতার নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের উপর নির্ভর করে একটি সাধারণ সংশ্লেষক বাক্য স্থাপন করার মানসিক প্রক্রিয়াকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। কাজেই কার্ডেথ রিড এর বর্ণনা এবং বৈজ্ঞানিক আরোহের স্বরূপ অনুসারে আমরা বলতে পারি, প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নীতির উপর নির্ভর করে কয়েকটি বিশিষ্ট দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে একটি সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য স্থাপন করার যে পদ্ধতি, তাকেই বৈজ্ঞানিক আরোহ বলা হয়।

আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতায় রহিম, করিম, যদু, মধু ইত্যাদি কয়েকটি বিশিষ্ট মানুষের মৃত্যু দেখে এবং মানুষের সাথে মরণশীলতার কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার করে। উপরন্তু যে অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে, অনুরূপ অবস্থা অন্যান্য মানুষের ক্ষেত্রে উপস্থিত হলে তাদেরও মৃত্যু হবে। প্রকৃতির এই একানুরূপতায় বিশ্বাস রেখে যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, “সব মানুষ হয় মরণশীল।” তবে তাকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে গণ্য করা হবে। উল্লেখ্য, এরূপ বৈজ্ঞানিক আরোহের অনুমানগতরূপ হবে-

করিম হয় মরণশীল 
জসিম হয় মরণশীল
জয় হয় মরণশীল
∴ সব মানুষ হয় মরণশীল

উল্লিখিত যুক্তিবাক্যটিতে কিছু মানুষের মৃত্যু পর্যবেক্ষণ করে অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে একটি সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য স্থাপন করা হয়েছে। এই স্বতঃসিদ্ধ যুক্তিবাক্যটি সবাই স্বীকার করতে বাধ্য। বৈজ্ঞানিক আরোহের উক্ত ধারণাটি স্বতঃসিদ্ধ সত্য বলে সর্বজনস্বীকৃত

উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয়, উদ্দীপকের দৃশ্য-১ এ বৈজ্ঞানিক আরোহের প্রকৃতি ফুটে উঠেছে।

5 views

Related Questions