1 Answers
উদ্দীপকে 'চ' দৃষ্টান্তে যে ধরনের আরোহের পরিচয় পাওয়া যায় তা হলো বৈজ্ঞানিক আরোহ। নিচে বৈজ্ঞানিক আরোহের বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করা হলো-
১. বৈজ্ঞানিক আরোহের সংজ্ঞা ও উদাহরণ বিশ্লেষণ করে আমরা যে কয়টি বাক্য লক্ষ করেছি, তার মধ্যে প্রথম কয়েকটি বাক্য আশ্রয়বাক্য এবং শেষের বাক্যটি সিদ্ধান্ত। প্রথম বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আমরা তিনটি বিশেষ দিকের প্রতি গুরুত্বারোপ করছি। যথা-
(ক) বৈজ্ঞানিক আরোহ একটি যুক্তিবাক্য স্থাপন করে: একটি যুক্তিবাক্যে দু'টি পদের মধ্যে একটি সম্পর্ক স্থাপন করে। বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্তে আমরা দুটি পদের মধ্যে একটি সম্পর্ক নির্ণয়ের চেষ্টা করি। যেমন: 'মানুষ' ও 'মরণশীল'- এই দুটি পদের মধ্যে একটি সম্পর্ক আবিষ্কার করার পর 'মানুষ হয় মরণশীল'- এ যুক্তিবাক্যটি স্থাপন করি।
(খ) বৈজ্ঞানিক আরোহ একটি সার্বিক বাক্য স্থাপন করে: এই বৈশিষ্ট্যটির প্রধান লক্ষ্য হলো কোনো শ্রেণির সমস্ত বস্তুসমষ্টি বা ঘটনাসমষ্টি সম্বন্ধে কোনো নতুন ও সার্বিক তথ্য প্রদান করে। যেমন: 'সব মানুষ হয় মরণশীল।'
(গ) বৈজ্ঞানিক আরোহ একটি সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য স্থাপন করে: বৈজ্ঞানিক আরোহ যে সার্বিক যুক্তিবাক্যটি স্থাপন করে তা একটি সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য। যেমন: 'সব মানুষ হয় মরণশীল'।
২. বৈজ্ঞানিক আরোহের জ্ঞান সর্বদা অভিজ্ঞতাভিত্তিক ও প্রত্যক্ষণ নির্ভর। যেমন: 'সব মানুষ হয় মরণশীল'- এ সত্যটি স্ব-স্ব প্রত্যক্ষণভিত্তিক অভিজ্ঞতার ফসল।
৩. বৈজ্ঞানিক আরোহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো আরোহমূলক লম্ফ বা আরোহমূলক উল্লম্ফন।
৪. বৈজ্ঞানিক আরোহ বিজ্ঞানের দুটি মৌলিক নিয়ম- ক. প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও খ. কার্যকারণ নীতি মেনে চলে।
৫. বৈজ্ঞানিক আরোহ যথাযথভাবে আরোহের আকারগত, রূপগত ও বস্তুগত উভয় প্রকার সত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
৬. বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সর্বদা নিশ্চিত, সম্ভাব্য নয়। উপর্যুক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো হলো বৈজ্ঞানিক আরোহের আবশ্যক ও মৌলিক বৈশিষ্ট্য।