1 Answers
উদ্দীপকে যৌক্তিক সংজ্ঞা সম্পর্কে বোঝানো হয়েছে। নিচে যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্র বিশ্লেষণ করা হলো-
এক : সংজ্ঞা পদের অর্থকে সুনির্দিষ্ট ও প্রাঞ্জল করে তোলে, যা আমাদের চিন্তাকে যথাযথভাবে প্রকাশ করতে সহায়তা করে।
দুই: কোনো বিষয়ের সংজ্ঞাদানের মাধ্যমে সেই বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের চিন্তা বা ধারণা সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট হয়। আর এ ধরনের চিন্তাই হলো যুক্তিবিদ্যার মূল লক্ষ্য। সে ক্ষেত্রে যুক্তিবিদ্যার এ লক্ষ্য অর্জনে সংজ্ঞা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে।
তিন : শুদ্ধ চিন্তার অপরিহার্য শর্ত হচ্ছে শব্দের মধ্যকার অস্পষ্টতা ও অনির্দিষ্টতা বর্জন করার মাধ্যমে সঠিক অনুমান গঠনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া। সে ক্ষেত্রে একমাত্র সংজ্ঞাই শব্দের মধ্যকার দুর্বোধ্যতাকে দূর করার মাধ্যমে পদের অর্থকে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করতে সাহায্য করে। কাজেই চিন্তা বা অনুমানের যথার্থতা প্রতিপাদনের জন্য সংজ্ঞা সম্পর্কিত জ্ঞান অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
চার : সাধারণত অজ্ঞতার কারণে আমরা অনেক সময় দুটি বিষয়ের মধ্যকার সাদৃশ্যের ভিত্তিতে এদের একটিকে অন্যটির অনুরূপ বলে মনে করি; যেমন: উড়তে পারার সাদৃশ্যের ভিত্তিতে বাদুড়কে পাখি মনে করি বা জলজ প্রাণী হিসেবে তিমিকে মাছ মনে করি। যদিও তা সঠিক নয়। বস্তুত পাখি বা মাছ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাবে এরূপ ভ্রান্তির উদ্ভব ঘটে। সে ক্ষেত্রে পাখি ও মাছের সঠিক সংজ্ঞাই পারে এ ধরনের সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের মধ্যকার ভিন্নতা প্রদর্শনের মাধ্যমে বাদুড় ও তিমির যথার্থ স্বরূপ তুলে ধরতে। আর এরূপ ক্ষেত্রেই সংজ্ঞার জ্ঞান অপরিহার্য।
পাঁচ: এমন অনেক পদ আছে, যেগুলো একই সাথে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ ধারণ করে। এ জাতীয় পদ যখন একাধিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন অর্থের ভিন্নতার কারণে বাক্যগুলো বিভিন্নরূপ ধারণ করে, যা সঠিক চিন্তার অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। আর এরূপ ক্ষেত্রে একমাত্র সংজ্ঞাই পারে পদের মধ্যকার এ জাতীয় দ্ব্যর্থকতা দূর করতে, যা যথার্থ অনুমানের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
ছয় : যেকোনো বিষয়ের বিজ্ঞানসম্মত গবেষণার শুরুতে তার একটা কার্যকর সংজ্ঞা প্রদান করা একান্ত প্রয়োজন। এ জন্যই অ্যারিস্টটল বলেছেন, 'সংজ্ঞাই হচ্ছে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের আদি ও অন্ত।' কাজেই বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজনেই সংজ্ঞার জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
সাত : জাগতিক বিষয়াবলি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান পেতে হলে সেগুলো যথাযথভাবে বিন্যস্ত করতে হয়। আর এ বিভাজন বা শ্রেণিবিন্যস্তকরণ প্রক্রিয়াকে সঠিক করতে পারে একমাত্র সংজ্ঞা। অর্থাৎ কেবল প্রতিটি বিষয়ের সংজ্ঞা প্রদানের মাধ্যমেই জাগতিক বিষয়াবলিকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করে সেগুলো সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব। কাজেই এরূপ ক্ষেত্রে সংজ্ঞার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।