1 Answers
মিঃ ফয়েজ আলী ফুল চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তার এ কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে গ্রামের অধিকাংশ কৃষক ফুল চাষের প্রতি ঝুঁকেছেন। এদিক থেকে সবুজ মিয়ার কর্মকাণ্ড তার গ্রাম তথা দেশের আর্থিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে বলা যায়।
ফুল চাষে বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ দেশের জমি ও আবহাওয়া ফুল চাষের উপযোগী। বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ২৪টি জেলার প্রায় ১২ হাজার একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হচ্ছে। ফুল চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ লাখ মানুষ জড়িত। এক বিঘা জমিতে ধান চাষে লাভের পরিমাণ মাত্র ১৪-১৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে, এক মৌসুমে এক বিঘা জমিতে গাঁদা ফুল চাষে নিট লাভ হয় ৩৫-৪০ হাজার টাকা, গ্লাডিওলাসে ৩০- ৩৫ হাজার টাকা, রজনীগন্ধায় ৪০-৪৫ হাজার টাকা এবং চন্দ্রমল্লিকায় লাভ হয় ৬০-৭০ হাজার টাকা। গোলাপ ফুল চাষের ক্ষেত্রে ৩-৪ বছরে লাভ হয় ৩-৪ লাখ টাকা আর জারবেরা চাষে এই লাভের পরিমাণ ৩-৪ বছরে প্রায় ৯-১০ লাখ টাকা। বেশিরভাগ ফসলই বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়েই চাষ করা যায়। অন্যদিকে কিছু কিছু ফুল বছরের যেকোন সময়ই চাষ করা যায়, যেমন- রজনীগন্ধা। ফুলের রপ্তানি আয়ও উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশে রপ্তানি পণ্যের তালিকায় কাঁচা ফুলের নাম উঠে এসেছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত কাঁচা ফুল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এসব ফুল মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ব্রিটেন, পাকিস্তান, ভারত, ইতালি, কানাডা, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সে রপ্তানি করা হচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কাঁচাফুল রপ্তানি করে আমাদের দেশে আয় হয় ১০০ কোটি টাকারও বেশি। প্রতি বছরই এই আয়ের পরিমাণ বাড়ছে। সবুজ মিয়ার অনুকরণে দেশের বেকার যুবক-যুবতিরা ফুল চাষে এগিয়ে এলে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের রাজস্ব ও রপ্তানি আয় বাড়াতে সহায়ক হবে। অতএব বলা যায়, সবুজ মিয়ার কর্মকাণ্ডটি উৎসাহ প্রদানকারী ও প্রশংসার দাবিদার।