1 Answers
উক্ত বিষয় বলতে যুক্তিবিদ্যাকে বোঝানো হয়েছে। এ সম্পর্কে ভাববাদী যুক্তিবিদ এইচ. ডব্লিউ. বি জোসেফ তাঁর 'An Introduction to Logic' গ্রন্থে যুক্তিবিদ্যাকে 'চিন্তার বিজ্ঞান' হিসাবে সংজ্ঞায়িত করার মধ্য দিয়ে যুক্তিবিদ্যা সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব ধারণা ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, চিন্তার বিষয় ও চিন্তার আকারকে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। আর এ কারণেই যুক্তিবিদ্যাকে চিন্তার আকারের মূল সূত্রাবলির বিজ্ঞান হিসাবে সংজ্ঞায়িত না করে চিন্তার বিজ্ঞান হিসাবে আখ্যায়িত করাই শ্রেয়। তাঁর মতে, যুক্তিবিদ্যা আকারগত ও বস্তুগত উভয়ই। যে বিষয়াবলিকে কেন্দ্র করে চিন্তার উদ্ভদ্ধ হয়, সেগুলোকে নির্দেশ না করে কেবল চিন্তার আকারকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করে চিন্তার মূলসূত্র আবিষ্কার করা সম্ভব নয়। সুতরাং, বিষয়কে বাদ দিয়ে কোনোভাবেই আকারকে পাওয়া সম্ভব নয়। কাজেই সার্বিক বিশ্লেষণে যুক্তিবিদ্যাকে কেবল আকারগত বিজ্ঞান না বলে একই সাথে আকারগত ও বস্তুগত বিজ্ঞান বলাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত। অন্যদিকে আই.এম. কপি তাঁর 'Introduction to Logic' গ্রন্থে বলেন, যুক্তিবিদ্যা অধ্যয়ন হচ্ছে সেই নীতি ও পদ্ধতিসমূহের অনুশীলন, যা মন্দ (অশুদ্ধ) যুক্তি থেকে ভালো (শুদ্ধ) যুক্তিকে পৃথক করে। তবে এ কথা বলা যায় না যে, যুক্তিবিদ্যা অধ্যয়ন করেছে এমন ছাত্ররাই কেবল ভালোভাবে বা সঠিক উপায়ে যুক্তি প্রদর্শন করবে। কিন্তু এ কথা অনস্বীকার্য যে, দুজন সমান বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন ব্যক্তির মধ্যে যিনি যুক্তিবিদ্যা অধ্যয়ন করেননি এবং চিন্তার নিয়মাবলি সম্পর্কে জ্ঞাত নন তার তুলনায় যিনি যুক্তিবিদ্যা অধ্যয়ন করেছেন তিনি অধিকতর সঠিক যুক্তি প্রদান করতে পারবেন। কপির সংজ্ঞার মধ্যদিয়ে যুক্তিবিদ্যার তাত্ত্বিক দিকটি পরিস্ফুটিত হলেও তিনি মূলত এর ব্যবহারিক দিকের উপরই অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।