1 Answers

উদ্দীপকে উল্লিখিত জুলির দেওয়া দ্বিতীয় সংজ্ঞাটিকে সুমাইয়ার 'অতিব্যাপক সংজ্ঞা' বলার কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- যৌক্তিক সংজ্ঞার একটি অন্যতম ভ্রান্তরূপ হচ্ছে 'অতিব্যাপক সংজ্ঞা', যার উদ্ভব ঘটে সংজ্ঞার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মের লঙ্ঘন থেকে। এ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পদের সংজ্ঞাদানের ক্ষেত্রে সেই পদের সংজ্ঞেয় ও সংজ্ঞার্থের ব্যক্তর্থকে সমপরিমাণ হতে হবে, কম বা বেশি হতে পারবে না। কিন্তু কোনো পদের সংজ্ঞাদানের ক্ষেত্রে যদি সংশ্লিষ্ট পদের আজ ব্যক্তর্থের চেয়ে বেশি ব্যক্তর্থযুক্ত পদ ব্যবহার করা হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে 'অতিব্যাপক সংজ্ঞা' নামক ত্রুটিপূর্ণ সংজ্ঞার উদ্ভব ঘটে।

এরূপ ক্ষেত্রে সংজ্ঞেয়ের ব্যক্তর্থের চেয়ে সংজ্ঞার্থের ব্যক্তর্থ বেশি থাকে। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে সংজ্ঞেয় ও সংজ্ঞার্থ সমপরিমাণ হয় না, বরং সংজ্ঞার্থে সংজ্ঞেয়ের চেয়ে অতিরিক্ত পরিমাণ বিষয় বা বস্তুর উল্লেখ থাকে। যেমন: “মানুষ হয় প্রাণী", এ সংজ্ঞা অনুযায়ী, মানুষ প্রাণী হলেও মানুষ ছাড়া আরও অনেক প্রাণী আছে, যেমন: গরু, ছাগল, কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি। সে ক্ষেত্রে মানুষের এ সংজ্ঞাটি এসব প্রাণীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়। অর্থাৎ এসব প্রাণীও মানুষের উপরিউক্ত সংজ্ঞাটির অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে। বস্তুত মানুষ ও প্রাণীর ব্যক্তর্থ সমপরিমাণ নয়, বরং মানুষের চেয়ে প্রাণীর ব্যক্তর্থ বেশি। কাজেই 'প্রাণী' দ্বারা মানুষকে সংজ্ঞায়িত করায় আলোচ্য সংজ্ঞাটি অতিব্যাপক সংজ্ঞায় পরিণত হয়েছে। সুতরাং যথার্থ সংজ্ঞা প্রণয়নের ক্ষেত্রে ভ্রান্তি এড়ানোর জন্য কোনো পদের সংজ্ঞায় কোনোভাবেই তার চেয়ে বেশি ব্যক্তর্থযুক্ত পদ ব্যবহার করা যাবে না। অবশ্যই এ ক্ষেত্রে সংজ্ঞেয় ও সংজ্ঞার্থের ব্যক্তর্থকে সমপরিমাণ হতে হবে।

উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, সংজ্ঞেয়ের ব্যক্তর্থের চেয়ে সংজ্ঞার্থের ব্যকুর্থ বেশি হওয়ার কারণে জুলির দেওয়া দ্বিতীয় সংজ্ঞাটিকে সুমাইয়া অতিব্যাপক সংজ্ঞা বলেছেন।

6 views

Related Questions