1 Answers

ব্যবসায় ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে নৈতিকতার অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যদি নীতি-নৈতিকতার চর্চা বা অনুশীলন না থাকে তাহলে সমগ্র ব্যবসা-বাণিজ্যে অনৈতিক কার্যকলাপ, ঘুষ নেওয়া, স্বজনপ্রীতি অত্যধিক পরিমাণে বেড়ে যাবে। সাধারণ জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে। সমগ্র ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। সকল ব্যবসা ও পেশার ক্ষেত্রে দেখা যাবে অর্থকে কেন্দ্র করে সকল কার্যকলাপ পরিচালিত হবে।

এমনকি মুনাফা বাড়ানোর জন্য শ্রমিকদের কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য করানো হবে, কাজের পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠবে। মালিকের স্বার্থই বড় হয়ে যাবে উপেক্ষিত হবে সাধারণ শ্রমিকের ন্যূনতম খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার জন্য মজুরির দাবি। আবার পেশাগত দায়িত্ব পালন যদি সঠিকভাবে না করা হয় অর্থাৎ যিনি সে দায়িত্বে আসীন তিনি সেই পদের জন্য নির্ধারিত যথোপযুক্ত দায়িত্ব পালন না করেন তাহলে বিশৃঙ্খল সৃষ্টি হবে এবং চরম অশান্তি বিরাজ করবে। মানুষের নৈতিক অধঃপতনের কারণেই এখন অসাধু ব্যবসায়ীরা ফরমালিনযুক্ত মাছ, ফল প্রভৃতি বাজারজাত করছেন। যার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। জার্মান বিচারবাদী দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য' করার কথা বলেছেন। প্রতিষ্ঠান যদি কোনো ব্যক্তির পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য মঙ্গলসূচক কোনো কর্মকান্ড করে তাহলে ঐ ব্যক্তির জন্য শর্তহীনভাবে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কর্তব্য পালন করার বাধ্যবাধকতা এসে দাঁড়ায়। সেজন্য যৌক্তিকতা ও নৈতিকতাকে যখন ব্যবসায় ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে অনুসরণ করা হবে তখনই মানবসমাজে উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

6 views

Related Questions