1 Answers

সদর্থক যুক্তিবাক্যে শ্রেণিবাচক বিধেয় পদের সাথে উদ্দেশ্যের সম্ভাব্য বিবিধ সম্পর্কই হচ্ছে বিধেয়ক। আর এ বিধেয়কের পাঁচটি রূপের মধ্যে অন্যতম দুটি রূপ হচ্ছে লক্ষণ ও উপলক্ষণ।

লক্ষণ : যে গুণ একই জাতির অন্তর্গত একটি উপজাতিকে অন্যান্য উপজাতি থেকে পৃথক করে, তাকে 'লক্ষণ' বলে। এ গুণ জাত্যর্থ বা জাত্যর্থের অংশ। কাজেই কোনো যুক্তিবাক্যে বিধেয় উদ্দেশ্যের এরূপ গুণ প্রকাশক হলে উদ্দেশ্যের সাথে সম্বন্ধের দিক থেকে বিধেয়টি হবে লক্ষণ। এটি হলো কোনো উপজাতির তার নিকটতম জাতির জাত্যর্থের অতিরিক্ত গুণ। যেমন- 'মানুষ' উপজাতির নিকটতম জাতি 'জীব'-এর জাত্যর্থ 'জীববৃত্তি'র অতিরিক্ত গুণ 'বুদ্ধিবৃত্তি' হচ্ছে মানুষ পদের লক্ষণ, যা তাকে জীবের অন্তর্গত তার অন্যান্য সমজাতীয় বা সহযোগী উপজাতি, যেমন- গরু, ঘোড়া ইত্যাদি জীব থেকে পৃথক করেছে। কাজেই 'মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব'- এ বাক্যে বিধেয় 'বুদ্ধিবৃত্তি' গুণটি হচ্ছে উদ্দেশ্য 'মানুষ'-এর সাথে সম্বন্ধের দিক থেকে লক্ষণ নামক বিধেয়ক।

উপলক্ষণ: যে গুণ জাত্যর্থ বা জাত্যর্থের অংশ নয় কিন্তু জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়, তাকে উপলক্ষণ বলে। কাজেই যুক্তিবাক্যে বিধেয় উদ্দেশ্যের এরূপ গুণ প্রকাশক হলে উদ্দেশ্যের সাথে সম্বন্ধের দিক থেকে বিধেয়টি হবে উপলক্ষণ। যেমন- মানুষের 'মরণশীলতা' বা 'বিচারক্ষমতা' হচ্ছে উপলক্ষণ। কারণ এ গুণ দুটি যথাক্রমে মানুষের জাত্যর্থ 'জীববৃত্তি' ও 'বুদ্ধিবৃত্তি' থেকে নিঃসৃত। উপলক্ষণ আবার জাতিগত ও'উপজাতিগত- এ দু'ধরনের হয়ে থাকে।

পরিশেষে বলা যায়, লক্ষণ ও উপলক্ষণ উভয়ই জাত্যর্থের সাথে জড়িত বিধায় আপাতদৃষ্টিতে এরা ভিন্ন হলেও প্রকৃতপক্ষে উভয়ই পরস্পর সম্পর্কিত।

5 views

Related Questions