1 Answers
আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠিত হয় একটি আদর্শকে মানদণ্ড করে। এই মানদণ্ড হলো সত্যের মানদণ্ড। যা ব্যবহারিক জীবনে প্রয়োগযোগ্য। যুক্তিবিদ্যাকে অবশ্যই উদ্দীপকের আলোকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা যৌক্তিক। যুক্তিবিদ্যা সত্যের আদর্শকে সামনে রেখে বৈধ যুক্তিপদ্ধতির নিয়মাবলি আবিষ্কার করে এবং তাদের মূল্য নিরূপণ করে। আমরা কীভাবে চিন্তা করি বা অনুমান করি সেটি নির্ণয় করা যুক্তিবিদ্যার কাজ নয়, বরং কীভাবে অনুমান করলে ভুল পরিহার বা বর্জন করা যায় এবং সত্যকে অর্জন করা যায়, তা হলো যুক্তিবিদ্যার কাজ। সত্যকে আবিষ্কার ও অনুসন্ধান করার জন্য যুক্তিপ্রক্রিয়া বা যুক্তিপদ্ধতি কী রকম হবে, কী ধরনের হবে সেটিই হলো যুক্তিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়। সুতরাং, যুক্তিবিদ্যা হলো একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান, যে বিজ্ঞান কোনো আদর্শ বিবেচনা না করে কেবল বাস্তবক্ষেত্রে কোনো ঘটনা যেমন আছে তেমনভাবেই বর্ণনা করে, তাকে বর্ণনামূলক বিজ্ঞান বলে। যেমন- 'মনোবিজ্ঞান' (Psychology) হলো বর্ণনামূলক বিজ্ঞান। অন্যদিকে যে বিজ্ঞানের একটি আদর্শ (norms) আছে তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলে। সেদিক থেকে যুক্তিবিদ্যা হলো আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান। কারণ সত্যের আদর্শের ভিত্তিতে যুক্তিবিদ্যা তার নিয়মাবলিকে আবিষ্কার করে বাস্তব ক্ষেত্রে মানুষের 'সমাজ' ও 'ব্যবহারিক জীবনে' প্রয়োগ বা অনুশীলন করার শিক্ষা দেয়। এজন্য সার্বিক বিশ্লেষণে আমরা যুক্তিবিদ্যাকে 'আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান' (Normative Science) বলে আখ্যায়িত করতে পারি।