1 Answers

বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব হিসাবে মানুষ মাত্রই চিন্তাশীল এবং জ্ঞানার্জনে ব্রতী। জ্ঞানের এই তৃষ্ণা মেটাতে সুবিচার চিন্তাকে বিবেচনা করে গড়ে উঠেছে যুক্তিবিদ্যা। যথার্থ সত্য জ্ঞান অর্জনই যুক্তিবিদ্যার মূল উদ্দেশ্য। যুক্তিবিদ্যা আদর্শনিষ্ঠ না বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞান তা মূল্যায়ন করার পূর্বে এ দুটির স্বরূপ জানা দরকার। যে বিজ্ঞান কোনো আদর্শের নির্দেশ না করে প্রকৃতির কোনো ঘটনা বা বস্তুর বাস্তব আলোচনা করে বা বর্ণনা দেয় তাকে বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলে। যেমন: পদার্থবিদ্যা পদার্থের উৎপত্তি, বিকাশ, ও প্রকৃতি সম্পর্কে জ্ঞান দান করে। অন্যদিকেও যে বিজ্ঞান কোনো আদর্শের আলোকে কোনো বিষয় বা ঘটনা আসলে কি রকম হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করে তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলে। এ বিজ্ঞানে কোনো একটি আদর্শকে মাপকাঠি হিসাবে গ্রহণ করে বিষয়বস্তুর মূল্য বিচার করে। যেমন: নীতিবিজ্ঞান একটি আদর্শমূলক বিজ্ঞান। নীতিবিজ্ঞানে একটি নৈতিক আদর্শের ভিত্তিতে আমাদের কাজকর্ম, আচার-ব্যবহার কেমন হওয়া উচিত তা নির্দেশ করে। এককথায়, আদর্শমূলক বিজ্ঞান হলো সেই বিজ্ঞান যার বিষয়বস্তু অনুসারে একটি বিশেষ আদর্শের নীতি স্থাপন করে এবং সেই আদর্শের মাপকাঠিতে বস্তু বা ঘটনার মূল্য নিরূপণ করে।

তাই যুক্তিবিদ্যাকে বস্তুনিষ্ঠ নয় বরং আদর্শমূলক বিজ্ঞান বলাই সমীচীন। কারণ যুক্তিবিদ্যা সর্বক্ষেত্রে সত্যের আদর্শকে সামনে রেখে তার নিয়মসমূহকে পরিচালনা করে থাকে। অর্থাৎ আমাদের কীভাবে চিন্তা করা উচিত এবং কীভাবে চিন্তা করলে আমরা মিথ্যাকে পরিহার করে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে পারব- এটাই হচ্ছে যুক্তিবিদ্যার প্রধান আলোচ্য।

6 views

Related Questions