1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিক্ষকের কথাটি হলো- "সংজ্ঞায় জাত্যর্থের পূর্ণ বিবৃতি প্রকাশ পাবে, কম ও নয় বেশিও নয়।” এই কথাটি সঠিকভাবে না মানলে যে অনুপপত্তিগুলো হতে পারে সেগুলো হলো-
১। বাহুল্য সংজ্ঞা অনুপপত্তি
২। অবান্তর সংজ্ঞা অনুপপত্তি
৩। অব্যাপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি
৪। অতিব্যাপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি
উল্লিখিত অনুপপত্তিগুলো নিচে আলোচনা করা হলো- সংজ্ঞায় পদের জাত্যর্থ ছাড়া অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য হিসেবে উপলক্ষণ উল্লেখ করা হলে বাহুল্য সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটে। যেমন : মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব যার যুক্তিবিদ্যা বোঝার ক্ষমতা আছে। এটি একটি বাহুল্য সংজ্ঞা, কারণ এখানে মানুষ পদের উপলক্ষণ হিসেবে 'যুক্তিবিদ্যা বোঝার ক্ষমতা' উল্লেখ করা হয়েছে।
সংজ্ঞেয় পদের জাত্যর্থ ছাড়া অতিরিক্ত অংশ হিসেবে যদি অবান্তর লক্ষণ উল্লেখ করা হয় তবে অবান্তর সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটে। যেমন : মানুষ হচ্ছে দ্বিপদযুক্ত বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন প্রাণী। এখানে 'দ্বিপদ' গুণটি মানুষের জাত্যার্থের বাইরে একটি অতিরিক্ত অবান্তর 'লক্ষণ।
সংজ্ঞেয় পদের জাত্যর্থ হিসেবে অতিরিক্ত কোনো বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ উল্লেখ করা হলে যদি সংজ্ঞার্থ পদের ব্যাপকতা হ্রাস প্রায়, তবে অব্যাপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটে। যেমন : "ছাগল হয় কালো রংবিশিষ্ট প্রাণী।" এখানে "কালো রং" ছাগল শ্রেণির একটি বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ যার ব্যাপকতা 'ছাগল' পদের ব্যাপকতার চাইতে কম। তাই এখানে অব্যাপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে।
সংজ্ঞায় যদি সম্পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লিখিত না হয়ে জাত্যর্থের কিছু অংশ উল্লিখিত হয় তাহলে সংজ্ঞার্থ পদের ব্যকুর্থ বৃদ্ধি পায়। ফলে অতিব্যাপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটে। যেমন: “ময়না হলো পাখি।” এই উদাহরণে পাখি পদের ব্যক্তর্থ 'ময়না' পদের ব্যক্তর্থের চাইতে অনেক বেশি। তাই উক্ত সংজ্ঞায় অতিব্যাপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়- 'সংজ্ঞায় জাত্যর্থের পূর্ণ বিবৃতি প্রকাশ পাবে, কমও নয় বেশিও নয়' এর ব্যতিক্রম হলে সংজ্ঞা বিভিন্ন রকম অনুপপত্তিতে আক্রান্ত হবে।